শ্রমিক অসন্তোষে অর্থ দিচ্ছে পলাতক স্বৈরাচার, জুলাই আন্দোলনেও ধোঁকা
দেশের বিভিন্ন স্থানে ও কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পলাতক স্বৈরাচার শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টিতে অর্থায়ন করছে। নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করা কয়েকটি দলও এতে যুক্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ‘পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। …কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতটা দল আছে, যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে। তারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে। এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা জোরদার, বন্ধ কলকারখানা চালু এবং কৃষকদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়িয়ে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিরও চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু কয়েকটি দল রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এসব উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়ার সময়ও ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখনো দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
জনসভায় বিএনপি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বলেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার বিদায় নেওয়ার আগে শত শত ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁদের স্মরণে ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার কথা বলে—এমন সব রাজনৈতিক দলকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কয়েকটি দলের কোনো প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি কথা বলছে, তাদের কর্মে আরেকটির প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি।’
জনসভায় বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন। এতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।










Disqus comments are not configured yet.