পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
শুভেচ্ছা বিনিময়ের এক পর্যায়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। শহীদের মা ফাতেমাতুজ জহুরা এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত ছোট ভাই মাহমুদুল্লাহ বিন জাহিদ (জিসান) এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন এবং পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। বিশেষ করে অসুস্থ মাহমুদুল্লাহর চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক আচরণে শহীদ পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে আবেগাপ্লুত হন।
উল্লেখ্য, ‘২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুথ্যানে ৫ আগস্ট ঢাকার উত্তরা এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আবদুল্লাহ বিন জাহিদ, যিনি রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে একটি সুখী পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।
পরবর্তীতে সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই পরিবারটি আরও এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। ছোট ছেলে মাহমুদুল্লাহ বিন জাহিদ কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় এবং বর্তমানে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) তার চিকিৎসা চলছে। এরই মধ্যে পিতা জাহিদুল ইসলাম সোহরাব হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাহমুদুল্লাহর চিকিৎসা ব্যয়ের একটি বড় অংশ সরকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) ও শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় বহন করা হচ্ছে। শহীদের মা ফাতেমাতুজ জহুরা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটি তার তৃতীয় সাক্ষাৎ। পূর্বেও তিনি তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন এবং স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ঈদের এই সৌজন্য সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের খোঁজখবর নেন এবং অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির এই আয়োজনের মধ্যেই একটি শোকাহত পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রীর দাঁড়িয়ে থাকার ঘটনাটি উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর মানবিক অনুভূতির সৃষ্টি করে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।