মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে হকারদের সংবাদ সম্মেলন
কিশোরগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া ঝুমনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি নিয়ে অপপ্রচার ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে আঠারো বাড়ি কাছারি মাঠে কিশোরগঞ্জের প্রকৃত হকার–ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলন করে কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, জাকারিয়া ঝুমনকে জড়িয়ে ‘চাঁদাবাজির গল্প’ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ।
তাদের ভাষ্য, সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সম্পূর্ণ বানোয়াট, মনগড়া ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সৃষ্টি করা। একটি স্বার্থান্বেষী মহল জেনে–বুঝে জাকারিয়া ঝুমনের সম্মানহানি ও সামাজিক অবস্থান ধ্বংসের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হকাররা স্পষ্টভাবে বলেন, জাকারিয়া ঝুমন কখনোই হকারদের কাছ থেকে এক টাকা চাঁদাও নেননি; বরং যখনই কেউ অন্যায়ভাবে টাকা তুলতে এসেছে, তিনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আজ হকারদের নামে মিথ্যা গল্প বানিয়ে তাকে অপরাধী সাজানো হচ্ছে।
হকাররা আরও জানান, সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতে যেসব বক্তব্য হকারদের নামে প্রচার করা হয়েছে, তার একটিও তাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি। বরং তাদের না জানিয়ে তৃতীয় পক্ষের সাজানো বক্তব্য ব্যবহার করে জাকারিয়া ঝুমনের চরিত্রহনন করা হয়েছে।
হকার হাবিবুর রহমান ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “আমরা যারা প্রতিদিন ফুটপাতে রুটি–রুজি করি, তাদের নামে যে মিথ্যা রিপোর্ট ছাপা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জাকারিয়া ভাইকে আমরা চিনি; তিনি কখনোই কোনো অন্যায় কাজে জড়িত ছিলেন না।”
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই অপপ্রচার হকারদের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল ব্যক্তিগত শত্রুতা ও হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জাকারিয়া ঝুমনকে টার্গেট করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ফুটপাত ইস্যু নিয়ে উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিয়ে জাকারিয়া ঝুমনকে জড়ানোর চেষ্টা করছে, যাতে তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা যায়।
হকার আল-আমীন বলেন, “যারা চাঁদাবাজি করে, ফুটপাত দখল করে, দোকান ভাঙচুর করে—তারা আলাদা। তাদের সঙ্গে জাকারিয়া ঝুমনের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং তিনি হকারদের নিরাপত্তা দিয়েছেন।”
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, জাকারিয়া ঝুমন কখনোই হকারদের কাছ থেকে টাকা নেননি, কোনো সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন না, ফুটপাতে বসার জন্য কারও কাছ থেকে জামানত নেওয়া হয়নি, কোনো হকারকে মারধর বা ভয়ভীতি দেখানোর ঘটনাও সত্য নয়। বরং তিনি সবসময় হকারদের সমস্যায় পাশে দাঁড়িয়েছেন।
হকাররা বলেন, তাদের দেওয়া কোনো বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করলেই প্রমাণ পাওয়া যাবে। একদল মানুষ জেনে–বুঝে মিথ্যা কাহিনি সাজাচ্ছে।
হকার ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করেন, এসব ভিত্তিহীন সংবাদ শহরে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, হকার–ব্যবসায়ী সম্পর্ক নষ্ট করছে এবং প্রশাসনকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। তাদের মতে, প্রশাসনকে ভুল বোঝানোর জন্যই জাকারিয়া ঝুমনের নামে চাঁদাবাজির গল্প বানানো হচ্ছে।
এক হকার বলেন, “যেখানে আসল দখলদার, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা রয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে একজন নির্দোষ মানুষকে টার্গেট করা হচ্ছে। এটা একটি হীন রাজনৈতিক খেলা।”
জাকারিয়া ঝুমন বলেন, “আমি নির্দোষ। প্রতিহিংসার কারণে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। আমার সঙ্গে শতাধিক হকার রয়েছে—আমি কখনো চাঁদাবাজি করিনি, কাউকে করতে দিইওনি।”
তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে যারা বক্তব্য দিয়েছে তাদের বেশির ভাগই প্রকৃত হকার নন। ফুটপাত দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের নাম আড়াল করতেই তাকে জড়ানো হচ্ছে।




