রাজনীতি কোনো পেশা হতে পারে না: বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আনিসুজ্জামান খোকন
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুজ্জামান খোকন বলেছেন, রাজনীতি কোনো পেশা হতে পারে না। যাদের অন্য কোনো পেশা নেই, তাদের জন্য রাজনীতি মানে চাঁদাবাজি ও অর্থ কেলেঙ্কারি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। খোকন আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা-১৭ এবং কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, “আমেরিকায় একজন আমাকে বলেছে, সে এমন একজন সংসদ সদস্যকে চেনে যার সম্পদের পরিমাণ ৩০ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে হাতে গোনা কয়েকজনই এত সম্পদের মালিক হতে পারে। অথচ তারা বড় বড় ভাষণ দেয়, বস্তিতে গিয়ে ভবন করার প্রতিশ্রুতি দেয়, আবার ভোটও কিনে নেয়।”
তিনি আরও বলেন, “ঢাকা-১৭ আসনে আমার এক প্রতিপক্ষের মাসিক আয় তিন কোটি টাকা। তিনি আমার ছেলের থেকেও বয়সে ছোট। আমি কি এমপি ছিলাম না, ক্ষমতায় ছিলাম না? তাহলে আমার কাছে এত টাকা নেই কেন?” তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপি নেতা বেগম খালেদা জিয়া তাকে সংসার চালানোর জন্য ১০ লাখ টাকা এনে দিয়েছিলেন।
সাবেক সংসদ সদস্য খোকন অভিযোগ করেন, বর্তমান রাজনীতিতে টাউট-বাটপাররা দাপট দেখাচ্ছে। টাকা দিয়ে ভোট এবং মানুষ কেনা হচ্ছে। এই ব্যবস্থা ভাঙতেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, “নির্বাচন কমিশনও আমাদের সঠিক সুযোগ দেয় না। তারা বিশেষ স্বার্থে সরকার বসানোর খেলা খেলছে। দেশের মিডিয়াও সরকারের পক্ষে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। ন্যায়বিচার নেই।”
আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, বঙ্গবন্ধু, জিয়াউর রহমান ও মওলানা ভাসানীর মতো নেতারা এখন রাজনীতিতে নেই। দেশের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আবারও যুদ্ধ দরকার।
উল্লেখ্য, আনিসুজ্জামান খোকন ১৯৭৯ সালে বিএনপি থেকে ময়মনসিংহ-১৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একান্ত ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে কর্নেল আবু তাহেরের অধীনে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।










