কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারির দৌরাত্ম্য; সাধারণ যাত্রী জিম্মি
কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নিত্যদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। টিকিট না পাওয়া, অতিরিক্ত অর্থ দাবি, স্টেশন এলাকায় অশান্ত পরিবেশ—সব মিলিয়ে রেলসেবা এখন যেন হয়রানির আরেক নাম।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুভক্ত গীন, সিসিএম মাহবুবুর রহমান এবং ডিআরএম এ বি এম কামরুজ্জামান কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে আসেন। তাদের আগমনে স্টেশন এলাকা পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও পরিপাটি পরিবেশে পরিণত হয়। দীর্ঘদিন অচল থাকা ফ্যানগুলো চালু করা হয়, প্ল্যাটফর্মে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন করা হয় এবং যাত্রীদের জন্য সব সময় বন্ধ থাকা বিশ্রামাগারও খোলা হয়। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
তবে সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, এই দৃশ্য শুধুই ভিজিটকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবে কিশোরগঞ্জের নিউটাউন এলাকায় অবস্থিত স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী টিকিট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। স্থানীয়দের দাবি, রেলওয়ে পুলিশের কিছু সদস্য ও এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে এই সিন্ডিকেট বহুদিন ধরে সক্রিয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, নিয়মিতভাবে টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম করা হয়, বাড়তি অর্থ আদায় করা হয় এবং ইচ্ছাকৃতভাবে টিকিট সংকট তৈরি করা হয়। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে কালোবাজারিদের দ্বারস্থ হন।
স্টেশন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবঘুরে ও মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণ, প্রকাশ্যে মাদক সেবন, যাত্রীদের উদ্দেশে অশালীন আচরণসহ নানাবিধ বিশৃঙ্খলা। এসব ঘটনায় যাত্রীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে ভোগেন। একজন ভুক্তভোগী যাত্রী বলেন,
“কিছু বখাটে ছেলে যাত্রীদের হয়রানি করে, উসকানি দিয়ে মারধর পর্যন্ত করে। মোবাইল বা মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও নতুন নয়। অথচ এসবের বিরুদ্ধে রেলওয়ে পুলিশের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই।”
গত বছরের জুলাই মাসে স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছিলেন। তখন সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে বদলি করা হলেও পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জিএম মো. সুভক্ত গীন জানান,
“রেলের একটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট রয়েছে। আপনাদের অভিযোগগুলো সেখানে পাঠালে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগ ছাড়া রেলওয়ে স্টেশনের এই অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি বন্ধ হবে না। তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে যাত্রীদের নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।













