হোটেল–মিষ্টান্নে অনিয়ম: ভৈরবে জরিমানা ৭ লাখ ৬০ হাজার
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। শনিবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন–বিক্রির দায়ে মোট ৫ প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার আশরাফুল ইসলাম তালুকদার, জেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর শংকর চন্দ্র পাল, র্যাব–১৪ (সিপিসি–২) কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্য, জেলা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দেশের চলমান খাদ্যে ভেজাল বিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে ভৈরব পৌর শহরের ডালপট্টি, বটতলা রোড, জগন্নাথপুর ও কালিকাপ্রসাদ বিসিক শিল্পনগরীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে জরিমানার পরিমাণ:
-
মা কমলা ভান্ডার (ডালপট্টি): মথ ডালে ক্ষতিকর রং মিশিয়ে মুগ ডাল হিসেবে বিক্রি — ১ লাখ টাকা
-
লোকনাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার (বটতলা রোড): অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি উৎপাদন — ২ লাখ টাকা
-
গোপাল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার: মিষ্টিতে ক্ষতিকর রং মেশানো ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ — ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা
-
জান্নাত হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক): ফ্রিজে বাসি খাবার সংরক্ষণ, দইয়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ না থাকা — ১ লাখ ১০ হাজার টাকা
-
জিলানী ফ্লাওয়ার মিলস অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস (বিসিক): মোড়কে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ না দেওয়া — ২ লাখ টাকা
এ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম বলেন,
“ভৈরবে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি এবং ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্ক করছি। ভেজাল খাদ্যে মানবদেহের ক্ষতিকর উপাদানসহ ক্যান্সারের উপাদান পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কিশোরগঞ্জজুড়ে অভিযান চলছে। আজ ভৈরবে মোট ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান চলমান থাকবে।”




