রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ ১৪৩২
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ ১৪৩২

কটিয়াদীতে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি

কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তীব্র। এই আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান দীর্ঘদিনের মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এই ঐক্যের ফলে আসনটিতে ভোটের সমীকরণ পালটে গেছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা আনন্দিত এবং কাজের নতুন গতি অনুভব করছেন।

শনিবার রাতে নির্বাচনের ঠিক ১১ দিন পূর্বে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কটিয়াদী বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের প্রচেষ্টায় এবং কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের মধ্যস্থতায় দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। এর আগে ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চনসহ নেতৃবৃন্দ প্রথমে কটিয়াদী স্বপ্নকুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে এবং পরে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। উভয় পক্ষের মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্য স্থাপন করা হয়।

এ সময় ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সবাইকে আহ্বান জানান মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে একত্রিত হওয়ার জন্য। তিনি বলেন, “বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়। দলের স্বার্থে এবং ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ের স্বার্থে আমাদের যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করুন।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শহিদুজ্জামান কাকন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক কৃষিবিদ গোলাম ফারুক চাষী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, মো. আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান মিটু, শফিকুল ইসলাম ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, হাজী মোহাম্মদ আলী, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ, আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আ. হান্নান, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাইনুল হক মেনু, জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু নায়েম বাবুল, কৃষকদলের সহ-সভাপতি মো. বকুল মিয়া আ. কাইয়ূমসহ অন্যান্য বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মান-অভিমান চলছিল। এর ফলে উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা কিছুটা ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ নেতা-কর্মীরা হতাশার মধ্যে থাকতেন।


শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় হোসেনপুরে ঈদের প্রধান জামাত

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় হোসেনপুরে ঈদের প্রধান জামাত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।

জামাতে অংশ নেন হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, শিল্পপতি ও জননেতা জহিরুল ইসলাম মবিন। তিনি সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে উপস্থিত সবার সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এবারের ঈদের নামাজে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জর ঐতিহাসিক জামিয়া ইমদাদিয়ার প্রধান মুফতি হযরত মাওলানা মুফতি ওমর সাহেব। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খান, হোসেনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে এম রফিকুল ইসলাম সফিক, বিএনপি নেতা সাদ্দাম হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাজীব আহমেদ পিয়াস প্রমুখ।

উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ধস: নদীতে পড়ে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ ২

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ধস: নদীতে পড়ে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ ২

সংগ্রহীত

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মিত একটি ভাসমান ড্রাম ব্রিজ ভেঙে শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে গেলে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঈদের আনন্দমুখর মুহূর্তেই দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে ঈদের দিন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ওই স্থানে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এবারও ঈদের দিন বিকেলে সেখানে প্রচুর মানুষ জড়ো হন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে হঠাৎ ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। এ সময় ব্রিজে থাকা শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান।

তাদের মধ্যে অনেকেই সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কয়েকজন শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন শিশুর মৃত্যু হয় এবং আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।

হোসেনপুরের পুমদীতে ডাহরা গোলপুকুর পাড়ে ৮০তম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের পুমদীতে ডাহরা গোলপুকুর পাড়ে ৮০তম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ডাহরা গোলপুকুর পাড় ঈদগাহ মাঠে ৮০তম বৃহৎ ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের পরেই এই ঈদগাহ মাঠটি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ মাঠ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এখানে একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

উক্ত জামাতে ইমামতি করেন মো. আ. কাইরুম (মামুন হুজুর)। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত ছিলেন এলাকার কৃতী সন্তান ও বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. শওকত আকবরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ঈদের এই বৃহৎ জামাতকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়।