বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

কর্মে ও অবদানে স্মরণীয় জহুরুল ইসলাম, আজ ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কর্মে ও অবদানে স্মরণীয় জহুরুল ইসলাম, আজ ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী

দেশের শিল্পায়ন, আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের অন্যতম পথিকৃৎ এবং ইসলাম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ জহুরুল ইসলামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ অক্টোবর। ১৯৯৫ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। শিল্পোদ্যোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় যে অবদান রেখে গেছেন, তা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়, সরলতা, দয়াশীলতা, কর্মনিষ্ঠা, ধর্মপরায়ণতা ও আত্মপ্রচারবিমুখতা ছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সীমিত সুযোগের একটি সরকারি চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নিজের সামর্থ্য, শ্রম ও দূরদর্শিতার ওপর আস্থা রেখে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠে নানা শিল্প ও বাণিজ্যপ্রতিষ্ঠান। দেশের ব্যবসায়িক অঙ্গনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্বতন্ত্র অবস্থান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণেও রেখে যান উল্লেখযোগ্য অবদান।

আলহাজ জহুরুল ইসলাম ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ আফতাব উদ্দিন আহমদ এবং মাতা বেগম রহিমা। কলকাতার রিপন স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর তিনি কিছুদিন কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ত বিভাগে স্বল্প বেতনে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তবে বৃহত্তর কর্মক্ষেত্রে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে ব্যবসার দিকে নিয়ে যায়। চাকরি ছেড়ে তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করেন।

১৯৫১ সালে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলাম গ্রুপের প্রথম প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর শিল্পোদ্যোগের দীর্ঘ যাত্রা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ, প্রকৌশল, ভূমি ও গৃহায়ন ব্যবস্থাপনা, পাট ও পাটজাত পণ্য, গাড়ি সংযোজন, ওষুধ, ব্যাংকিং, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগের বিস্তার ঘটে। তাঁর নেতৃত্বে ইসলাম গ্রুপের অধীনে গড়ে ওঠে বহু শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

সীমিত সুযোগের চাকরি ছেড়ে নিজের উদ্যোগে কর্মক্ষেত্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। পরিশ্রম, অধ্যবসায়, ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুদূরপ্রসারী চিন্তা তাঁকে ব্যবসায়িক সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতের বিকাশে ভূমিকা রাখে।

১৯৭৫ সালে জহুরুল ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমিকদের বিদেশে কাজের সুযোগ সম্প্রসারিত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ে। দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদেশেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করেন।

ব্যবসা ও শিল্পের বিভিন্ন খাতে তাঁর উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি। নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর পোল্ট্রি খামার সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কয়েক শ পোল্ট্রি খামার গড়ে ওঠে বলে জানা যায়। এসব খামারের মাধ্যমে বহু তরুণ-তরুণী ও তাঁদের পরিবারের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের বিকাশেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকিং করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি আর্থিক খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িত। শিল্প ও আর্থিক খাতে উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের বেসরকারি খাতের বিকাশে অবদান রাখেন।

শিল্প ও ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারকে জহুরুল ইসলাম সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখতেন। বিশেষ করে নিজ জন্মস্থান বাজিতপুরের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে তাঁর আগ্রহ ছিল গভীর। ঢাকা ও বাজিতপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বা সহায়তাপ্রাপ্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, এতিমখানা ও মাদ্রাসা তাঁর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পরিচয় বহন করে।

তাঁর উদ্যোগ ও সহায়তায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার পুরানা পল্টনের বেগম রহিমা আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও পুরানা পল্টন মসজিদ, পল্লবীর মাজেদুল ইসলাম মডেল হাইস্কুল, পল্লবী এতিমখানা ও মাদ্রাসা। বাজিতপুরে রয়েছে আফতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, বেগম রহিমা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, হাফেজ আবদুর রাজ্জাক উচ্চ বিদ্যালয়, রাজ্জাকুন্নেসা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, নাজিরুল ইসলাম কলেজিয়েট স্কুল, সরারচর শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাজিতপুর ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বাজিতপুরকে ‘এডুকেশন সিটি’ ও ‘হেলথ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে জীবনের শেষ কয়েক বছরে তিনি ঘন ঘন বাজিতপুরে যাতায়াত করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষাবিদ এবং স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জহুরুল ইসলাম এডুকেশন কমপ্লেক্স’।

