মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

র‌্যাব-১৪ এর পৃথক দুই অভিযানে অপহরণ–হত্যা ও মাদক মামলার দুই আসামি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:২৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
র‌্যাব-১৪ এর পৃথক দুই অভিযানে অপহরণ–হত্যা ও মাদক মামলার দুই আসামি আটক

কিশোরগঞ্জ সদর থানাধীন ভয়াবহ অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মামলার প্রধান আসামিসহ পৃথক দুই অভিযানে দু’জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে সিপিসি-২, র‌্যাব-১৪, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প।

প্রথম ঘটনা: অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ফাতেমা আক্তার (৩৫), বিবাহিত এবং এক কন্যা সন্তানের জননী। তিনি স্বামীর বাড়ি থেকে কর্মস্থল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাতায়াতের সময় ধৃত আসামি মো. জাহাঙ্গীরসহ এজাহারনামীয় আসামিরা তাকে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি জানার পর ভিকটিমের ভাই আতাউর রহমান প্রতিবাদ করলে আসামিরা তাকে খুন ও ভিকটিমকে অপহরণের হুমকি দেয়।

২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ সকাল ৯টার দিকে ভিকটিম কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ধৃত আসামি বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় তাকে অপহরণ করে সিলেট-মৌলভীবাজার এলাকায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে ভিকটিমকে ভাড়া বাসায় আটকে রেখে বিবাহের প্রলোভনে তার নিকট থেকে কৌশলে ১০,০০,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। ভিকটিম বিবাহের জন্য চাপ দিলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।

১৭ অক্টোবর ২০২৫ খ্রিঃ এজাহারনামীয় আসামিদের প্ররোচনায় ধৃত আসামি ভিকটিমকে নির্যাতন করে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। গুরুতর অবস্থায় ভিকটিমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ০৮ নভেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ দুপুর ১টায় তিনি মারা যান।

এই ঘটনায় ভিকটিমের ভাই আতাউর রহমান কিশোরগঞ্জ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত-২০০৩) এর ৭/৪(১)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর র‌্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা বাড়ায়।

এরই ধারাবাহিকতায় ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ খ্রিঃ বিকেল ৫:৩৫টায় র‌্যাব-২, র‌্যাব-১ (উত্তরা)–এর যৌথ অভিযানে গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আফতাব সিএনজি স্টেশন এলাকা থেকে মামলার প্রধান আসামি মো. জাহাঙ্গীর (৪৫), জেলা-কিশোরগঞ্জকে গ্রেফতার করা হয়।

দ্বিতীয় ঘটনা: মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

একই দিনে সিপিসি-২, র‌্যাব-১৪–এর অপর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাত ১৯:১৫টায় কিশোরগঞ্জ সদর থানাধীন যশোদল মধ্যপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউরা থানার মামলা নং–০৩, তারিখ–২৫/০৭/২০১৯; জিআর–৫২/১৯(আখাউরা); ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১৯(ক) এর অধীনে ০১ বছর ০৩ মাসের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি মো. সুমন মিয়া (২৬), পিতা—মো. মফিজ মিয়া, সাং—যশোদল মধ্যপাড়া, কিশোরগঞ্জ সদর—কে গ্রেফতার করা হয়।

হোসেনপুরে জনবান্ধব পৌর প্রশাসক মোহসী মাসনাদ ৯ মাসেই বদলে গিয়েছে ভূমি সেবা ও পৌরসভার চিত্র

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে জনবান্ধব পৌর প্রশাসক মোহসী মাসনাদ ৯ মাসেই বদলে  গিয়েছে ভূমি সেবা ও পৌরসভার চিত্র

“একজন দূরদর্শী পৌর প্রশাসক, জনগণের সত্যিকারের সেবক”— মোহসী মাসনাদ–এর ৯ মাসের কর্মযজ্ঞকে এভাবেই মূল্যায়ন করছেন স্থানীয়রা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নগর উন্নয়ন, ভূমি সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও জনকল্যাণমূলক কাজে তাঁর সক্রিয় ভূমিকায় পৌরসভা হয়ে উঠছে আরও সুন্দর, সুসংগঠিত ও বাসযোগ্য।

পৌরসভার উন্নয়নে মোহসী মাসনাদের অবদানকে অসামান্য বলছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁর নেতৃত্বে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ, রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প দৃশ্যমান অগ্রগতি পেয়েছে। নগর পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তাঁর দক্ষতায় হোসেনপুর পৌরসভা এখন দৃষ্টিনন্দন ও জীবনযাপনের উপযোগী হয়ে উঠছে।

একজন পৌরবাসী এ কে এম শফিকুল হক শফিক বলেন, “আগে পৌরসভায় কাজ করাতে গেলে হয়রানির শিকার হতে হতো। এখন পৌর প্রশাসক নিজে শুনেন, দ্রুত সমাধান দেন। তিনি সত্যিকারের জনবান্ধব প্রশাসক।”

