কিশোরগঞ্জ-১ আসন বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া
সন্ধ্যায় বিএনপির ঐক্যবদ্ধ ৫ নেতার মশাল মিছিল(উপরে) বিকালে ধানের শীষের মিছিলে কর্মীদের হাতে রামদা(নীচে)
কিশোরগঞ্জ জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন হলো কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) আসন। প্রথম পর্যায়ে এ আসনে বিএনপি প্রার্থিতা ঘোষণা না করলেও গত ৪ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা বিএনপির সাবেক ও বর্তমান নেতৃত্বসহ জেলা বিএনপির বড় অংশ ফুঁসে ওঠে। তারা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) শহরের স্টেশন রোডের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থী মাজহারুল ইসলামকে চাঁদাবাজ ও সুবিধাবাদী আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ হিলালী, সাবেক বিভাগীয় স্পেশাল জজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম খান চুন্নু, সাবেক সহসভাপতি মো. রুহুল হোসাইন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও যুবদলের সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ভিপি সোহেল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, জেলার সভাপতি শরীফুল আলমের আর্থিক সহযোগিতা ও ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য আলম গংরা একজন বেকার চাঁদাবাজকে মনোনয়ন দিয়েছেন। অথচ এ আসনে ’৬৯ থেকে যারা নির্বাচন করেছেন তারা দেশের সম্পদ। তাদের মতো ব্যক্তির সহযোগী হওয়ার যোগ্যতা চাঁদাবাজ মাজহারুলের নেই। এখান থেকে প্রার্থী ও সংসদ সদস্য হয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি মরহুম সৈয়দ নজরুল ইসলাম, মো. আশরাফ উদ্দিন মাস্টার, ডাক্তার ফজলুল করিম, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, মো. আলমগীর হোসেন, মাওলানা আতাউর রহমান খান, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি। এসব সম্মানিত ব্যক্তির কাছে একজন বেকার চাঁদাবাজ কীভাবে প্রার্থী হন এমন প্রশ্ন রাখেন বক্তারা।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে এক মশাল মিছিল পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে বের হয়ে সারা শহর প্রদক্ষিণ করে শহরের মানুষকে জানান দেন। মিছিল শেষে বক্তব্য রাখেন সাবেক স্পেশাল জজ মো. মজিবুল হক চুন্নু সহ অন্যান্য নেতারা। এ সময় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামকে ‘অযোগ্য’ আখ্যায়িত করেন বক্তারা। একই সঙ্গে তার মনোনয়নের জন্য জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমকে দায়ী করেন। তাকে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলেও উল্লেখ করা হয়। অবিলম্বে মনোনয়ন বাতিল করে ‘যোগ্য ও ত্যাগী’ নেতাকে মনোনীত করার দাবি তোলেন তারা। সমাবেশে রেজাউল করিম খান বলেন, ‘এটা আমার শেষ নির্বাচন। কাজেই এই নির্বাচনে অবশ্যই অংশ নেব।’
এ আসনে অন্তত আটজন মনোনয়নপ্রত্যাশী সক্রিয় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন মাজহারুল ইসলাম।
রবিবার(৭ ডিসেম্বর) এও বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে রেজাউল করিম খান, রুহুল হোসাইন, শরিফুল ইসলাম ও খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল এই চার নেতা এক রিকশায় চড়ে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। রোববার রাতের মিছিলে জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম ও মনোনীত প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেওয়া হয়। পরে স্টেশন রোড এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
মনোনয়ন পাওয়া মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘বড় দলে অনেক প্রার্থী থাকাটাই স্বাভাবিক। সবাইকে তো আর মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। আমার প্রতি দলের আস্থা আছে বলেই মনোনয়ন দিয়েছে। রাজনীতির শিষ্টাচার ও শালীনতা বজায় রাখা উচিত।’
জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম বলেন, ‘আমি মনে করি, দল যোগ্য লোককেই মনোনয়ন দিয়েছে। সবাইকে শান্ত থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার জন্য কাজ করা উচিত।’
মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে লাগাতার তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে মশাল মিছিল, মঙ্গলবার হোসেনপুর নতুন বাজার থেকে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল, বুধবার সারা শহরে খণ্ড খণ্ড মিছিলের মাধ্যমে মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে স্টেশন রোডের দলীয় কার্যালয়ে সমাবেশ।







