বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ ১৪৩২

করিমগঞ্জে ‘ভোটের গাড়ি’ প্রচারণা: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
করিমগঞ্জে ‘ভোটের গাড়ি’ প্রচারণা: জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ ‘ভোটের গাড়ি’র মাধ্যমে প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে করিমগঞ্জ মডেল মসজিদের সামনে আয়োজিত এক ভিডিও প্রদর্শনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আল-আমিন কবির, উপজেলা প্রকৌশলী শফিকুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তপন চন্দ্র শীল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ আকন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান দুলাল সিকদার, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি হাবিবুর রহমান বিপ্লবসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের নানা স্তরের মানুষ।

ভ্রাম্যমাণ ভোটের গাড়ির মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই যোদ্ধাদের ভূমিকা, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা এবং ফেলানী হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত পাঁচটি পাবলিক সার্ভিস অ্যানাউন্সমেন্ট (পিএসএ) ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে অতীতের গণতন্ত্রহীনতা, সীমান্ত হত্যা, তরুণ সমাজ ও নারীদের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানান, সারাদেশে মোট ১০টি ‘ভোটের গাড়ি’ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এই কার্যক্রমের ধারাতেই  গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

সেদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), সদর উপজেলার ইউএনওসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং জেলার সর্বস্তরের জনগণ।

জেলা সদরের পাশাপাশি বিভিন্ন উপজেলাতেও ভোটের গাড়ির মাধ্যমে গণভোট ও নির্বাচনবিষয়ক প্রচারণা কার্যক্রম চলবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

কিশোরগঞ্জে ৩০ বিএনপি নেতার পর ২৭ যুবদল নেতা বহিষ্কার

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ৩০ বিএনপি নেতার পর ২৭ যুবদল নেতা বহিষ্কার

কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী–বাজিতপুর) সংসদীয় আসনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির ৩০ নেতাকে বহিষ্কারের পর তৃতীয় ধাপে নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার ২৭ জন যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন নিকলী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান এবং বাজিতপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মোস্তফা আলী জাহাঙ্গীরসহ মোট ২৭ জন নেতা।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের নির্দেশে এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার ধানের শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এবং বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের হাঁস প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলার ১৩ জন বিএনপি নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রকাশ করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরও আগে, গত ২৬ জানুয়ারি একই দুই উপজেলার ১৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে এ পর্যন্ত মোট ৩০ জন বিএনপি নেতা এবং তৃতীয় ধাপে ২৭ জন যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়া শতাধিক দলীয় নেতার মধ্যে বহিষ্কারের আতঙ্ক বিরাজ করলেও অনেকে এখনো স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের হাঁস প্রতীক নিয়ে মাঠে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় নেতারা ধারণা করছেন, নির্বাচনের আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত নেতার সংখ্যা ৫৭ ছাড়িয়ে শতাধিক হতে পারে।

শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আর নেই

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল (৫১) মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নুরুজ্জামান বাদল হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে রাত ২টার দিকে শহরের প্রবেশমুখ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই মাসুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, শেরপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল আনুমানিক রাত ৩টার দিকে কিডনিজনিত রোগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। পোস্টে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
ভৈরবে ট্রাকচাপায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত, চালক আটক

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রাকচাপায় আব্দুস সাদেক (৭০) নামে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ভৈরব দুর্জয়ের মোড় এলাকায় নূরানি মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুস সাদেক ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের জাফরনগর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি শ্রীনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি শ্রীনগর ইউনিয়ন বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আটক ট্রাকচালক মো. হেলিম মিয়া (৪০) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার চরচারতলা গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভৈরববাজারে কাজ শেষে ভৈরব দুর্জয়ের মোড়ের নূরানি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।