সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও নৈরাজ্যকারীদের বিএনপিতে স্থান হবে না: জালাল উদ্দিন
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিএনপিতে কোনো স্থান হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে দল যাঁকে মনোনয়ন দেবে, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর পক্ষে কাজ করতে হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে; প্রয়োজনে বহিষ্কারও করা হতে পারে।
রোববার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।
অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে হলে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দলে কোনো স্থান দেওয়া হবে না। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সম্মানজনক অবস্থানে রাখার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, একই পদে একাধিক নেতা দলীয় মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে দলীয় প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত একজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাইকে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে এবং নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দল তাঁর দায়ভার নেবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জালাল উদ্দিন বলেন, এবার কেউ মনোনয়ন না পেলেও তাঁর রাজনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে যাবে না। ধৈর্য ধরে দলের জন্য কাজ করতে হবে এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। ভবিষ্যতে তাঁদেরও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত প্রত্যাশার চেয়ে দলের বৃহত্তর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয় জোরদার এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন। সভার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ডা. জহর লাল সাহা, সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য গোলাম ফারুক চাষী, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, শফিকুর রহমান বাদল, শরাফ উদ্দিন লস্কর পারভেজ, সৈয়দ আরেফিন তারা, মো. শহিদুল্লাহ ও আতিকুর রহমান আতিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জাইদুল; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিঠু, শফিকুল ইসলাম ফুলু ও শামসুল হক চাঁন মিয়া মাস্টার; সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মোহাম্মদ আলী; মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল হক শাহজাহান; কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান বাচ্চু; যুববিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মাসুদ; ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক তাসরিফুল হাসিব; শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ; স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মো. ইলিয়াস আলী; সহযুববিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম সেতু এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. সানা উল্লাহ, বাবু জীবন চন্দ্র দাস, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল ইসলাম সেবক, সাইফুল মতিন জুয়েল, হাদিউল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া শ্যামল, মোবারক হোসেন, আব্দুল কুদ্দুছ রতন ও ইলিয়াস কাঞ্চন ভূঁইয়া শরিফসহ উপজেলা বিএনপির অন্যান্য নেতারা।







Disqus comments are not configured yet.