কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল
কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হয়েছে।
একই আসনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে এ আপিল আবেদন জমা দেন।
আপিলের পাশাপাশি নিজের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার দাবিতে তিনি পৃথক আরেকটি আবেদনও করেছেন। শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের অভিযোগ, আপিল প্রস্তুতির জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকা তাকে সরবরাহ করা হয়নি।
আপিল আবেদনে উল্লেখ করা হয়, রিটার্নিং কর্মকর্তা হলফনামার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন। হলফনামা সঠিকভাবে পরীক্ষা করা হলে এ মনোনয়ন বৈধ হওয়ার সুযোগ ছিল না বলেও দাবি করা হয়।
আপিলের নথি অনুযায়ী, সৈয়দ এহসানুল হুদার হলফনামায় প্রার্থীর ছবি, স্বাক্ষর ও তারিখ অনুপস্থিত। এছাড়া ৩ নম্বর কলামের ‘খ’ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য, ‘গ’ অনুচ্ছেদে অসম্পূর্ণ তথ্য এবং ৭ নম্বর কলামের ‘ক’ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে। ৮ নম্বর কলাম পূরণ করা হয়নি এবং ১০ নম্বর কলামের ‘ক’ অনুচ্ছেদেও ত্রুটি রয়েছে। একই সঙ্গে হলফনামাটি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিক দ্বারা সত্যায়িত নয় বলেও আপিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘আমার মনোনয়নপত্রে সামান্য তথ্যগত ভুল দেখিয়ে তা বাতিল করা হয়েছে। অথচ সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়নপত্রে একাধিক ভুল ও অসত্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও সেটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্বাক্ষর, ছবি ও তারিখ ছাড়া কোনো হলফনামা কীভাবে গ্রহণযোগ্য হয়—সেটিই আমার প্রশ্ন।’
এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, তিনি কিশোরগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বাজিতপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৃথক দুটি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। সব তথ্য সঠিক থাকায় তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের আবেদনের পর ৭ জানুয়ারি রেকর্ড রুম থেকে তাকে বৈধ ঘোষিত প্রার্থীদের তালিকার দুই কপি সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই বিধি অনুযায়ীই করা হয়েছে এবং কেউ সংক্ষুব্ধ হলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের দেওয়া কপিতে দেখা গেছে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার হলফনামায় তার স্বাক্ষর নেই।
উল্লেখ্য, ৩ ও ৪ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৬১টি মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে ৩৭ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং ২৪ জনের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
এর আগে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রথমে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির মনোনয়ন পান। পরে তাকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া সৈয়দ এহসানুল হুদাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।










