‘৩১ বছর পরও বাবাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন, আমি কৃতজ্ঞ’- মনজুরুল ইসলাম
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুরে বিশিষ্ট শিল্পপতি, ইসলাম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ জহুরুল ইসলামের ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভাগলপুরে জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মরহুমের পরিবারের সদস্য, ইসলাম গ্রুপের পরিচালক, হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন মরহুম জহুরুল ইসলামের ছেলে ও ইসলাম গ্রুপের চেয়ারম্যান মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মরহুম জহুরুল ইসলাম ১৯৯৫ সালের ১৯ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর ৩১ বছর পরও আপনারা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন। এ জন্য আমি তাঁর ছেলে হিসেবে আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন, মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন। আমিন।’
১৯২৮ সালের ১ আগস্ট বাজিতপুর উপজেলার ভাগলপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ জহুরুল ইসলাম। কঠোর পরিশ্রম, সততা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে তিনি দেশের অন্যতম সফল শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ঠিকাদারি ব্যবসার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তী সময়ে শিল্প-বাণিজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে অবদান রেখেছে।
ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ভাগলপুরে প্রতিষ্ঠিত জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও জনসেবামূলক উদ্যোগের অন্যতম স্মারক। প্রতিষ্ঠানটি দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি বাজিতপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে।
জহুরুল ইসলামের আজীবনের অন্যতম স্বপ্ন ছিল বাজিতপুরকে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। জন্মভূমির উন্নয়ন, শিক্ষার বিস্তার, চিকিৎসাসেবার প্রসার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত করার আকাঙ্ক্ষা তাঁর কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইসলাম গ্রুপের পরিচালক শামসুর রহমান ও মুস্তাফিজুর রহমান মন্টু, জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বাহার উদ্দিন ভূঁইয়া এবং মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবু সাঈদসহ হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাংবাদিকেরা।
দোয়া মাহফিলে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন উপজেলা মসজিদের খতিব মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। দোয়া পরিচালনা করেন বাজিতপুর মডেল মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা আব্দুল সাত্তার। দোয়া ও আলোচনা শেষে মরহুমের কবর জিয়ারত করা হয় এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করা হয়।
শিল্পপতি জহুরুল ইসলাম শুধু একজন সফল ব্যবসায়ীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন জন্মভূমির উন্নয়নে স্বপ্ন দেখা একজন উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁর কর্মের স্মৃতি আজও মানুষের মাঝে বেঁচে রয়েছে। তাঁর ৩১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁকে স্মরণ করছেন।










Disqus comments are not configured yet.