মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

কর্মে ও অবদানে স্মরণীয় জহুরুল ইসলাম, আজ ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কর্মে ও অবদানে স্মরণীয় জহুরুল ইসলাম, আজ ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী

দেশের শিল্পায়ন, আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের অন্যতম পথিকৃৎ এবং ইসলাম গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ জহুরুল ইসলামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১৯ অক্টোবর। ১৯৯৫ সালের এই দিনে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। শিল্পোদ্যোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় যে অবদান রেখে গেছেন, তা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়, সরলতা, দয়াশীলতা, কর্মনিষ্ঠা, ধর্মপরায়ণতা ও আত্মপ্রচারবিমুখতা ছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সীমিত সুযোগের একটি সরকারি চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও নিজের সামর্থ্য, শ্রম ও দূরদর্শিতার ওপর আস্থা রেখে তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠে নানা শিল্প ও বাণিজ্যপ্রতিষ্ঠান। দেশের ব্যবসায়িক অঙ্গনে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন স্বতন্ত্র অবস্থান। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণেও রেখে যান উল্লেখযোগ্য অবদান।

আলহাজ জহুরুল ইসলাম ১৯২৮ সালের ১ আগস্ট কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ আফতাব উদ্দিন আহমদ এবং মাতা বেগম রহিমা। কলকাতার রিপন স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর তিনি কিছুদিন কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ত বিভাগে স্বল্প বেতনে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তবে বৃহত্তর কর্মক্ষেত্রে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে ব্যবসার দিকে নিয়ে যায়। চাকরি ছেড়ে তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করেন।

১৯৫১ সালে তাঁর হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলাম গ্রুপের প্রথম প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর শিল্পোদ্যোগের দীর্ঘ যাত্রা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ, প্রকৌশল, ভূমি ও গৃহায়ন ব্যবস্থাপনা, পাট ও পাটজাত পণ্য, গাড়ি সংযোজন, ওষুধ, ব্যাংকিং, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর উদ্যোগের বিস্তার ঘটে। তাঁর নেতৃত্বে ইসলাম গ্রুপের অধীনে গড়ে ওঠে বহু শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

সীমিত সুযোগের চাকরি ছেড়ে নিজের উদ্যোগে কর্মক্ষেত্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। পরিশ্রম, অধ্যবসায়, ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সুদূরপ্রসারী চিন্তা তাঁকে ব্যবসায়িক সাফল্যের পথে এগিয়ে নেয়। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতের বিকাশে ভূমিকা রাখে।

১৯৭৫ সালে জহুরুল ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রকল্পের কাজ শুরু করেন। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের শ্রমিকদের বিদেশে কাজের সুযোগ সম্প্রসারিত হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়ে। দেশে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদেশেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করেন।

ব্যবসা ও শিল্পের বিভিন্ন খাতে তাঁর উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি। নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে বহু মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর পোল্ট্রি খামার সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কয়েক শ পোল্ট্রি খামার গড়ে ওঠে বলে জানা যায়। এসব খামারের মাধ্যমে বহু তরুণ-তরুণী ও তাঁদের পরিবারের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বেসরকারি ব্যাংকিং খাতের বিকাশেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়। তিনি ইস্টার্ন ব্যাংকিং করপোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বেসরকারি আর্থিক খাতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান আইএফআইসি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠার সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িত। শিল্প ও আর্থিক খাতে উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের বেসরকারি খাতের বিকাশে অবদান রাখেন।

শিল্প ও ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষা বিস্তারকে জহুরুল ইসলাম সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখতেন। বিশেষ করে নিজ জন্মস্থান বাজিতপুরের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নে তাঁর আগ্রহ ছিল গভীর। ঢাকা ও বাজিতপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বা সহায়তাপ্রাপ্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, এতিমখানা ও মাদ্রাসা তাঁর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পরিচয় বহন করে।

