মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে, মত যুক্তরাজ্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে, মত যুক্তরাজ্যের

বাংলাদেশে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল হয়েছে এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিসর বেড়েছে বলে মূল্যায়ন করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় এখন স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ, কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বিতর্কে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তৈরি একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন উঠে আসে। চলতি বছরের ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশ সফর করে তিন সদস্যের একটি ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল বিভিন্ন অংশীজনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও ২০২৬ সালের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম সহিংস ছিল। নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাও কমেছে বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য বিরোধী দল এখন স্বাধীনভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, প্রচার-প্রচারণা, সমাবেশ এবং সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি সত্ত্বেও কিছু সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মতো বিষয় এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত ঘটনাবলির কারণে দলটির বিরুদ্ধে জনক্ষোভ রয়েছে।

তবে দুর্নীতি, সহিংসতা কিংবা দমন-পীড়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না, এমন তৃণমূল ও নিম্নপর্যায়ের আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নিজ নিজ এলাকায় বসবাস করতে পারছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে দলটির প্রতি সমর্থন জানালে তাঁদের সামাজিক বৈরিতা, হয়রানি কিংবা সহিংসতার ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাবেক কিছু নেতাকর্মী অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন, কেউ এলাকা পরিবর্তন করেছেন, আবার কেউ দেশ ছেড়েছেন।

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং নিয়মিত আদালতে মামলা চলছে। কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা জামিনে মুক্তি পেলেও অনেকে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এতে উল্লেখ করা হয়, এখন পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদারে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদারে বৈঠক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে তাঁদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানো, শিক্ষা ও গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।

এ সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে জামায়াত আমিরকে অবহিত করেন। শিক্ষা ও গবেষণায় দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্ব পেলেও এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষর বা নতুন সিদ্ধান্তের তথ্য জানানো হয়নি।

পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হলো না, ওমানে মারা গেলেন হোসেনপুরের বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হলো না, ওমানে মারা গেলেন হোসেনপুরের বিপ্লব

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় চার বছর আগে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার জামাইল এলাকার মনিরুজ্জামান বিপ্লব (৪৮)। সেখানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। নিয়মিত দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতেন। তবে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই সংগ্রামের অবসান হয়েছে হৃদরোগে। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে ওমানের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি।

মনিরুজ্জামান বিপ্লব হোসেনপুর পৌরসভার জামাইল এলাকার প্রয়াত নূরুল ইসলামের ছেলে। দেশে তাঁর মা, স্ত্রী সোমা আক্তার, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিপ্লবের ফুপাতো ভাই কাউসার টিটু জানান, রোববার রাতে স্ত্রীকে ফোন করে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করার কথা জানিয়েছিলেন বিপ্লব। পরে তাঁকে ওমানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এক সহকর্মীর ফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার।

কাউসার টিটু আরও বলেন, খবর পেয়ে তিনি কিশোরগঞ্জ শহর থেকে বিপ্লবের বাড়িতে ছুটে যান। কিন্তু শোকাহত পরিবারের সদস্যদের কোনোভাবেই সান্ত্বনা দেওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের একমাত্র চাওয়া, দ্রুত যেন বিপ্লবের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

বিপ্লবের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তাঁর পরিবার। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে এবং দেশে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন স্বজনেরা।

কিশোরগঞ্জের আমিরগঞ্জ বাজারে আধুনিক ভবন নির্মাণের যাত্রা শুরু

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের আমিরগঞ্জ বাজারে আধুনিক ভবন নির্মাণের যাত্রা শুরু

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের আমিরগঞ্জ বাজারে (জালালপুর বাজার) ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে দুইতলা গ্রামীণ বাজার ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। চারতলা ভবন নির্মাণের উপযোগী ভিত্তির ওপর প্রাথমিকভাবে দুইতলা নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ভবনটির বাকি দুইতলা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ‘দেশব্যাপী গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ভবনটি নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জে. এ. ট্রেডার্স।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ এবং বাজার কমিটির নেতারা।

মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী বলেন, নতুন ভবন নির্মিত হলে আমিরগঞ্জ বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। এতে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি ক্রেতারাও উন্নত পরিবেশে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ জানান, ২০২৩ সালে প্রকল্পটির বাজেট নির্ধারণ করা হলেও বাজার কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরুর জন্য প্রস্তুত থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন ভবনে দোকান বরাদ্দের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ বলেন, বাজারে আগে থেকে থাকা ১৭ জন চান্দিনা ভিটির দোকানদার বৈধ। তাঁদের নামের তালিকা এবং আগের দোকানের অবস্থানসংক্রান্ত ভিডিও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতে নতুন ভবনে তাঁদের আগের অবস্থান অনুযায়ী দোকান বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, লিজ না নেওয়া খাসজমিতে যাঁরা দোকান পরিচালনা করছেন, তাঁরা নতুন ভবনে দোকান বরাদ্দ পাবেন না। তাঁদের উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আমিরগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি মো. মজলু মিয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সোহরাব উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নয়ন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌয়েব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।