রাশিয়ার জ্বালানি খাতে ছাড়, কমল তেলের দর
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাশিয়ার জ্বালানি খাতসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। নতুন নীতির সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এখনো বাজারে অস্থিরতা বজায় রেখেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে ১০৯ দশমিক ০৬ ডলারে নেমে আসে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের নভেম্বর সরবরাহ চুক্তির দাম শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ৩২ ডলারে দাঁড়ায়। মঙ্গলবারই এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তুলনামূলক বেশি সক্রিয় ডিসেম্বর সরবরাহ চুক্তির দামও ৪৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ০৮ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার জ্বালানি খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তন তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে।
এর আগের কার্যদিবসে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছিল। এটি ছিল গত ২০ মে-র পর সর্বোচ্চ দর। ট্রাম্পের নতুন নীতিগত পদক্ষেপের পর তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় কিছুটা ছেদ পড়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের দামের গতিপথ এখন রাশিয়ার জ্বালানি খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। নিষেধাজ্ঞায় ছাড়ের ফলে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে দামে আরও নিম্নমুখী চাপ আসতে পারে। তবে সংঘাত তীব্র হলে কিংবা সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে।
ফলে এক দিনের দরপতনকে স্থায়ী নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পরিবর্তনই তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।










Disqus comments are not configured yet.