ছুটির দিনে নির্বাচনি উত্তাপ; বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির কর্মব্যস্ততা
দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পর সারাদেশে শুরু হয়েছে নির্বাচনি আমেজ। ঘোষণার পরে গতকাল শুক্রবার ছিল প্রথম সরকারি ছুটির দিন, আর সে দিন থেকেই প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। গণসংযোগ, দোয়া মাহফিল, মসজিদে জুমার নামাজ আদায়সহ নানা কর্মসূচিতে ছিলেন তারা। শনিবারও মনোনীত প্রার্থীরা মাঠে অবস্থান করছেন, নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে নির্বাচনি প্রস্তুতি জোরদার করছেন।
এদিকে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস (৭ নভেম্বর) উপলক্ষে সারাদেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো নানা কর্মসূচি পালন করেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা, র্যালি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আগামীর আন্দোলন ও নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনি উত্তাপ ততই বাড়ছে। বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর মাঠে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। মনোনীত প্রার্থীরা গণসংযোগে ব্যস্ত, পাশাপাশি দলীয় অন্য নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন।
বিএনপির ঘোষিত ২৩৭ আসনের বাইরে বাকি ৬৩টি আসন যুগপৎ আন্দোলনে থাকা শরিক দলগুলোর জন্য রাখা হয়েছে। এসব আসনেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও আরও কয়েকটি দলও মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জানা গেছে, এনসিপি বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠনের চেষ্টা করছে।
নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুক্রবার পল্টনে এক অনুষ্ঠানে বলেন, “জামায়াতে ইসলামীসহ আট দলের গণভোটের দাবি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র। ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন না হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”
ঢাকা-২ আসনের প্রার্থী আমান উল্লাহ আমান বলেন, “নির্বাচন বানচালের কোনো অপচেষ্টা দেশবাসী সফল হতে দেবে না। নির্বাচনের ফলাফল না নিয়ে ঘরে ফিরবে না বিএনপির নেতাকর্মীরা।”
নাটোর-২ আসনের প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল মনে করছে, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। তাই তারা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে হবে।”
নির্বাচন বানচালের অংশ হিসেবে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের প্রচারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশবাসীর প্রতি।
সরকারপ্রধানের ঘোষণামতে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন বলছে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি চলছে। মাঠ প্রশাসন পুনর্বিন্যস্ত করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, “১৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন-সংক্রান্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।”
সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়ই জানিয়েছে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনই তাদের লক্ষ্য।
তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের ঘোষণা দিয়েছেন, “গণভোট জাতীয় নির্বাচনের আগেই হতে হবে, অন্যথায় রাজপথে নামব।”
সরকার দলগুলোকে এই বিরোধ মেটাতে সাত দিনের সময় দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক তৎপরতার কারণে এই সংকটের সমাধান সম্ভব হতে পারে।
সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, “সারা দেশে এখন নির্বাচনি আমেজ বইছে। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কেউ থামাতে পারবে না। সরকার জনগণের মতামতকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”







