শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিলে বিএনপি কর্মীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মশাল মিছিলে বিএনপি কর্মীর মৃত্যু

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে বিএনপির বিতর্কিত মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আয়োজিত মশাল মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে মো. মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মশাল মিছিল শুরুর প্রাক্কালে হঠাৎ করে মো. মিজানুর রহমান অসুস্থ অনুভব করেন এবং একপর্যায়ে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মো. মিজানুর রহমান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া ইউনিয়নের প্যারাভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের মো. চান্দু মিয়ার ছেলে এবং মারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর বিএনপি কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মাজহারুল ইসলামকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়ার পর তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার রাতে পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়।

মিজানুর রহমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চলমান মশাল মিছিল দ্রুত শেষ করে নেতাকর্মীরা হাসপাতালে ছুটে যান। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেল আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের মিজান কিচ্ছুক্ষণ আগেও আমাদের সামনে আমাদের সঙ্গে ছিল। অথচ এখন সে নেই। তার সর্বশেষ যে চাওয়া ছিল, আমরা তা পূরণ করব। কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুরবাসীর জন্য একটি সুন্দর আগামী গড়ে তুলতে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব—ইনশাল্লাহ।”

এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রুহুল হোসাইন বলেন, “কিশোরগঞ্জের রাজনীতিকে নিয়ে যদি শরীফুল আলম এইভাবে না খেলতেন, তাহলে আজ এই আন্দোলন হতো না, আর মিজানকেও এভাবে হারাতে হতো না।”

সাবেক স্পেশাল জজ ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম খান চুন্নু বলেন, “যাদের সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ডের কারণে আমাদের এই আন্দোলন চালিয়ে যেতে হচ্ছে, তাদের এই মৃত্যুর দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “মশাল মিছিল চলাকালে একজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করেছেন—এমন তথ্য আমরা পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

শনিবার বাদ জোহর প্যারাভাঙ্গা আবুল হাজী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুম মিজানুর রহমানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নামাজে জানাজায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ হিলালী, সাবেক স্পেশাল জজ রেজাউল করিম খান চুন্নু, সাবেক জেলা সহসভাপতি রুহুল হোসাইন, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ ভিপি সোহেলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বাজিতপুরে দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় একটি দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে।

উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর বাজারসংলগ্ন মোদক বাড়ির আকরাবাড়ি দুর্গা মন্দিরকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুবোধ মোদক ও রনজিত মোদক—দুই ভাইয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল।

অভিযোগ রয়েছে, এই বিরোধের জেরে রনজিত মোদকের পক্ষের লোকজন সুবোধ মোদক, তার স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করে। পরে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে সুবোধ মোদক পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজনকে নিয়ে সন্ধ্যায় একটি সালিশের আয়োজন করেন। তবে ওই সালিশে রনজিত মোদক উপস্থিত ছিলেন না।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার মোদক অভিযোগ করেন, সালিশে আসা কিছু লোকজন মন্দিরের টিনের বেড়া ভাঙচুর করে এবং প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

অন্যদিকে দেবু মোদক দাবি করেন, সীমানা বিরোধের জেরে রনজিত মোদকের ছেলে সৌরভ মোদক (২৮) সুধীর মোদকের ছেলে সূজন মোদক (১৪) ও মানিকা মোদককে মারধর করে। এতে সূজন মাথায় আঘাত পেয়ে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলে প্রতিমাটি উল্টো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে এবং মন্দিরের টিনের বেড়াও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-এর বাজিতপুর উপজেলা আহ্বায়ক সুজন বণিক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সালিশ বসার কথা থাকলেও এক পক্ষ অনুপস্থিত ছিল। পরে মন্দিরে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

পিরিজপুর বাজারের সভাপতি মো. কবির হোসেন বলেন, “এটি কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা নয়; বরং দুই পরিবারের ব্যক্তিগত বিরোধ। প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। প্রতিমাটি পরিকল্পিতভাবে উল্টে ফেলা হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।”

বাজিতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ জানান, খবর পেয়ে তিনি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট সার্কেল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক সীমানা বিরোধ থেকে সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রতিমাটি উল্টো অবস্থায় পাওয়া গেলেও ভাঙচুরের সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে মন্দিরের টিনের বেড়া আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মন্দির কমিটিকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।”

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জালাল উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কিশোরগঞ্জে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড শুরু

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড শুরু

“উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে শুরু হয়েছে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড।

১৮ থেকে ২০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে কিশোরগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এবং পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আসলাম মোল্লা। এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, প্রযুক্তিনির্ভর মডেল ও বিজ্ঞানভিত্তিক উপকরণ প্রদর্শন করেন, যা দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

আয়োজকরা জানান, তিনদিনব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি, গবেষণামুখী মনোভাব তৈরি এবং নতুন উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তারা আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

ভৈরবে তেলের সংকটে নৌযান চলাচল ব্যাহত, অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ভৈরবে তেলের সংকটে নৌযান চলাচল ব্যাহত, অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জ্বালানি তেলের সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন—উভয় ক্ষেত্রেই স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

বন্দরনগরী ভৈরব বাজার দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসাকেন্দ্র। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নৌকা, লঞ্চ ও স্টিমারযোগে বিপুল পরিমাণ পণ্য এখানে আসে। আবার এখান থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্য কিনে নিজ নিজ এলাকায় নিয়ে যান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে নৌযান মালিক ও চালকরা চরম সংকটে পড়েছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, ভৈরব বাজারের পণ্য পরিবহন ও যাত্রী চলাচলের একটি বড় অংশই নৌপথনির্ভর। কিন্তু পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় নৌকা, ট্রলার, খেয়া নৌকা, লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

নৌযান মালিকদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় খুচরা বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। পেট্রোলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে প্রতি লিটারে প্রায় ৫০ টাকা। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে নৌযান চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিতে হতে পারে অথবা ভাড়া বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর ফলে ডিলার ও এজেন্টরা পর্যাপ্ত ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন পাচ্ছেন না। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের নৌযানের ওপর।

এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

‘বৃষ্টি’ লঞ্চের মালিক মনির হোসেন বলেন, আগে এজেন্সিগুলো থেকে নির্ধারিত মূল্যে তেল পাওয়া যেত। এখন তারা তেল না পাওয়ার কথা জানিয়ে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে তেল কিনতে হচ্ছে।

লঞ্চের সারেং ওয়ালী উল্লাহ বলেন, সড়কপথে যাতায়াত সহজ হওয়ায় এমনিতেই লঞ্চে যাত্রী কম। তার ওপর তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এতে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খেয়াঘাটের মাঝিরা জানান, তেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা। কিন্তু ভাড়া বাড়েনি। ফলে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে তেল না পাওয়ায় নৌযান বন্ধ রাখার পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।

ভৈরব বাজার জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সভাপতি অহিদ মিয়া জানান, সমিতির পক্ষ থেকে বিক্রেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—লিটারে নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে তেল বিক্রি করা যাবে না। কেউ অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহায়তায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং বাজারে তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।