রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ ১৪৩২
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ ১৪৩২

জরিপে বিএনপি জোটকে ৫২ শতাংশ, তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪৭ শতাংশ ভোটার

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
জরিপে বিএনপি জোটকে ৫২ শতাংশ, তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪৭ শতাংশ ভোটার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫২ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোটার বিএনপি জোটকে ভোট দিতে পারেন বলে মনে করছেন অংশগ্রহণকারীরা। অপরদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটকে ভোট দিতে পারেন ৩১ শতাংশ ভোটার। একই সঙ্গে, ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ মনে করেন—বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী।

বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড–৩’ শীর্ষক এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জরিপের প্রধান ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জরিপের প্রধান মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। তিনি জানান, ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এই প্যানেল জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে সারা দেশ থেকে মোট ৫ হাজার ১৪৭ জনের সফল সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী। গণভোট প্রসঙ্গে প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত দিলেও ২২ শতাংশ এ বিষয়ে কোনো মতামত জানাতে পারেননি।

জরিপ অনুযায়ী, ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন—সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে, যা আগের রাউন্ডের তুলনায় বেশি। পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশে। এছাড়া, ৮২ শতাংশ উত্তরদাতা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন।

আগামীকাল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নিজ নিজ এলাকায় কোন দলের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারেন—এমন প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা অনিশ্চয়তার কথা জানান। আগের রাউন্ডের তুলনায় বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

জরিপে দেখা যায়, ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা ইতোমধ্যে কোন দলকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আগের রাউন্ডগুলোর তুলনায় বেশি। তবে নারী উত্তরদাতাদের ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন। ভোট পছন্দের দিক থেকে বিএনপি তাদের মূল সমর্থন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতে ইসলামিকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাবনা দেখছেন ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা। অপরদিকে, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন—জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। জরিপে অংশ নেওয়া ২ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন—এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী হবেন।

এ ছাড়া, ৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন—এই তিনজনের কেউই প্রধানমন্ত্রী হবেন না। আর ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, এই মুহূর্তে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তা বলা সম্ভব নয়।

জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটার বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন। তবে ভোটব্যাংকে এখনো অস্থিরতা রয়েছে এবং প্রচারণার ধরন অনুযায়ী দলগুলোর মধ্যকার ব্যবধান কমে আসতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান, ভয়েস ফর রিফর্ম-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিমা খাতুন, ব্রেন-এর নির্বাহী পরিচালক শফিকুল রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জ্যোতি রহমান এবং ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান।

শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় হোসেনপুরে ঈদের প্রধান জামাত

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় হোসেনপুরে ঈদের প্রধান জামাত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।

জামাতে অংশ নেন হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, শিল্পপতি ও জননেতা জহিরুল ইসলাম মবিন। তিনি সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে উপস্থিত সবার সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এবারের ঈদের নামাজে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জর ঐতিহাসিক জামিয়া ইমদাদিয়ার প্রধান মুফতি হযরত মাওলানা মুফতি ওমর সাহেব। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খান, হোসেনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে এম রফিকুল ইসলাম সফিক, বিএনপি নেতা সাদ্দাম হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাজীব আহমেদ পিয়াস প্রমুখ।

উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ধস: নদীতে পড়ে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ ২

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ধস: নদীতে পড়ে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ ২

সংগ্রহীত

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মিত একটি ভাসমান ড্রাম ব্রিজ ভেঙে শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে গেলে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঈদের আনন্দমুখর মুহূর্তেই দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে ঈদের দিন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ওই স্থানে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এবারও ঈদের দিন বিকেলে সেখানে প্রচুর মানুষ জড়ো হন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে হঠাৎ ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। এ সময় ব্রিজে থাকা শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান।

তাদের মধ্যে অনেকেই সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কয়েকজন শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন শিশুর মৃত্যু হয় এবং আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।

হোসেনপুরের পুমদীতে ডাহরা গোলপুকুর পাড়ে ৮০তম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের পুমদীতে ডাহরা গোলপুকুর পাড়ে ৮০তম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ডাহরা গোলপুকুর পাড় ঈদগাহ মাঠে ৮০তম বৃহৎ ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের পরেই এই ঈদগাহ মাঠটি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ মাঠ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এখানে একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

উক্ত জামাতে ইমামতি করেন মো. আ. কাইরুম (মামুন হুজুর)। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত ছিলেন এলাকার কৃতী সন্তান ও বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. শওকত আকবরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ঈদের এই বৃহৎ জামাতকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়।