সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

হোসেনপুরে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

রেজাউল হক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:৪৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
হোসেনপুরে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

কুয়াশার চাদর ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে সকালের সোনারোদ। শেষ হেমন্তের মৃদু বাতাসে দুলছে মাঠভরা সোনালি ধান। লেজঝোলা ফিঙে আর শালিকের উড়াউড়ি যেন জানান দিচ্ছে নবান্নের আগমনী বার্তা। তবে এসব দেখার ফুরসত নেই কৃষকদের; মাঠের পাকা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় কাটছে তাদের।

রোববার সরেজমিনে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়—ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত কৃষকেরা। এখন চলছে মাঠে মাঠে ধান কাটার উৎসব। নবান্নের আমেজে ঘরে ঘরে শুরু হবে পিঠা–পুলির প্রস্তুতি। আমনের বাম্পার ফলন হওয়ায় খুশির ঝিলিক দেখা যাচ্ছে কৃষক সমাজে। শিশিরভেজা সকালে পান্তাভাত খেয়ে কাস্তে হাতে মাঠে ছুটে যান তারা। ধানের পাঁজা মাথায় নিয়ে আইল পথে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য যেন সূর্যের আলোয় স্বর্ণদানা ঝলমল করার মতোই মনোমুগ্ধকর।

হেমন্তের বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে পাকা ধানের মিষ্টি ঘ্রাণ। দিনভর পরিশ্রমের পর ধান কেটে মাড়াই শেষ করে ঘরে তুলছেন কৃষকেরা। এ কাজে সহযোগিতা করছেন কৃষাণি-বধূরাও।

গত বছর আমন মৌসুমে মাজরা পোকার আক্রমণে কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কায় ছিলেন। দ্রুত ওষুধ প্রয়োগ এবং কৃষি অফিসের তদারকিতে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত তদারকির কারণে আমনের ফলন আরও ভালো হয়েছে। তবে সাহেবের চর এলাকার কয়েকজন কৃষক জানান, ফলন ভালো হলেও ধান গাছের গোড়া পচন রোগ নিয়ে শুরুতে দুশ্চিন্তা ছিল। যথাযথ পরিচর্যায় শেষ পর্যন্ত তারা ঝুঁকিমুক্ত হতে পারলেও ক্ষেতমতো কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তার উপস্থিতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন। তাদের দাবি—“পদের নাম শুনেছি, কিন্তু কাউকে চোখে দেখিনি।”

সাহেবের চর গ্রামের কৃষক মহসিন ও খলিল মিয়া, চরকাটিহারী গ্রামের বাতেন মিয়া এবং বিশ্বনাথপুরের জাকিরসহ অনেকে জানান, যথাসময়ে সার, বালাইনাশক ও সেচ দিতে পারায় ভালো ফলন পাওয়া গেছে। তবে চাষাবাদ-সংশ্লিষ্ট দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কৃষকদের চাপে ফেলেছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একে. এম. শাহজাহান কবির জানান, এ বছর উপজেলায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।