বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা কমেছে, মত যুক্তরাজ্যের
বাংলাদেশে বিএনপি সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল হয়েছে এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার পরিসর বেড়েছে বলে মূল্যায়ন করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের তুলনায় এখন স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ, কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বিতর্কে অংশ নেওয়ার বেশি সুযোগ পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনফরমেশন টিমের (সিপিআইটি) তৈরি একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন প্রতিবেদনে এ মূল্যায়ন উঠে আসে। চলতি বছরের ৭ থেকে ১৫ জুন বাংলাদেশ সফর করে তিন সদস্যের একটি ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল বিভিন্ন অংশীজনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ না হলেও ২০২৬ সালের নির্বাচন আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম সহিংস ছিল। নির্বাচনের পর থেকে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাও কমেছে বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং অন্যান্য বিরোধী দল এখন স্বাধীনভাবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, প্রচার-প্রচারণা, সমাবেশ এবং সরকারের সমালোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি সত্ত্বেও কিছু সহিংসতার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক স্বার্থ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মতো বিষয় এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে এখনো নিষিদ্ধ রয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ঘিরে সংঘটিত ঘটনাবলির কারণে দলটির বিরুদ্ধে জনক্ষোভ রয়েছে।
তবে দুর্নীতি, সহিংসতা কিংবা দমন-পীড়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না, এমন তৃণমূল ও নিম্নপর্যায়ের আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নিজ নিজ এলাকায় বসবাস করতে পারছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকাশ্যে দলটির প্রতি সমর্থন জানালে তাঁদের সামাজিক বৈরিতা, হয়রানি কিংবা সহিংসতার ঝুঁকিতে পড়তে হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাবেক কিছু নেতাকর্মী অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন, কেউ এলাকা পরিবর্তন করেছেন, আবার কেউ দেশ ছেড়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং নিয়মিত আদালতে মামলা চলছে। কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা জামিনে মুক্তি পেলেও অনেকে বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি ইতিমধ্যে মুক্তি পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে এতে উল্লেখ করা হয়, এখন পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুরোনো মামলাগুলো পর্যালোচনার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।










Disqus comments are not configured yet.