কটিয়াদিতে আওয়ামী লীগের প্রভাবে প্রতারণার মাধ্যমে গভীর নলকূপ দখলের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৫০ বছর ধরে বৈধভাবে ব্যবহৃত একটি গভীর নলকূপ দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
লিখিত অভিযোগ ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা যায়, কটিয়াদি উপজেলার বনগ্রাম এলাকার নওয়াপাড়া (কুড়িয়াপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা আলম পাহাড়ীর ছেলে ইমাম হোসেন ১৯৭৯ সালের ১৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহের অধীনে কিশোরগঞ্জ জোনের সহকারী প্রকৌশলী (বিএডিসি) মো. আজিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে একটি গভীর নলকূপ (সেচ) ব্যবহারের অনুমতি পান।
বিএডিসি কর্তৃক বরাদ্দপ্রাপ্ত উক্ত গভীর নলকূপটি ক-৪৭, দাগ নং–২১৪, জোন নং–১০৮, গ্রাম–নওয়াপাড়া, উপজেলা–কটিয়াদি, জেলা–কিশোরগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে ডিজেলচালিত এ গভীর নলকূপটি ইমাম হোসেন ও তাঁর পরিবার বৈধভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ইব্রাহিম ও তাঁর সহযোগীরা এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কথা বলে গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা ও সাদা কাগজে স্টাম্পে স্বাক্ষর নেন। পরে এসব স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে গভীর নলকূপটিকে অকেজো ও পরিত্যক্ত দেখিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে সেটি দখল করে নেন ইব্রাহিম গং।
এ ঘটনায় একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও আওয়ামী লীগের ক্ষমতার প্রভাবে ইব্রাহিম গং গভীর নলকূপটি দখলে রেখে দেন। শুধু তাই নয়, তারা প্রকৃত মালিক ও প্রতিবাদকারীদের জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে ফসল নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানা যায়, ২০১৭ সালে ইমাম হোসেন উক্ত গভীর নলকূপটি এলাকার মোমতাজ ও বিল্লালের কাছে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্টাম্পে লিখিতভাবে হস্তান্তর করেন। কিন্তু ইব্রাহিম গং ভুয়া কাগজ তৈরি করে ২০২০ সাল থেকে নলকূপটি দখলের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইব্রাহিম এর আগেও এক দাগে জমি কিনে অন্য দাগের জমি জোরপূর্বক দখলের ঘটনায় জড়িত ছিলেন, যা নিয়ে গ্রাম্য সালিশও হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীরা প্রথমে কিশোরগঞ্জ জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমদাদ হোসেন রতনের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ইমাম হোসেনের ছেলে বিল্লাল কিশোরগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।