তাঁর উদ্যোগ ও সহায়তায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকার পুরানা পল্টনের বেগম রহিমা আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও পুরানা পল্টন মসজিদ, পল্লবীর মাজেদুল ইসলাম মডেল হাইস্কুল, পল্লবী এতিমখানা ও মাদ্রাসা। বাজিতপুরে রয়েছে আফতাব উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, বেগম রহিমা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, হাফেজ আবদুর রাজ্জাক উচ্চ বিদ্যালয়, রাজ্জাকুন্নেসা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, নাজিরুল ইসলাম কলেজিয়েট স্কুল, সরারচর শিবনাথ উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাজিতপুর ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বাজিতপুরকে ‘এডুকেশন সিটি’ ও ‘হেলথ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে জীবনের শেষ কয়েক বছরে তিনি ঘন ঘন বাজিতপুরে যাতায়াত করেন। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষাবিদ এবং স্থানীয় সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর পরিকল্পনা ও উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জহুরুল ইসলাম এডুকেশন কমপ্লেক্স’।

নিজ এলাকার শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং নতুন প্রজন্মের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা বিস্তারকে সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল স্থানীয় মানুষের জন্য নিজ এলাকায় থেকেই শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ করা।

জহুরুল ইসলামের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং জহুরুল ইসলাম নার্সেস ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাশিক্ষা ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে তিনি এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কিশোরগঞ্জসহ হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে। চিকিৎসাশিক্ষার জন্যও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশোনা করতে আসেন; বিদেশি শিক্ষার্থীদেরও এখানে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে বলে জানা যায়।

শিক্ষা ও চিকিৎসাকে একই উদ্যোগের আওতায় এনে তিনি নিজ এলাকার মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন। ভাগলপুরের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় চিকিৎসাশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল গড়ে তোলার উদ্যোগ তাঁর দূরদর্শিতা এবং জনকল্যাণমূলক চিন্তার পরিচয় বহন করে। একদিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা—দুই ক্ষেত্রেই এসব প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব রয়েছে।

তাঁর স্বপ্ন ছিল, বাজিতপুর শুধু নিজস্ব ঐতিহ্যে পরিচিত থাকবে না; শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম স্থায়ী উত্তরাধিকার।

জহুরুল ইসলামের জীবনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল দানশীলতা। এতিম, অসহায় বৃদ্ধ, দরিদ্র শিক্ষার্থী এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাদের তিনি সহায়তা করতেন। বিভিন্ন মসজিদে অর্থসাহায্য দেওয়ার পাশাপাশি বহু আলেমকে নিজের খরচে হজ করানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলে তাঁর জীবন ও কর্মসম্পর্কিত বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।

তাঁর দানশীলতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল আত্মপ্রচারবিমুখতা। অনেক ক্ষেত্রেই তিনি গোপনে সাহায্য করতেন। মানুষের দুর্দশা লাঘব করা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় ব্যক্তিদের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করাকে তিনি মানবিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখতেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তাঁর অবদানের কথা বিভিন্ন লেখায় উঠে এসেছে। ১৯৭১ সালে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনে ‘সুবেদ আলী’ ছদ্মনামে নিয়মিত অর্থসাহায্য দিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অবদান রেখেছিলেন বলে সাবেক কূটনীতিক মহিউদ্দিন আহমদের বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনা তাঁর দেশপ্রেম ও আত্মগোপনে থেকে সহায়তা করার মানসিকতার একটি দিক তুলে ধরে।

শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর জীবনদর্শনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাঁর কাছে সাফল্য কেবল ব্যবসায়িক অর্জনে সীমাবদ্ধ ছিল না; মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখাকেও তিনি গুরুত্ব দিতেন।

কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায়, একাগ্রতা এবং ভবিষ্যৎমুখী চিন্তার মাধ্যমে জহুরুল ইসলাম নিজের কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, ব্যবসার নতুন ক্ষেত্র তৈরি, মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রসার এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রযাত্রায় অবদান রাখেন।

