সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীর দাবিতে ২২ কি.মি. জুড়ে মানববন্ধন

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:১৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীর দাবিতে ২২ কি.মি. জুড়ে মানববন্ধন

কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নের দাবিতে শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার সড়কজুড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন দলের একাংশের নেতা–কর্মীরা। বাজিতপুরের বটতলা মোড় থেকে নিকলী বাজারের শহীদ স্মরণিকা বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে একযোগে এই মানববন্ধন চলে।

এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের উপজেলা, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। মানববন্ধনের অংশগ্রহণকারীরা বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের অনুসারী।

নিকলী, সরারচর, বাজিতপুর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা যয়, দীর্ঘ সড়কের দু’পাশে একাধিক স্থানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কর্মীদের একাংশ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অংশ নেন। সরারচর এলাকার বিএনপি কর্মী মো. আলম মিয়া বলেন, “দলের দুর্দিনে ইকবাল ভাই পাশে ছিলেন। তাই আমরা তাঁকেই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চাই।”

বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির বলেন, “তৃণমূলের কর্মীরা এখানে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালকে চান। তাই কেন্দ্রীয় নেতাদের নজরে আনতে আমরা ২২ কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধন করেছি।”

৩ নভেম্বর বিএনপি দেশের ২৩৭টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী ঘোষণা করলেও কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ–১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) এবং কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুটি আসন মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ স্থানীয় বিএনপির বড় অংশ।

স্থানীয় নেতাদের মতে, কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, সাবেক সদস্য জিএস মীর জলিল, সাবেক পৌর মেয়র এহসান কুফিয়া, সাবেক সচিব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল ওয়াহাব, নিকলী উপজেলা বিএনপির সভাপতি বদরুল মোমেন (মিঠু), কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক মো. মাসুক মিয়া, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান (মামুন)

শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “এলাকার জনগণ আমাকে চায়। তাই আমার মনোনয়নের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে কর্মসূচি চলছে।”

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে—এই আসনটি বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২–দলীয় জোটের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার জন্য ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি। তাঁর পক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে এবং শনিবার বিকেলেও বাজিতপুর বাজার এলাকায় তাঁর সমর্থনে মিছিল হয়।

এ আসনে আলোচনায় আছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুমও। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে—তারা এই আসনে জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য রমজান আলীকে ধানের শীষ প্রতীকে সমর্থন দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছে।

কিশোরগঞ্জ–৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের দাবি ও জোটের সমীকরণে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে নেতাকর্মীরা।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।