সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

রাজনীতি কোনো পেশা হতে পারে না: বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আনিসুজ্জামান খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
রাজনীতি কোনো পেশা হতে পারে না: বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আনিসুজ্জামান খোকন

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুজ্জামান খোকন বলেছেন, রাজনীতি কোনো পেশা হতে পারে না। যাদের অন্য কোনো পেশা নেই, তাদের জন্য রাজনীতি মানে চাঁদাবাজি ও অর্থ কেলেঙ্কারি।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। খোকন আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১৭ এবং কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, “আমেরিকায় একজন আমাকে বলেছে, সে এমন একজন সংসদ সদস্যকে চেনে যার সম্পদের পরিমাণ ৩০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকজনই এত সম্পদের মালিক হতে পারে। অথচ তারা বড় বড় ভাষণ দেয়, বস্তিতে গিয়ে ভবন করার প্রতিশ্রুতি দেয়, আবার ভোটও কিনে নেয়।”

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা-১৭ আসনে আমার এক প্রতিপক্ষের মাসিক আয় তিন কোটি টাকা। তিনি আমার ছেলের থেকেও বয়সে ছোট। আমি কি এমপি ছিলাম না, ক্ষমতায় ছিলাম না? তাহলে আমার কাছে এত টাকা নেই কেন?” তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি নেতা বেগম খালেদা জিয়া তাকে সংসার চালানোর জন্য ১০ লাখ টাকা এনে দিয়েছিলেন।

সাবেক সংসদ সদস্য খোকন অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনীতিতে টাউট-বাটপাররা দাপট দেখাচ্ছে। টাকা দিয়ে ভোট এবং মানুষ কেনা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা ভাঙতেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনও আমাদের সঠিক সুযোগ দেয় না। তারা বিশেষ স্বার্থে সরকার বসানোর খেলা খেলছে। দেশের মিডিয়াও সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার নেই।”

আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমান ও মওলানা ভাসানীর মতো নেতারা এখন রাজনীতিতে নেই। দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আবারও যুদ্ধ দরকার।

উল্লেখ্য, আনিসুজ্জামান খোকন ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে কর্নেল আবু তাহেরের অধীনে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ক্লোসাকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্জেন্টাইন মহাতারকা

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
ক্লোসাকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা আর্জেন্টাইন মহাতারকা

ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের জন্ম দিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে গোল করে তিনি বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৭-তে উন্নীত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভেঙে পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপ ইতিহাসের একক সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে এসেছেন মেসি।

এর আগে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে মেসি ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতে একটি পেনাল্টি মিস করলেও পরে ৩৮তম মিনিটে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জাল কাঁপিয়ে ইতিহাস নিজের নামে লিখে নেন তিনি।

বিশ্বকাপে মেসির এই ১৭তম গোল শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এক অসাধারণ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরেকটি মাইলফলক। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর ছয়টি আসরে ধারাবাহিকভাবে খেলতে নেমে তিনি একের পর এক রেকর্ড গড়েছেন এবং এখন গোলের তালিকাতেও সবার ওপরে অবস্থান করছেন।

মিরোস্লাভ ক্লোসা ২০০২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে ১৬ গোল করেছিলেন এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে সেই রেকর্ড অক্ষুণ্ন ছিল। অবশেষে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন মেসি, যিনি আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সফল ও প্রভাবশালী খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন।

বিশ্বকাপে এখনও আর্জেন্টিনার আরও ম্যাচ বাকি রয়েছে। ফলে মেসির সামনে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগও উন্মুক্ত থাকছে। ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা, এই বিশ্বকাপেও তাঁর নেতৃত্বে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে শক্ত অবস্থানে থাকবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে কটিয়াদীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে কটিয়াদীতে  ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে উপজেলা ছাত্রদলের উদ্যোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং তাদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কথিত অপতৎপরতা, দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

সোমবার বিকেলে কটিয়াদী উপজেলা সড়কসংলগ্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় অতিক্রম করে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং কথিত দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মিছিলে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মুশফিকুর রহমান ওবায়দুর, কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তসরিফুল হাছিব, সদস্যসচিব আশিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব মো. নাসিম মিয়া। এছাড়া উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

পরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্টের লক্ষ্যে কোনো ধরনের নাশকতা বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। তাঁদের অভিযোগ, একটি চক্র দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা ব্যাহত করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সোচ্চার ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় ছাত্রদল অতীতের মতো ভবিষ্যতেও রাজপথে সক্রিয় থাকবে। জনগণের জানমাল ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পারে—এমন যেকোনো অপতৎপরতা কঠোরভাবে প্রতিহত করার কথাও তারা উল্লেখ করেন।

এ সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্রদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও দেশের স্বার্থবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় রাজপথে সক্রিয় থাকবে।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন

“রাখিব নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (২২ জুন ২০২৬) কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।

কারা প্রাঙ্গণে পৌঁছালে জেলা প্রশাসককে কারা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে তিনি কারাগারের সার্বিক পরিবেশ, বন্দিদের আবাসন ব্যবস্থা, খাদ্যের মান, চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক কারাবন্দিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের বিভিন্ন অভিযোগ, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। প্রতিকারযোগ্য বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন তিনি।

এ সময় তিনি বন্দিদের জন্য সরবরাহকৃত খাদ্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং কারা ক্যান্টিনে বিক্রিত পণ্যের মূল্য ও মান নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অসুস্থ বন্দিদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা এবং নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

জেলা প্রশাসক কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা, পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রম জোরদার এবং একটি সংশোধনমুখী পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি কার্যকরের স্থান নয়; বরং একজন মানুষকে সৎ, দায়িত্বশীল ও সমাজোপযোগী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার একটি কার্যকর শোধনাগার হওয়া উচিত।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কারা কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতেও আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।