১৯৯৫ সালের ১৯ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার কন্যা, একমাত্র পুত্র মঞ্জুরুল ইসলামসহ বহু আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে যান। পরে নিজ গ্রাম ভাগলপুরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ক্যাম্পাসে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় মূল্যায়ন করা সহজ নয়। তবে শিল্প ও বাণিজ্যে উদ্যোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসাসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে তিনি যে উত্তরাধিকার রেখে গেছেন, তা তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলো এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় তাঁর উদ্যোগ আজও তাঁর কর্মময় জীবনের স্মারক হিসেবে বিবেচিত।

আলহাজ জহুরুল ইসলামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর কর্ম, অবদান ও স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। তাঁর জীবন নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা, পেশাজীবী এবং সমাজকল্যাণে আগ্রহী মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকুক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধ, কর্মনিষ্ঠা ও জনকল্যাণের চেতনাকে ধারণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতায় কিশোরগঞ্জে যুবদলের লিফলেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতায় কিশোরগঞ্জে যুবদলের লিফলেট বিতরণ

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জে লিফলেট বিতরণ করেছে জেলা যুবদল।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে কেন্দ্রীয় যুবদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীনের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় শহরের বিভিন্ন সড়কে পথচারী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

কর্মসূচিতে জেলা যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভেদাভেদ ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি।

তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচালন বাজেটের আওতায় গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (অফ পেভমেন্ট) কার্যক্রমে নিয়োজিত লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) শ্রমিকদের মধ্যে সঞ্চয়ী অর্থের চেক বিতরণ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন মেয়াদ শেষে কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি পাওয়া ২৬ জন শ্রমিকের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নীতি বাস্তবায়নের অন্যতম চালিকাশক্তি মাঠ প্রশাসন। সরকারের অর্জন ও সাফল্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকার জনকল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ জন শ্রমিকের হাতে জনপ্রতি ১ লাখ ৯ হাজার টাকার সঞ্চয়ী অর্থের চেক তুলে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিক ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. এইচ. এম. ইজাজুল হক, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলী জিন্নাহ এবং কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, চেকপ্রাপ্ত এলসিএস শ্রমিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরে বেলা ১১টার দিকে ছয়সূতী ইউনিয়নের জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

দুপুর ১২টার দিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কুলিয়ারচরের কালী নদীর উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

পাগলায় ব্রিজের ঢালে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তের দাবি

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
পাগলায় ব্রিজের ঢালে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তের দাবি

ময়মনসিংহের পাগলা থানা এলাকায় পাগলা–হোসেনপুর সড়কের খুরশিদ মহল ব্রিজের ঢাল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু রবিদাস সংশ্লিষ্ট পুলিশ ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখিত আবেদন করেছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাচ্চু রবিদাস (৫০) ময়মনসিংহের পাগলা থানার গাজীশিমুল এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম মৃত লালচাঁন রবিদাস। তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাগলা থানা এলাকার ৯ নম্বর পাটচরা ইউনিয়নের ঘুরমশিদ মহল এলাকার একটি ব্রিজের ঢালে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পাগলা থেকে হোসেনপুরগামী এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাশে ব্রিজের ঢালে মরদেহটি পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়ভাবে ওই নারী মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল বলে জানা যায়। তবে তাঁর পরিচয়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়নি।

বাচ্চু রবিদাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি জানার পর মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশকে অবহিত করা হয়। পরে পাগলা থানা ও পাটচরা তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে। অভিযোগপত্রে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগকারী উল্লেখ করেছেন। ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছিল কি না, তাঁর মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

লিখিত আবেদনে বাচ্চু রবিদাস ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ ধরনের ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং অপরাধের সংশ্লিষ্টতা থাকলে তা উদ্‌ঘাটন করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিযোগপত্রে উত্থাপিত বিষয়গুলো যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন কিংবা ওই নারীর পরিচয় শনাক্তের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।