তাড়াইলে সেনা-পুলিশের যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অস্ত্রসহ যুবক আটক
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে তার কাছ থেকে পাইপগান, গুলি, চাপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) ভোর রাত ৩টা পর্যন্ত তাড়াইল উপজেলার দিকদার ইউনিয়নের সেরুয়াকান্দা এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। করিমগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের একটি টহল দল এবং করিমগঞ্জ থানার পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী অভিযানটি পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের মেজর মোমেন হাসনাঈন নূর গালিব। সেনা ও পুলিশের যৌথ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে।
আটক ব্যক্তি মো. ফারুক হোসেন (২৭) তাড়াইল উপজেলার দেহুন্দা ডাকঘরের অন্তর্গত সেরুয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মৃত রাশিদ হোসেন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়, যা স্থানীয়ভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দেয়।
অভিযানে উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে— দুটি পাইপগান, দুটি গুলি, দুটি রানদা, তিনটি কিরিচ, নয়টি ছুরি, একটি সুইচ গিয়ার ছুরি, একটি চাইনিজ চাপাতি, দুটি দেশীয় চাপাতি, একটি হকস্টিক, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং দুটি পাসপোর্ট। উদ্ধারকৃত এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি অস্ত্র সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য করিমগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
এই যৌথ অভিযানকে স্থানীয়ভাবে স্বস্তির সঙ্গে দেখছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, সম্প্রতি এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল, এই অভিযানের ফলে জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।




