কিশোরগঞ্জে কৃষি আবহাওয়া তথ্য প্রকল্প থেকে বঞ্চিত প্রান্তিক কৃষকরা
কিশোরগঞ্জের প্রান্তিক কৃষকেরা কৃষি আবহাওয়া তথ্য প্রকল্প থেকে কোনো সুফলই পাচ্ছেন না। কৃষিভিত্তিক আবহাওয়ার নানা তথ্য বোর্ডে হালনাগাদ করার কথা থাকলেও অযত্নে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেছে এর যন্ত্রপাতি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যন্ত্রপাতি চুরি যাওয়াসহ নানা অজুহাত দেখান কৃষি কর্মকর্তারা।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের গোজাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের দোতালার সিঁড়ির পাশের দেয়ালে লাগানো কৃষি আবহাওয়া পূর্বাভাসের বোর্ড খুলতেই দেখা যায় ভেতর পাখির বাসা। ভবনের ছাদে বোর্ড-সংশ্লিষ্ট স্বয়ংক্রিয় রেইনগজ মিটার ও সৌর প্যানেল থাকার কথা থাকলেও এর কোনোটিরই দেখা মেলেনি।
কৃষি আবহাওয়া তথ্য বোর্ড থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ু প্রবাহ, ঝড়ের পূর্বাভাসসহ ১০টি আগাম তথ্য নিয়মিত জানার কথা ছিল প্রান্তিক কৃষকদের। কিন্তু জেলার ১০৮টি ইউনিয়নে কৃষি আবহাওয়া তথ্যের সব বোর্ডই এখন অকেজো। এমনকি এখানকার অনেক কৃষকই জানেন না যে এমন কোনো প্রকল্প চালু রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষায়—
“কোন দিন কি হবে না আমরা আবহাওয়া সম্বন্ধে বুঝতাম। এই সম্বন্ধে কিছুই জানি না।”
“এই বোর্ড তো আমরা কোনদিন কেউ জানাইছে না, আমরা এই পর্যন্ত কিছুই জানি না।”
জেলার সব উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি করে ট্যাব সরবরাহ করা হলেও যন্ত্রপাতি চুরি হওয়া সহ নানা অজুহাত তুলে ধরেন দায়িত্বে থাকা কৃষি কর্মকর্তারা। তাদের দাবি—
“ট্যাবের সাথে যন্ত্রের যে সংযোগটা এটাও আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা অনেক ক্ষেত্রেই ট্রেন্ড আপ না হওয়ার কারণে সংযোগ ঘটাইতে পারে নাই।”
“রেনগেজ মিটার অনেক আগেই প্রকল্প থেকে আসছিল। এটা ইউনিয়নর পরিষদে স্থাপন করা হয়েছিল। তারপর এটা হঠাৎ করে একদিন চুরি হয়ে যায়।”
অচল আবহাওয়া তথ্য বোর্ড সচল করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা। তার ভাষায়—
“সরকারি সম্পদ চুরি হয়ে গেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে সেটি মামলার আওতায় আনার কথা। উপজেলা কৃষি অফিসাররা কী ব্যবস্থা নিয়েছে সেটি খোঁজ নিয়ে পরে আপনাদেরকে অবহিত করতে পারব।”
কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্পের জন্য কিশোরগঞ্জের ১০৮টি ইউনিয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬ কোটি টাকার বেশি।













