রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিতর্কিত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কিশোরগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বিতর্কিত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে কিশোরগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ–০১ (কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর) আসনে বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদ ও তা বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় কিশোরগঞ্জ শহরের স্টেশন রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ (ভিপি সোহেল) উপস্থিত নেতৃবৃন্দের পরিচয় তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাসুদ হিলালী, সাবেক বিভাগীয় জজ ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু এবং জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রুহুল হোসাইন।

ভূমিকায় ভিপি সোহেল বলেন, টানা ১৪ দিন ধরে চলমান আন্দোলন, অবস্থান কর্মসূচি ও মশাল মিছিল কেবল একটি মনোনয়নের বিরুদ্ধে নয়; এটি কিশোরগঞ্জের ভবিষ্যৎ রক্ষার আন্দোলন। তিনি অভিযোগ করেন, ভৈরবকে জেলা করে কিশোরগঞ্জকে দ্বিখণ্ডিত করার অঙ্গীকারে নির্বাচনে মাঠে নামা শরীফুল আলমের মদদপুষ্ট মাজহারুল ইসলামের মনোনয়নে সাধারণ জনগণ অসন্তুষ্ট। দলের বৃহত্তর স্বার্থেই এই মনোনয়ন বাতিল করে যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠ করেন রেজাউল করিম খান চুন্নু। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে শিক্ষিত, ত্যাগী, ফ্যাসিবাদী সরকারের দ্বারা নির্যাতিত ও নিগৃহীত যোগ্য প্রার্থীদের উপেক্ষা করে এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যিনি এর আগে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দুইবার মনোনীত মেয়র প্রার্থী হয়েও পরাজিত হয়েছেন। এমনকি নিজ কেন্দ্রেও তিনি সাত ভোটে পরাজিত হন বলে দাবি করা হয়। বক্তৃতায় আরও অভিযোগ করা হয়, স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে আঁতাত থাকায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বিএনপির মূল স্লোগান—‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ’। সে অনুযায়ী দেশের স্বার্থে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম একজন সৎ, সুশিক্ষিত, জনবান্ধব, জনপ্রিয় ও আদর্শিক প্রার্থী প্রয়োজন। এ জন্য মাজহারুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করে অন্য কোনো জনসমর্থিত যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।

পরে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা। সমাপনী পর্বে মাসুদ হিলালী ও রুহুল হোসাইন সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। শেষে খালেদ সাইফুল্লাহ (ভিপি সোহেল) আগামী ২৩ ডিসেম্বর (সোমবার) পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন এবং সংবাদ সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

অষ্টগ্রামে নদীভাঙন প্রতিরোধে এমপি ফজলুর রহমানের উদ্যোগে শুরু ড্রেজিং কার্যক্রম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
অষ্টগ্রামে নদীভাঙন প্রতিরোধে এমপি ফজলুর রহমানের উদ্যোগে শুরু ড্রেজিং কার্যক্রম
  • কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের বাঙালপাড়া ইউনিয়নে ভয়াবহ নদীভাঙন থেকে নোয়াগাঁও গ্রাম ও বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়ক রক্ষায় মেঘনা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের উদ্যোগে কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়কটি ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি সড়কটির পুনঃসংস্কারের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে সংস্কারকাজ চলাকালে মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙনে লাওড়া ও নোয়াগাঁও গ্রামের মধ্যবর্তী সড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং নোয়াগাঁও গ্রামও হুমকির মুখে পড়ে।
    এ মাসের শুরুতে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় ৮ হাজার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সড়ক রক্ষায় নদীর গতিপথ পরিবর্তনের লক্ষ্যে শনিবার (২৩ মে) দুপুর থেকে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করা হয়।
    বাঙালপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোর্শেদ-ই কামাল বলেন, বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদীতে নতুন চর জেগে ওঠায় নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে সড়কভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন করেই কেবল ভাঙন রোধ সম্ভব বলে তিনি মত দেন।
    উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, ড্রেজিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে নোয়াগাঁও গ্রাম, বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়ক এবং আশপাশের কৃষিজমি নদীভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে।
    এ বিষয়ে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, “নদীভাঙন সমস্যার সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। হাওরবাসীর সব সমস্যা সমাধানে আমি অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

 

জেলা পরিষদ প্রশাসকের খামারে চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের খামারে চুরি

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের বেরুয়াইল এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খানের মালিকানাধীন ‘কিশোরগঞ্জ এগ্রো বেইজ ফার্ম লিমিটেড’-এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকার কিছু বখাটে, নেশাগ্রস্ত ও উশৃঙ্খল যুবকদের প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খামারটির তত্ত্বাবধায়ক মো. আ. মতিন মিয়া গত ২৩ মে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এ অভিযোগ দাখিল করেন। তিনি বেরুয়াইল গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে খামারটির দেখভালের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ মে সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন শেষে মতিন মিয়া নিজ বাড়িতে চলে যান। পরদিন ২৩ মে ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে খামারে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, খামারের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক তার, সেচ মটরের তারসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক মালামাল চুরি হয়ে গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগেও খামারটিতে একাধিকবার ধাপে ধাপে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে- বৈদ্যুতিক তার ও সেচ মটরের তার, চারটি ব্যাটারি যার মধ্যে দুটি সোলার ব্যাটারি এবং চারটি সেচ মটর। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
খামারটিতে নৈশপ্রহরী থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগে একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র পরিকল্পিতভাবে এ চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগকারী দাবি করেন, দিনের বেলায় এলাকার কিছু বখাটে, নেশাগ্রস্ত ও উশৃঙ্খল যুবককে খামারের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তারা মাঝে মধ্যে খামারের ভেতরে প্রবেশ করে ফল-ফলাদি সংগ্রহ করেও খেয়ে থাকে। এসব কারণে তাদের অথবা তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিযোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার পক্ষ থেকে অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।

হোসেনপুরের গোবিন্দপুর ইউনিয়নে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের গোবিন্দপুর ইউনিয়নে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ শুরু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ভিজিএফ (VGF) খাদ্যশস্য (চাল) বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) থেকে গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যক্রম আগামী ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত চলমান থাকবে।

এবারের কর্মসূচিতে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৭ হাজার তালিকাভুক্ত পরিবারকে জনপ্রতি ১০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সুশৃঙ্খলভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, হোসেনপুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূরে আলম এরশাদ, ৩ নম্বর গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিদ্দিক হোসেন মেম্বারসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিতরণ কার্যক্রম চলাকালে উপকারভোগীদের মাঝে স্বস্তি ও সন্তোষ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বলেন, ঈদের আগে এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন।