হাদির মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে শোক, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবরে তাঁর গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার খাসমহল এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আত্মীয়স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী বাড়িতে ভিড় করেন। কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের সদস্যরা কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সঙ্গে কথা বলা হবে। বর্তমানে হাদির বাড়িতে তাঁর বোন মাছুমা সুলতানা বিন হাদি ও ভগ্নিপতি আমির হোসেন অবস্থান করছেন।
হাদির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিবেশী ও সহপাঠীরা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা রাখা একজন সাহসী কণ্ঠকে কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি—এ প্রশ্ন আজ এলাকাবাসীর।
গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) মতিঝিল এলাকায় গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট সড়কে মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার শুক্রবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ফেসবুক স্ট্যাটাসে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। সংগঠনটি জানায়, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ভূমিকা রাখায় ওসমান হাদিকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন।