নিজ এলাকার শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা বিস্তারকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় মানুষের জন্য নিজ এলাকায় থেকেই শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ করা।

জহুরুল ইসলামের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জহুরুল ইসলাম নার্সেস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাশিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে তিনি এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কিশোরগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে। চিকিৎসাশিক্ষার জন্যও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসেন; বিদেশি শিক্ষার্থীদেরও এখানে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

শিক্ষা ও চিকিৎসাকে একই উদ্যোগের আওতায় এনে তিনি নিজ এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন। ভাগলপুরের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসাশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ তাঁর দূরদর্শিতা এবং জনকল্যাণমূলক চিন্তার পরিচয় বহন করে। একদিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা—দুই ক্ষেত্রেই এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব রয়েছে।

তাঁর স্বপ্ন ছিল, বাজিতপুর শুধু নিজস্ব ঐতিহ্যে পরিচিত থাকবে না; শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম স্থায়ী উত্তরাধিকার।

জহুরুল ইসলামের জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দানশীলতা। এতিম, অসহায় বৃদ্ধ, দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের তিনি সহায়তা করতেন। বিভিন্ন মসজিদে অর্থসাহায্য দেওয়ার পাশাপাশি বহু আলেমকে নিজের খরচে হজ করানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে তাঁর জীবন ও কর্মসম্পর্কিত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর দানশীলতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল আত্মপ্রচারবিমুখতা। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি গোপনে সাহায্য করতেন। মানুষের দুর্দশা লাঘব করা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় ব্যক্তিদের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করাকে তিনি মানবিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখতেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তাঁর অবদানের কথা বিভিন্ন লেখায় উঠে এসেছে। ১৯৭১ সালে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনে ‘সুবেদ আলী’ ছদ্মনামে নিয়মিত অর্থসাহায্য দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছিলেন বলে সাবেক কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমদের বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনা তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মগোপনে থেকে সহায়তা করার মানসিকতার একটি দিক তুলে ধরে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর জীবনদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর কাছে সাফল্য কেবল ব্যবসায়িক অর্জনে সীমাবদ্ধ ছিল না; মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখাকেও তিনি গুরুত্ব দিতেন।

কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, একাগ্রতা এবং ভবিষ্যৎমুখী চিন্তার মাধ্যমে জহুরুল ইসলাম নিজের কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র তৈরি, মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রসার এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখেন।

১৯৯৫ সালের ১৯ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার কন্যা, একমাত্র পুত্র মঞ্জুরুল ইসলামসহ বহু আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে যান। পরে নিজ গ্রাম ভাগলপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় মূল্যায়ন করা সহজ নয়। তবে শিল্প ও বাণিজ্যে উদ্যোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় তাঁর উদ্যোগ আজও তাঁর কর্মময় জীবনের স্মারক হিসেবে বিবেচিত।

আলহাজ জহুরুল ইসলামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কর্ম, অবদান ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। তাঁর জীবন নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা, পেশাজীবী এবং সমাজকল্যাণে আগ্রহী মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকুক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ, কর্মনিষ্ঠা ও জনকল্যাণের চেতনাকে ধারণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।

ইঞ্জিন বিকল হয়ে স্টেশনে তিন ঘনটা ধরে আটকে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
ইঞ্জিন বিকল হয়ে স্টেশনে তিন ঘনটা ধরে আটকে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

ইঞ্জিন বিকল হয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আটকে রয়েছে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ট্রেনটির যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। পাশাপাশি ট্রেনটির শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টায় ট্রেনটির ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ট্রেনটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

