ভৈরবে রিচার্জ কার্ড আনতে গিয়ে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বাবার জন্য মোবাইল রিচার্জ কার্ড আনতে গিয়ে ইমন (১৭) নামের এক কিশোরকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৩ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন ওই গ্রামের পাগলা বাড়ির ইসা মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গিয়ে নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, লুন্দিয়া গ্রামের পাগলা বাড়ি ও শেখ বাড়ির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর ইমনকে তার বাবা মোবাইল রিচার্জ কার্ড আনতে দোকানে পাঠান। ফেরার পথে শেখ বাড়ির কয়েকজনের সঙ্গে তার সামান্য ধাক্কাধাক্কি ও কথা কাটাকাটি হয়।
এরই জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন ইমনকে বেধড়ক মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পিতা ইসা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “আমার ছেলেকে বাড়ি ফেরার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন পিটিয়ে ও দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।”
নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ মানুষের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক উম্মে হাবিবা জুঁই জানান, “রাত ১১টার দিকে ইমন নামে এক কিশোরকে গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করার প্রস্তুতির মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।”
ভৈরব থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব বিন ইসলাম বলেন, “নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”




