বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

আপিলে বৈধ হলো কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর মোল্লার মনোনয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
আপিলে বৈধ হলো কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর মোল্লার মনোনয়ন

আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকে কিশোরগঞ্জ জেলহাজতে প্রেরণ

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
আটক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকে কিশোরগঞ্জ জেলহাজতে প্রেরণ

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পাঁচ নেতাকে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী এলাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে আটক করেছে কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আটককৃতদের বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলা জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন— কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সম্রাট আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক মো. রনি খান শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান রাকিব, সামাদ উল্লাহ এবং পাকুন্দিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তুহিন।

পুলিশ জানায়, তারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আনন্দভ্রমণের পাশাপাশি গোপন মিটিং করছিলেন— এমন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মহেশখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

মঙ্গলবার রাতেই খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম কক্সবাজারে যায়। পরে বুধবার রাতে আটককৃতদের কটিয়াদী মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কিশোরগঞ্জ জেলা জেলহাজতে পাঠানো হয়।

আরও জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরে কটিয়াদী উপজেলা কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটির পদধারীরা পদ পাওয়ার পর কক্সবাজারে অবস্থান করছিলেন।

কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান জানান, আটককৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে কটিয়াদী মডেল থানা ও কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তাড়াইলে আর্মির ক্যাম্প কর্তৃক যৌথবাহিনীর অভিযানে ৬১ পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার

হুমায়ুন রশিদ জুয়েল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে আর্মির ক্যাম্প কর্তৃক যৌথবাহিনীর অভিযানে ৬১ পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারি গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৬১ পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার পংপাচিহা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে আসাদ মিয়া এবং সহিলাটি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আল-আমিন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকদ্রব্য ইয়াবা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথবাহিনীর একটি টিম তাড়াইল থানার সহযোগিতায় গভীর রাতে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৬১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। যৌথবাহিনীর অভিযানে তাদের আটক হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এ বিষয়ে তাড়াইল থানার ওসি জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘যৌথবাহিনীর অভিযানে ৬১ পিস ইয়াবাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের কোর্টে প্রেরণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি তাড়াইল থানা ওসি জালাল উদ্দিন যোগদানের পর থেকে পাশাপাশি তাড়াইল সেনা ক্যাম্পে দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনী তৎপরতায়  তাড়াইল উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর তৎপরতায় একের পর এক মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

হাদি হত্যা মামলা: ডিবির চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
হাদি হত্যা মামলা: ডিবির চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ডিবি পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে তিনি এ আবেদন দাখিল করেন।

বাদীপক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা কেবল দায়সারা তদন্ত শেষে চার্জশিট দিয়েছেন। এতে মূল হত্যার পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে শুটারদের সম্পর্ক স্পষ্ট করা হয়নি। তাঁর দাবি, হাদি সাধারণ কেউ ছিলেন না; তাকে হত্যার পেছনে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল। প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল—ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যেন আর কেউ কথা বলার সাহস না পায়।

তিনি আরও বলেন, চার্জশিটে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পক্ষে এমন ঘটনার নেতৃত্ব দেওয়া বাস্তবসম্মত নয়। চার্জশিটে শুধু ফয়সালকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং একটি চেক জব্দের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, যা তদন্তের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার পর আসামিরা কীভাবে নিরাপদে পালাল এবং পরিকল্পনাকারীরা কীভাবে সহযোগিতা করেছে—এসব বিষয় চার্জশিটে অনুপস্থিত।

আইনজীবী বলেন, শরীফ ওসমান হাদি ন্যায়বিচারের কথা বলতেন, তাই তাঁর হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এই নারাজি আবেদন করা হয়েছে। আদালত বিষয়টি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে ১২ জানুয়ারি মামলার বাদী আদালতে হাজির হয়ে চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সময় নেন। বৃহস্পতিবার আদালত চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন।

চার্জশিটে পলাতক ছয় আসামির মধ্যে রয়েছেন—ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ, তার সহযোগী আলমগীর হোসেন, সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার। বাকি ১১ আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে শরীফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। মাথা ও ডান কানের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন।

প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়, যা পরে হত্যার মামলায় রূপান্তর করা হয়।