বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

‘নোয়াখালী যেন গরিবের বউ, সবার ভাবি’—১১ দলীয় জোটের জনসভায় হান্নান মাসউদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘নোয়াখালী যেন গরিবের বউ, সবার ভাবি’—১১ দলীয় জোটের জনসভায় হান্নান মাসউদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, “নোয়াখালী যেন গরিবের বউ—সবার ভাবি। এখানকার জমি সন্দ্বীপ, ভোলা ও কুমিল্লার লোকজন ছিনিয়ে নিতে চায়। তা হতে দেওয়া হবে না।”

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে নোয়াখালী জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “প্রাচীন জেলা হিসেবে আমরা নোয়াখালীকে বিভাগ চাই। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “নোয়াখালীর প্রধান সমস্যা নদীভাঙন। জেলার হাতিয়া, সুবর্ণচর, কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট এলাকায় নদীভাঙনে জনপদ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মাইজদী শহরের জলাবদ্ধতায় মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় এলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।”

নোয়াখালীতে ব্লু-ইকোনমি জোন এবং ফিশারিজ ও মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “জামায়াত আমিরকে আমরা বলব—ক্ষমতায় গেলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে।”

বিএনপির প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে এনসিপির এ নেতা বলেন, “১১ দলীয় জোট ঘোষণা করেছে—ক্ষমতায় গেলে ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তখন এসব ফ্যামিলি কার্ড নেওয়ার লোকই থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “একটি দল বিধবা ভাতার কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তারা ক্ষমতায় গেলে এসব কার্ড নেতাদের স্ত্রীদের হাতে যাবে। তারা চায় এ দেশের মানুষ গরিবই থেকে যাক।”

নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ও নোয়াখালী-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছু’ম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম, নোয়াখালী জেলা এনসিপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, নোয়াখালী-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো. ছাইফ উল্লাহ, নোয়াখালী-২ আসনে এনসিপির প্রার্থী সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া এবং নোয়াখালী-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।

ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রাকচাপায় আব্দুস সাদেক (৭০) নামে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দুর্জয়ের মোড় এলাকায় নূরানি মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সাদেক ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শ্রীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি শ্রীনগর ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আটক ট্রাকচালক মো. হেলিম মিয়া (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার চরচারতলা গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরববাজারে কাজ শেষে ভৈরব দুর্জয়ের মোড়ের নূরানি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জের গাইটালে আগুন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ পুড়ল ২ দোকান

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের গাইটালে আগুন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ পুড়ল ২ দোকান

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে যখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ ও দোয়া-ইবাদতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল এলাকায় সংঘটিত হয় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। দমকল বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও দুই ব্যবসায়ীর প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ পৌর এলাকার গাইটাল পুকুরপাড়ে ভূঁইয়া প্লাজার দক্ষিণ পাশে অবস্থিত একটি সেমি-পাকা মার্কেটের মেসার্স মোস্তফা ট্রেডার্স এবং বিসমিল্লাহ ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যার নামক দু’টি দোকানে আগুন লাগে। এতে দু’টি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, একটি মোটরসাইকেলসহ দোকান দু’টির প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে এশার নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও আলোচনা চলাকালীন সময়ে রাস্তায় চলাচলকারী স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বন্ধ থাকা দোকানের ভেতরে আগুনের উপস্থিতি টের পান। সঙ্গে সঙ্গে তারা দোকান মালিক ও ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।

খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোকানের শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ খালিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তাকে স্টেশনে ভেজা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি জানান, ঘটনার সময় দমকল বাহিনীর সদস্যরা নামাজ শেষে নামাজের পোশাকেই ছিলেন। গাইটাল এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত দুটি ইউনিট নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে দুটি দোকানের শাটারের তালা ভেঙে প্রায় ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মেসার্স মোস্তফা ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল কাদির জানান, তার দোকানে একটি নতুন ও একটি পুরাতন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ছিল, যা সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া তার প্রতিবেশী বন্ধু গোলাপের একটি মোটরসাইকেলও আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। দোকানের হিসাব সংক্রান্ত কিছু খাতাও আংশিকভাবে পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।

বিসমিল্লাহ ইলেকট্রিক অ্যান্ড হার্ডওয়্যারের মালিক শরিফুল ইসলাম রুবেল মুঠোফোনে জানান, তার দোকানে থাকা রং, স্যানিটারি পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের লোহার সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এই ঘটনায় তার প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের কেউ কেউ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথা বললেও বাস্তবে মালিকপক্ষ, এলাকাবাসী কিংবা দমকল বাহিনীর কেউই বিষয়টি নিশ্চিত করেননি। জানা যায়, দোকানে কয়েকটি খালি গ্যাস সিলিন্ডার ও ড্রাম ভর্তি টারপিন থাকলেও সেগুলো অক্ষত ছিল।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বরকতময় এই রজনীতে সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড সত্ত্বেও জানমালের কোনো ক্ষতি হয়নি। ঘটনাস্থলের পাশে একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতাল, আবাসিক ভবন ও পাকা মার্কেট থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।

ভৈরবে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় নারী–পুরুষসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মাদককারবারি, সন্দেহভাজন আসামি এবং পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এক আসামি রয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে একই দিন ভোররাত ৩টার দিকে পৌর শহরের পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— পৌর শহরের পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকার ওমর আলীর মেয়ে মনিষা (১৮), একই এলাকার কালা মিয়ার স্ত্রী চায়না বেগম (৬০), মৃত ইসমত মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (৫৪), মৃত আনার মিয়ার ছেলে মুন্না মিয়া (২০), পণ্ডিত মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (৩০), মৃত ইব্রাহীম মিয়ার ছেলে মো. রবিন মিয়া (৫২), রিপন মিয়ার ছেলে শরীফ মিয়া (৩০), মোহাম্মদ আলীর ছেলে উজ্জ্বল মিয়া (৩৩) এবং উত্তরপাড়া এলাকার মুছা আলমের ছেলে মাসুম আলম (৪০)।

ওসি আতাউর রহমান আকন্দ জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে ভৈরবে যৌথ অভিযানে ৪০ জনের অধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদককারবারি, মাদকাসক্ত, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং ও চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে সন্দেহভাজন আসামিও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার ভোররাত ৩টায় ভৈরব সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যদের সহায়তায় পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নারী–পুরুষসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে পুকুরপাড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে দেড়শ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি মাসুম আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি বলেন, ভৈরবে বেড়ে যাওয়া চুরি ও ছিনতাই রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে প্রশাসন। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।