রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ ১৪৩২
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ ১৪৩২

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লেও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়বে না: সরকারের ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লেও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়বে না: সরকারের ব্যাখ্যা

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়লে অন্তর্বর্তী সরকার আরও ছয় মাস ক্ষমতায় থাকবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে ভিত্তিহীন হিসেবে খারিজ করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার(২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, গণভোটের ফল ‘হ্যাঁ’ হলে ইউনূস সরকার ছয় মাস পরে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই দাবির সঙ্গে ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই ফটোকার্ডে শিরোনাম ছিল—“নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যরা ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবেন: আলী রীয়াজ।”

সংশ্লিষ্ট বিষয় ব্যাখ্যা করে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ কখনো বলেননি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন গণপরিষদ হিসেবে কাজ করবে। বরং তিনি বলেছেন, নির্বাচিত সদস্যরা প্রথম দিন থেকেই সংসদ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সরকার গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বাজেট প্রণয়ন করবে।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও উল্লেখ করেন, সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের পথ থেকে সরাতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। সেজন্য নির্বাচিত সদস্যরা আলাদা শপথ নিয়ে ১৮০ দিনের মধ্যে সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সাংবিধানিক সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেলে সংসদের একটি দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। অর্থাৎ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের সদস্য এবং সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

আদেশের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্নের পক্ষে (‘হ্যাঁ’) ভোট বেশি পড়লে, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদ প্রথম বৈঠকের দিন থেকে ১৮০ কর্মদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের ফল অনুযায়ী সংস্কার কাজ শেষ করবে। এরপর পরিষদের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে।

সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে সংসদ সদস্যরা একদিকে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন, অন্যদিকে সাংবিধানিক সংস্কারের ক্ষমতাও প্রয়োগ করবেন। তবে কোথাও বলা নেই যে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮০ দিন ক্ষমতায় থাকবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সাংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার অবসান ঘটবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

শেষে সরকার জানিয়েছে, প্রচলিত আদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ বাড়ানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং এতে স্পষ্টভাবে সংসদের দ্বৈত ভূমিকার কথাই উল্লেখ রয়েছে।

শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় হোসেনপুরে ঈদের প্রধান জামাত

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় হোসেনপুরে ঈদের প্রধান জামাত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।

জামাতে অংশ নেন হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, শিল্পপতি ও জননেতা জহিরুল ইসলাম মবিন। তিনি সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে উপস্থিত সবার সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এবারের ঈদের নামাজে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জর ঐতিহাসিক জামিয়া ইমদাদিয়ার প্রধান মুফতি হযরত মাওলানা মুফতি ওমর সাহেব। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খান, হোসেনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে এম রফিকুল ইসলাম সফিক, বিএনপি নেতা সাদ্দাম হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাজীব আহমেদ পিয়াস প্রমুখ।

উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ধস: নদীতে পড়ে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ ২

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ধস: নদীতে পড়ে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ ২

সংগ্রহীত

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মিত একটি ভাসমান ড্রাম ব্রিজ ভেঙে শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে গেলে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঈদের আনন্দমুখর মুহূর্তেই দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে ঈদের দিন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ওই স্থানে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এবারও ঈদের দিন বিকেলে সেখানে প্রচুর মানুষ জড়ো হন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে হঠাৎ ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। এ সময় ব্রিজে থাকা শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান।

তাদের মধ্যে অনেকেই সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কয়েকজন শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন শিশুর মৃত্যু হয় এবং আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।

হোসেনপুরের পুমদীতে ডাহরা গোলপুকুর পাড়ে ৮০তম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের পুমদীতে ডাহরা গোলপুকুর পাড়ে ৮০তম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ডাহরা গোলপুকুর পাড় ঈদগাহ মাঠে ৮০তম বৃহৎ ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের পরেই এই ঈদগাহ মাঠটি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ মাঠ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এখানে একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

উক্ত জামাতে ইমামতি করেন মো. আ. কাইরুম (মামুন হুজুর)। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত ছিলেন এলাকার কৃতী সন্তান ও বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. শওকত আকবরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ঈদের এই বৃহৎ জামাতকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়।