কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গাবরগাঁও ঐতিহাসিক শাহী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) অনুষ্ঠিত হয়েছে ৭ম বার্ষিক বিশাল ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল। দিনব্যাপী এই ধর্মীয় আয়োজন ঘিরে সৃষ্টি হয় অভূতপূর্ব জনসমাগম। হোসেনপুর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক বিশাল ধর্মীয় মিলনমেলায়।
মাহফিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দেশের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তাদের অংশগ্রহণ। বিশেষ করে নন্দিত ওয়ায়েজ মুফতি শাহ্ আহমাদুল্লাহকে হেলিকপ্টারে করে মাহফিল প্রাঙ্গণে আনা হয়, যা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসী সমাজের সহায়তায় এবং বিশেষ উদ্যোগে এই ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছে।
মাহফিলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সৌদি আরব আলরুইস কমিটির সভাপতি এবং হোসেনপুর উপজেলার ১নং জিনারী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ আজহারুল ইসলাম। স্থানীয়রা জানান, তাঁর সার্বিক সহযোগিতা, অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধানেই এত বড় পরিসরে শান্তিপূর্ণভাবে মাহফিল আয়োজন সম্ভব হয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া মাহফিলে দিনের বেলায় প্রধান বক্তা হিসেবে বয়ান পেশ করেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও শাইখুল হাদিস আল্লামা মুফতি সায়্যিদ ড. মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ওয়া সিদ্দিকী (পীর সাহেব, জৈনপুরী)। তিনি কোরআন-হাদিসের আলোকে ঈমান, তাকওয়া ও নৈতিক জীবন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সকাল ১১টায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বয়ান রাখেন মুফতি শাহ্ আহমাদুল্লাহ (খতিব, রূপায়ন টাউন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, নারায়ণগঞ্জ)। তাঁর হৃদয়স্পর্শী বক্তব্যে মুসল্লিদের মাঝে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং অনেকে আত্মশুদ্ধির আহ্বানে সাড়া দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহেষকুড়া আলিম মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ক্বারী মোঃ আঃ হালিম উদ্দিন। বিশেষ আলোচক হিসেবে বয়ান রাখেন গাবরগাঁও শাহী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি আলী হুসাইন নূরী এবং বাজিতপুরের নাজিম ভূঁইয়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবু বকর হোসেনপুরী।
মাহফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মোঃ মামিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মুফতি নোমান বিন আব্দুল হাই ও মাওলানা মোঃ মাজহারুল ইসলাম শফিকুল।
শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। আয়োজক কমিটি মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং অংশগ্রহণকারী সকল মুসল্লি ও সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।