বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

র‌্যাব-১৪ এর পৃথক দুই অভিযানে অপহরণ–হত্যা ও মাদক মামলার দুই আসামি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:২৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
র‌্যাব-১৪ এর পৃথক দুই অভিযানে অপহরণ–হত্যা ও মাদক মামলার দুই আসামি আটক

কিশোরগঞ্জ সদর থানাধীন ভয়াবহ অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামিসহ পৃথক দুই অভিযানে দু’জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে সিপিসি-২, র‌্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প।

প্রথম ঘটনা: অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ফাতেমা আক্তার (৩৫), বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জননী। তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে কর্মস্থল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাতায়াতের সময় ধৃত আসামি মো. জাহাঙ্গীরসহ এজাহারনামীয় আসামিরা তাকে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি জানার পর ভিকটিমের ভাই আতাউর রহমান প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাকে খুন ও ভিকটিমকে অপহরণের হুমকি দেয়।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ সকাল ৯টার দিকে ভিকটিম কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ধৃত আসামি বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় তাকে অপহরণ করে সিলেট-মৌলভীবাজার এলাকায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ভিকটিমকে ভাড়া বাসায় আটকে রেখে বিবাহের প্রলোভনে তার নিকট থেকে কৌশলে ১০,০০,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভিকটিম বিবাহের জন্য চাপ দিলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

১৭ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিঃ এজাহারনামীয় আসামিদের প্ররোচনায় ধৃত আসামি ভিকটিমকে নির্যাতন করে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় ভিকটিমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ০৮ নভেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ দুপুর ১টায় তিনি মারা যান।

এই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই আতাউর রহমান কিশোরগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ৭/৪(১)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর র‌্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা বাড়ায়।

এরই ধারাবাহিকতায় ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ বিকেল ৫:৩৫টায় র‌্যাব-২, র‌্যাব-১ (উত্তরা)–এর যৌথ অভিযানে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আফতাব সিএনজি স্টেশন এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. জাহাঙ্গীর (৪৫), জেলা-কিশোরগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়।

দ্বিতীয় ঘটনা: মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

একই দিনে সিপিসি-২, র‌্যাব-১৪–এর অপর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১৯:১৫টায় কিশোরগঞ্জ সদর থানাধীন যশোদল মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউরা থানার মামলা নং–০৩, তারিখ–২৫/০৭/২০১৯; জিআর–৫২/১৯(আখাউরা); ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১৯(ক) এর অধীনে ০১ বছর ০৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. সুমন মিয়া (২৬), পিতা—মো. মফিজ মিয়া, সাং—যশোদল মধ্যপাড়া, কিশোরগঞ্জ সদর—কে গ্রেফতার করা হয়।

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে পলিন (৩০) নামে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

দণ্ডপ্রাপ্ত পলিন উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনাময়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় মাদক সেবনের উপকরণসহ ওই যুবককে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পলিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জে এসে পৌরসভার সামনে সন্তান কোলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন রিনা আক্তার মনি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর কোলে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। রিনার দাবি, তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সেলিম মিয়া গাড়ি আনতে যাওয়ার কথা বলে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

রিনা আক্তার মনি সেন্টমার্টিন, টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার বাবার নাম আবু কালাম এবং তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিনা ও সেলিমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

রিনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিনা, তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া ও তাঁদের সন্তান কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সেলিম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রেখে রিনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু দুপুর পেরিয়ে গেলেও সেলিম আর ফিরে আসেননি বলে জানান রিনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রিনা জানান, কিশোরগঞ্জে স্বামীর সঠিক ঠিকানা কিংবা তাঁর পরিচিতজনদের সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানেন না।

একদিকে কোলে ছোট সন্তান, অন্যদিকে গর্ভে আরেক সন্তান—এ অবস্থায় স্বামীর অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বসে আছেন রিনা। তাঁর এই অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিনার স্বামী সেলিম মিয়ার সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রিনা আক্তার মনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ এবং ‘জমে থাকা পানি অপসারণ করি, ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে।

এ সময় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে মশার উপদ্রব কমানো এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জি. এম. শফিউর রহমান।

অভিযান চলাকালে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।