স্টেশন মাস্টার আরও জানান, আখাউড়া থেকে একটি সচল ইঞ্জিন কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইঞ্জিনটি স্টেশনে পৌঁছালে সেটি সংযুক্ত করে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করা হবে।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেন ছাড়তে না পারায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইঞ্জিনের ত্রুটি মেরামত বা বিকল্প ইঞ্জিন সংযুক্ত করতে দেরি হলে ট্রেনটির পরবর্তী যাত্রাসূচিতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জের নগুয়ায় জমকালো আয়োজনে ‘পুষ্প সুপার শপের’ উদ্বোধন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের নগুয়ায় জমকালো আয়োজনে ‘পুষ্প সুপার শপের’ উদ্বোধন

কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া বটতলা এলাকায় যাত্রা শুরু করেছে আধুনিক গ্রোসারি শপ ‘পুষ্প সুপার শপ’। ক্রেতাদের মানসম্মত পণ্য সরবরাহ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় কেনাকাটার অভিজ্ঞতা দিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক আনিসুজ্জামান বাবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম ও সাবেক কাউন্সিলর আফতাব উদ্দিন মিলন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক ক্রেতা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, গ্রাহকদের হাতের নাগালে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মানসম্মত বাজারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়াই পুষ্প সুপার শপের মূল লক্ষ্য। এখানে দেশি-বিদেশি খাদ্যসামগ্রী, প্রসাধনসামগ্রী ও দৈনন্দিন গৃহস্থালি পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়া যাবে।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ মানের পণ্য ও উন্নত সেবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। আশা করছি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে পুষ্প সুপার শপ এলাকার মানুষের কেনাকাটার অন্যতম পছন্দের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠবে।”

করিমগঞ্জে সেচ পাম্পের বিরোধে প্রাণ গেল ১ জনের, আহত ১৭

খায়রুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে সেচ পাম্পের বিরোধে প্রাণ গেল ১ জনের, আহত ১৭

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় সেচ পাম্পের ইজারা ও লভ্যাংশ বণ্টনকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় হারেছ মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন। হামলার সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

গত ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চারিতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত হারেছ মিয়ার ভাই মো. হারুন মিয়া বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে করিমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সেচ পাম্পের ইজারা ও লভ্যাংশ বণ্টন নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ২ অক্টোবর নিয়ামতপুর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সেচ পাম্পের খরচ ও লভ্যাংশ বাদীপক্ষ ছয় আনা এবং অভিযুক্তপক্ষ ১০ আনা হারে ভাগ করে নেবে। তবে এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সিদ্ধান্ত অমান্য করে অভিযুক্তরা সেচ পাম্পটি এককভাবে দখলে নেন। এর প্রতিবাদ করলে বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে অভিযুক্তরা রামদা, বল্লম, লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চারিতলা গ্রামের সৈয়দ উদ্দিনের বসতবাড়িতে হামলা চালান। এ সময় সৈয়দ উদ্দিনকে ধাওয়া করা হলে তিনি আত্মরক্ষার্থে ঘরে আশ্রয় নেন। তাঁর চিৎকার শুনে হারেছ মিয়া এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হন।

অভিযোগে বলা হয়, মামলার ৩ নম্বর আসামি কাছম আলী লোহার রড দিয়ে হারেছ মিয়ার বুকে আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর আসামি তাঁকে চেপে ধরেন এবং ১ ও ২ নম্বর আসামি লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁর বুকে পা দিয়ে চাপ দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় হারেছ মিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আরও অন্তত ১৭ জন হামলার শিকার হন। তাঁদের রামদা, বল্লম ও লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তাঁরা গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মো. শফিকুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, মো. আবুল খায়ের, মো. এনায়েত হোসেন, মো. আসাদ উল্লাহ, মো. শহীদ, মো. লিমন, মুনতাজ, মো. উজ্জ্বল, মো. শিবলু, বেদেনা আক্তার, মো. আকরাম হোসাইন ও হোসনা আক্তারসহ আরও অনেকে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা সৈয়দ উদ্দিন, নাজমুল ও আবুল খায়েরের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। এ ছাড়া মোনতাজের বাড়িতে ভাঙচুর করে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়। এ সময় এক নারীর গলা থেকে আড়াই ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতাল ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হারেছ মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ অক্টোবর রাত ৩টা ৫০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা-পুলিশ হারেছ মিয়ার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিনই তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।