সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দলিল লেখকদের প্রেস ব্রিফিং
দলিল লেখকের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার। ঘুষ না দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করায় দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। এদিকে সাব-রেজিস্ট্রার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুই দিনের ছুটি নিয়েছেন। এতে হয়রানিতে পড়েছেন শতাধিক দলিল দাতা ও ক্রেতা। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফিং করে এমন অভিযোগ করেছেন দলিল লেখক ও জুলাই যোদ্ধা আব্দুল মোতালিব।
রোববার দুপুরে সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফোরকান উদ্দিন খান মানিক এবং সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী। আব্দুল মোতালিব জানান, শহরের চরশোলাকিয়ার আব্দুল করিমসহ তার দুই ভাই ও দুই বোনের পৈত্রিক সম্পত্তির একটি সুলেনামা দলিল রেজিস্ট্রির জন্য বৃহস্পতিবার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা দেন। কিন্তু কারও জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম লেখা ‘আব্দুর রশিদ’ এবং কারও পরিচয়পত্রে ‘আব্দুর রাশিদ’ থাকায় আপত্তি তোলেন সাব-রেজিস্ট্রার। যদিও পৌরসভার প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ ছিল—‘রাশিদ’ ও ‘রশিদ’ একই ব্যক্তি।
এ সুযোগে সাব-রেজিস্ট্রার রেজিস্ট্রি বাবদ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দলিল লেখক ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও সাব-রেজিস্ট্রার তা প্রত্যাখ্যান করেন। এসময় প্রতিবাদ করলে দলিলটি রেজিস্ট্রি না করে বরং মোতালিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। আর সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলাম রোববার ও সোমবার ছুটি নিয়েছেন।
দলিল লেখক সমিতির নেতারা জানান, সাব-রেজিস্ট্রারের কর্মস্থল মিঠামইন উপজেলা। কিশোরগঞ্জ সদরে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকায় তিনি সপ্তাহে দুই দিন এখানে দায়িত্ব পালন করেন। তবে গত বৃহস্পতিবারও তিনি সদরে অফিস করেছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিদিন ৬০–৭০টি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য জমা হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস করার নিয়ম থাকলেও তিনি নরসিংদীর বাসা থেকে রোববার মোটরসাইকেলে এসে বেলা ১২টার দিকে পৌঁছান এবং দুপুর ২টায় অফিসে বসেন। বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাত্র ৮–১০টি দলিল সম্পাদন করেই উঠে যান। পরে দলিলপ্রতি এক হাজার টাকা দিলে তিনি রাত ১০টা পর্যন্ত দলিল সম্পাদন করেন। কিছু দলিলের জন্য অতিরিক্ত অর্থও নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সদর উপজেলায় প্রায় এক বছর ধরে সাব-রেজিস্ট্রার পদটি শূন্য রয়েছে বলে জানান নেতারা। স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবি বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থায়ী কর্মকর্তা থাকলে সপ্তাহে পাঁচ দিন দলিল রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হবে। এখন রেকর্ড রুম থেকে পুরনো দলিলের নকল নিতেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ নকল নিতেও সাব-রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এখানে জেলা রেজিস্ট্রারের পদটিও শূন্য। ময়মনসিংহের দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা সপ্তাহে দুই দিন—সোমবার ও মঙ্গলবার—কিশোরগঞ্জ অফিস করেন। কিশোরগঞ্জে একজন স্থায়ী জেলা রেজিস্ট্রার প্রয়োজন বলেও নেতৃবৃন্দ মত দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলামকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। জেলা রেজিস্ট্রারকেও ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।




