দলীয় বনাম আদর্শিক বনাম স্বতন্ত্র—কিশোরগঞ্জ–২ এ জমজমাট লড়াই
কিশোরগঞ্জ–২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিক পরিচিত ও প্রভাবশালী প্রার্থীর অংশগ্রহণে এবার এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী ও রাজনীতিক হিসেবে তিনি এলাকায় সুপরিচিত। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তাঁর প্রতি ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংকও তাঁর পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ১০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. শফিকুল ইসলাম মোড়ল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে জামায়াতের নেতাকর্মীরা জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা আদর্শিক ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে এ আসনের সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনিসুজ্জামান (খোকন)। তিনি ময়ূর প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি একজন প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতা হিসেবে পরিচিত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কটিয়াদী উপজেলায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর নির্বাচনী মাঠে প্রত্যাবর্তন ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তাঁর অতীত অভিজ্ঞতা, এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় প্রতীক, আদর্শিক রাজনীতি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা—এই তিনটি উপাদান মিলিয়ে কিশোরগঞ্জ–২ আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভোটের সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রচারণার তৎপরতাও তত বাড়ছে। কিশোরগঞ্জ–২ আসনে শেষ পর্যন্ত কার হাতে বিজয় ধরা দেবে—সে অপেক্ষায় এখন পুরো জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।




