র্যাব-১৪ এর পৃথক দুই অভিযানে অপহরণ–হত্যা ও মাদক মামলার দুই আসামি আটক
কিশোরগঞ্জ সদর থানাধীন ভয়াবহ অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামিসহ পৃথক দুই অভিযানে দু’জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে সিপিসি-২, র্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প।
প্রথম ঘটনা: অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ফাতেমা আক্তার (৩৫), বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জননী। তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে কর্মস্থল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাতায়াতের সময় ধৃত আসামি মো. জাহাঙ্গীরসহ এজাহারনামীয় আসামিরা তাকে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি জানার পর ভিকটিমের ভাই আতাউর রহমান প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাকে খুন ও ভিকটিমকে অপহরণের হুমকি দেয়।
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ সকাল ৯টার দিকে ভিকটিম কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ধৃত আসামি বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় তাকে অপহরণ করে সিলেট-মৌলভীবাজার এলাকায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ভিকটিমকে ভাড়া বাসায় আটকে রেখে বিবাহের প্রলোভনে তার নিকট থেকে কৌশলে ১০,০০,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভিকটিম বিবাহের জন্য চাপ দিলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
১৭ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিঃ এজাহারনামীয় আসামিদের প্ররোচনায় ধৃত আসামি ভিকটিমকে নির্যাতন করে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় ভিকটিমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ০৮ নভেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ দুপুর ১টায় তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই আতাউর রহমান কিশোরগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ৭/৪(১)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা বাড়ায়।
এরই ধারাবাহিকতায় ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ বিকেল ৫:৩৫টায় র্যাব-২, র্যাব-১ (উত্তরা)–এর যৌথ অভিযানে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আফতাব সিএনজি স্টেশন এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. জাহাঙ্গীর (৪৫), জেলা-কিশোরগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়।
দ্বিতীয় ঘটনা: মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
একই দিনে সিপিসি-২, র্যাব-১৪–এর অপর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১৯:১৫টায় কিশোরগঞ্জ সদর থানাধীন যশোদল মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউরা থানার মামলা নং–০৩, তারিখ–২৫/০৭/২০১৯; জিআর–৫২/১৯(আখাউরা); ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১৯(ক) এর অধীনে ০১ বছর ০৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. সুমন মিয়া (২৬), পিতা—মো. মফিজ মিয়া, সাং—যশোদল মধ্যপাড়া, কিশোরগঞ্জ সদর—কে গ্রেফতার করা হয়।













