শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দলিল লেখকদের প্রেস ব্রিফিং

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:১৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে দলিল লেখকদের প্রেস ব্রিফিং

দলিল লেখকের কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার। ঘুষ না দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করায় দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। এদিকে সাব-রেজিস্ট্রার অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুই দিনের ছুটি নিয়েছেন। এতে হয়রানিতে পড়েছেন শতাধিক দলিল দাতা ও ক্রেতা। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফিং করে এমন অভিযোগ করেছেন দলিল লেখক ও জুলাই যোদ্ধা আব্দুল মোতালিব।

রোববার দুপুরে সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক ফোরকান উদ্দিন খান মানিক এবং সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী। আব্দুল মোতালিব জানান, শহরের চরশোলাকিয়ার আব্দুল করিমসহ তার দুই ভাই ও দুই বোনের পৈত্রিক সম্পত্তির একটি সুলেনামা দলিল রেজিস্ট্রির জন্য বৃহস্পতিবার সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা দেন। কিন্তু কারও জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম লেখা ‘আব্দুর রশিদ’ এবং কারও পরিচয়পত্রে ‘আব্দুর রাশিদ’ থাকায় আপত্তি তোলেন সাব-রেজিস্ট্রার। যদিও পৌরসভার প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ ছিল—‘রাশিদ’ ও ‘রশিদ’ একই ব্যক্তি।

এ সুযোগে সাব-রেজিস্ট্রার রেজিস্ট্রি বাবদ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দলিল লেখক ১০ হাজার টাকা দিতে রাজি হলেও সাব-রেজিস্ট্রার তা প্রত্যাখ্যান করেন। এসময় প্রতিবাদ করলে দলিলটি রেজিস্ট্রি না করে বরং মোতালিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান। আর সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলাম রোববার ও সোমবার ছুটি নিয়েছেন।

দলিল লেখক সমিতির নেতারা জানান, সাব-রেজিস্ট্রারের কর্মস্থল মিঠামইন উপজেলা। কিশোরগঞ্জ সদরে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকায় তিনি সপ্তাহে দুই দিন এখানে দায়িত্ব পালন করেন। তবে গত বৃহস্পতিবারও তিনি সদরে অফিস করেছেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিদিন ৬০–৭০টি দলিল রেজিস্ট্রির জন্য জমা হয়। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অফিস করার নিয়ম থাকলেও তিনি নরসিংদীর বাসা থেকে রোববার মোটরসাইকেলে এসে বেলা ১২টার দিকে পৌঁছান এবং দুপুর ২টায় অফিসে বসেন। বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাত্র ৮–১০টি দলিল সম্পাদন করেই উঠে যান। পরে দলিলপ্রতি এক হাজার টাকা দিলে তিনি রাত ১০টা পর্যন্ত দলিল সম্পাদন করেন। কিছু দলিলের জন্য অতিরিক্ত অর্থও নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলায় প্রায় এক বছর ধরে সাব-রেজিস্ট্রার পদটি শূন্য রয়েছে বলে জানান নেতারা। স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার নিয়োগের দাবি বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থায়ী কর্মকর্তা থাকলে সপ্তাহে পাঁচ দিন দলিল রেজিস্ট্রি করা সম্ভব হবে। এখন রেকর্ড রুম থেকে পুরনো দলিলের নকল নিতেও সমস্যা হচ্ছে, কারণ নকল নিতেও সাব-রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষর প্রয়োজন। এখানে জেলা রেজিস্ট্রারের পদটিও শূন্য। ময়মনসিংহের দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার পথিক কুমার সাহা সপ্তাহে দুই দিন—সোমবার ও মঙ্গলবার—কিশোরগঞ্জ অফিস করেন। কিশোরগঞ্জে একজন স্থায়ী জেলা রেজিস্ট্রার প্রয়োজন বলেও নেতৃবৃন্দ মত দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাব-রেজিস্ট্রার শরীফুল ইসলামকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। জেলা রেজিস্ট্রারকেও ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

হোসেনপুরে আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে আগুনে পুড়ে ছাই তরুণ ব্যবসায়ীর স্বপ্ন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে অগ্নিকাণ্ডে তরুণ ব্যবসায়ী ইমরান মিয়ার দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ বিস্কুট ও খাদ্যসামগ্রী পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রবাস থেকে দেশে ফিরে নতুন করে ব্যবসা শুরু করা এই তরুণের স্বপ্ন আগুনে অনেকটাই ভস্মীভূত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ধনকুড়া গ্রামের হেলিপ্যাডসংলগ্ন একটি দোকানে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া উপজেলার নিরাহারগাতী গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাস থেকে দেশে ফিরে প্রায় তিন মাস আগে অলিম্পিক ও হক নামের দুটি কোম্পানির বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ডিলারশিপ নেন ইমরান মিয়া। তাঁর দোকান থেকে হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খুচরা দোকানে এসব পণ্য সরবরাহ করা হতো।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে তালা দিয়ে বাড়ি চলে যান ইমরান। পরে গভীর রাতে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক রিকশাচালক দোকানে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। বিষয়টি তিনি দোকানের মালিককে জানালে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই দোকানে থাকা বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া বলেন, “দুটি কোম্পানির প্রায় ৮ লাখ টাকার মালামাল দোকানে ছিল। কিছু মালামাল উদ্ধার করা গেলেও অধিকাংশই পুড়ে গেছে। নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। আগুনে আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল।”