হোসেনপুর শহরের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে সরকার, প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন মোহসী মাসনাদ। ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করায় পৌর শহর অনেকটাই যানজটমুক্ত হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমেছে।

গত শীতে তীব্র শীত থেকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে রক্ষা করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সংগঠন ও সরকারের সহায়তায় ব্যাপক কম্বল বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনা করেন তিনি। নিজের দায়িত্ববোধ থেকে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এই প্রশাসক।

পৌরসভায় নাগরিকদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে প্রশাসন, জনগণ ও গণমাধ্যমকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছেন মোহসী মাসনাদ। অপরাধ দমনে আইনের কঠোর প্রয়োগ, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে তিনি কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

সন্ত্রাসবাদ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রেখে তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। বেকারত্ব ও দারিদ্র্য হ্রাসেও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে এসেছে আমূল পরিবর্তন। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যন্ত্রপাতি সংযোজন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন এবং প্রতিটি হোল্ডিংধারীর মধ্যে ডাস্টবিন বিতরণ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অভাবনীয় সাফল্য এনেছেন তিনি। নিয়মিত ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার করায় নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমেছে।

এর ফলে দুর্গন্ধ, রোগবালাই ও পরিবেশ দূষণের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন পৌরবাসী। সরকার, প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই উন্নয়ন শহরের জীবনযাত্রার মান অনেক বাড়িয়েছে।

মোহসী মাসনাদের উদ্যোগে পৌরসভায় নিয়মিত ফগিং ও কীটনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মশক নিধন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পৌর প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মশার বংশবিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি রাজস্ব খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ জমা দিয়েছেন তিনি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেও তিনি হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করায় ভূমি অফিসে এসেছে স্বস্তি। তাঁর সহজলভ্যতা ও অহংকারবর্জিত আচরণে সাধারণ মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তিনি।

স্থানীয়রা বলেন, “তিনি নিজের স্বার্থের চেয়ে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেন। যে কোনো সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়ান। এমন প্রশাসক পেয়ে আমরা গর্বিত।”

অষ্টগ্রামে নদীভাঙন প্রতিরোধে এমপি ফজলুর রহমানের উদ্যোগে শুরু ড্রেজিং কার্যক্রম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রামে নদীভাঙন প্রতিরোধে এমপি ফজলুর রহমানের উদ্যোগে শুরু ড্রেজিং কার্যক্রম
  • কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের বাঙালপাড়া ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন থেকে নোয়াগাঁও গ্রাম ও বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়ক রক্ষায় মেঘনা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের উদ্যোগে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়কটি ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সড়কটির পুনঃসংস্কারের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সংস্কারকাজ চলাকালে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে লাওড়া ও নোয়াগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী সড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং নোয়াগাঁও গ্রামও হুমকির মুখে পড়ে।
    এ মাসের শুরুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় ৮ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সড়ক রক্ষায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের লক্ষ্যে শনিবার (২৩ মে) দুপুর থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হয়।
    বাঙালপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোর্শেদ-ই কামাল বলেন, বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদীতে নতুন চর জেগে ওঠায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে সড়কভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন করেই কেবল ভাঙন রোধ সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
    উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, ড্রেজিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে নোয়াগাঁও গ্রাম, বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়ক এবং আশপাশের কৃষিজমি নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে।
    এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, “নদীভাঙন সমস্যার সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। হাওরবাসীর সব সমস্যা সমাধানে আমি অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

 

জেলা পরিষদ প্রশাসকের খামারে চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের খামারে চুরি

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের বেরুয়াইল এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের মালিকানাধীন ‘কিশোরগঞ্জ এগ্রো বেইজ ফার্ম লিমিটেড’-এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকার কিছু বখাটে, নেশাগ্রস্ত ও উশৃঙ্খল যুবকদের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খামারটির তত্ত্বাবধায়ক মো. আ. মতিন মিয়া গত ২৩ মে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এ অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি বেরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে খামারটির দেখভালের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ মে সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন শেষে মতিন মিয়া নিজ বাড়িতে চলে যান। পরদিন ২৩ মে ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে খামারে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, খামারের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক তার, সেচ মটরের তারসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি হয়ে গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগেও খামারটিতে একাধিকবার ধাপে ধাপে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে- বৈদ্যুতিক তার ও সেচ মটরের তার, চারটি ব্যাটারি যার মধ্যে দুটি সোলার ব্যাটারি এবং চারটি সেচ মটর। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
খামারটিতে নৈশপ্রহরী থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগকারী দাবি করেন, দিনের বেলায় এলাকার কিছু বখাটে, নেশাগ্রস্ত ও উশৃঙ্খল যুবককে খামারের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা মাঝে মধ্যে খামারের ভেতরে প্রবেশ করে ফল-ফলাদি সংগ্রহ করেও খেয়ে থাকে। এসব কারণে তাদের অথবা তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পক্ষ থেকে অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।