মাছ শিকার আর আনন্দে ভরা হাওড়ের পলো বাওয়া উৎসব
কিশোরগঞ্জের হাওড় অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হলো ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখোলা ফেরিঘাট এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত সৌখিন পলো শিকারীর অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।
দূর-দূরান্ত থেকে দলবদ্ধভাবে অংশ নেওয়া পলো শিকারীরা জানান, বাপ-দাদার সময় থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে নিয়মিত এ উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। প্রতিবছরই তারা এই উৎসবে যোগ দেন বলে জানান।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে কয়েকশ’ পলো শিকারী মিঠামইন উপজেলার ফুনফুনি বিল ও লাউডর বিলে মাছ শিকারে বের হন। দিনভর পলো দিয়ে গজারশোল, বোয়াল, রুই, কাতলা, মৃগেল, আইড় ও চিতলসহ নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে।
পলো উৎসব মানেই শুধু মাছ ধরা নয়—নৌকায় যাতায়াতের সময়টাও থাকে আনন্দে ভরপুর। সকালের নাস্তা কিংবা দুপুরের খাবারের আয়োজনও করা হয় নৌকার মধ্যেই।
স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে হাওরের পানি কমে গেলে দেশীয় মাছ কম পানিতে আশ্রয় নেয়। এ সময় পলো দিয়ে মাছ ধরার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। তাই প্রতিবছর দুই মাস ধরে প্রতি শনিবার ও বুধবার দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌখিন পলো শিকারীরা বালিখোলা ফেরিঘাটে জড়ো হন।
তবে অনেক পলো শিকারী জানান, আগের মতো আনন্দ এখন আর পাওয়া যায় না। হাওর ও জলাশয়ের বড় অংশ ইজারা দেওয়ায় মাছের পরিমাণ কমে গেছে। পাশাপাশি কারেন্ট জাল, রিং জাল ও বিষ প্রয়োগে মাছের সঙ্গে সঙ্গে হাওরের জীববৈচিত্র্যও ধ্বংস হচ্ছে।
উৎসবের দিন বিকেলের দিকে হাওরের বুক থেকে ফিরতে শুরু করে নৌকাগুলো। হাতে মাছ, মনে আনন্দ আর চোখে ক্লান্তির ছাপ নিয়ে ঘরে ফেরেন উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষজন। হাওরের জল পেছনে ফেলে তারা সঙ্গে করে নিয়ে যান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা এক ঐতিহ্যের গল্প।