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসার পুঁজি ও পণ্যসামগ্রীর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

হোসেনপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামসুল হক বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা মূল্যায়নের পর আরও স্পষ্ট হবে।

তাড়াইলে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

রুহুল আমিন প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে পৃথক র‍্যালি বের হয়ে তাড়াইল সদর বাজারের কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এসে একত্রিত হয়।

সাচাইল শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দির, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, তাড়াইল শ্রীশ্রী কেন্দ্রীয় কালী মন্দির এবং বরুহা শ্রীশ্রী পঞ্চতত্ত্ব মন্দিরের যৌথ আয়োজনে এ র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

আয়োজকদের উদ্যোগে নিজ নিজ এলাকা থেকে বের হওয়া র‍্যালিগুলো তাড়াইল সদর বাজারের কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী কালী মন্দির প্রাঙ্গণে এসে মিলিত হয়। পরে কেন্দ্রীয় কালী মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী শীতল প্রসাদ পাল আগত ভক্তদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এরপর সম্মিলিত র‍্যালিটি কেন্দ্রীয় কালী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে তাড়াইল সদর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালনা আখড়ায় গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালিতে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

র‍্যালিতে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুরো আয়োজনজুড়ে ভক্তদের মধ্যে ছিল উৎসাহ-উদ্দীপনা।

র‍্যালিতে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট তাড়াইল উপহোজেলা শাখার সভাপতি অজয় সরকার ও সাধারণ সম্পাদক অনুকুল বিশ্বাস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মুকুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক সামির সেন সাকি, কেন্দ্রীয় কালী মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী শীতল প্রসাদ পালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি অজয় সরকার বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী সত্য, ন্যায়, মানবতা ও শান্তির শিক্ষা দেয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।

ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অনুকুল বিশ্বাস বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ মানুষের মধ্যে মানবিকতা, ন্যায়বোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক সম্প্রীতিই সমাজের সৌন্দর্য। জন্মাষ্টমীর এ আয়োজনের মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক—এটাই তাঁদের প্রত্যাশা।

র‍্যালি শেষে কালনা আখড়ায় ধর্মীয় আলোচনা, নামসংকীর্তন ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

রেকর্ডের ঠিকানা বদলায়, সঙ্গী বদলায় না: তামিম-হৃদয়ের মহাকাব্যের নীরব সাক্ষী রাজা

শাহীন আলম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪০ অপরাহ্ণ
রেকর্ডের ঠিকানা বদলায়, সঙ্গী বদলায় না: তামিম-হৃদয়ের মহাকাব্যের নীরব সাক্ষী রাজা

বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটে ইতিহাসের পাতায় লেখা দুটি মহাকাব্যিক ইনিংস—তামিম ইকবালের ৩৩৪ এবং তাওহীদ হৃদয়ের ৩৫০। বিস্ময়করভাবে, দুই ঐতিহাসিক কীর্তির সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে আছে রেজাউর রহমান রাজার নাম।

২০২০ সালে তামিম ইকবালের ৩৩৪ রানের অবিস্মরণীয় ইনিংসের পর মাঠে দাঁড়িয়ে গার্ড অব অনার দেওয়ার গৌরবময় মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন রাজা। সময়ের স্রোত পেরিয়ে এবার নিজেই হয়ে উঠলেন আরেক ইতিহাসের অংশ- তাওহীদ হৃদয়ের ৩৫০ রানের মহাকাব্যিক ইনিংসে ছিলেন তাঁর ব্যাটিং সঙ্গী, দৃঢ় হাতে সামলেছেন অন্য প্রান্ত।

একবার ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছেন, আরেকবার ইতিহাসের পাশে দাঁড়িয়ে গড়েছেন স্মরণীয় মুহূর্ত।

তামিমের ৩৩৪ থেকে হৃদয়ের ৩৫০—দুই প্রজন্মের দুই মহাকাব্য, আর দুটির মাঝখানে এক রাজা।
বাংলাদেশের লাল বলের ক্রিকেটের এই গল্পে রেজাউর রহমান রাজা তাই শুধু একজন ক্রিকেটার নন—তিনি হয়ে থাকলেন ইতিহাসের দুই স্মরণীয় অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী ও সহযাত্রী।