কটিয়াদীতে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে মান-অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি
কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ তীব্র। এই আসনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান দীর্ঘদিনের মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এই ঐক্যের ফলে আসনটিতে ভোটের সমীকরণ পালটে গেছে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা আনন্দিত এবং কাজের নতুন গতি অনুভব করছেন।
শনিবার রাতে নির্বাচনের ঠিক ১১ দিন পূর্বে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কটিয়াদী বাজার বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের প্রচেষ্টায় এবং কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের মধ্যস্থতায় দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। এর আগে ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চনসহ নেতৃবৃন্দ প্রথমে কটিয়াদী স্বপ্নকুঞ্জ কমিউনিটি সেন্টারে এবং পরে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। উভয় পক্ষের মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্য স্থাপন করা হয়।
এ সময় ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সবাইকে আহ্বান জানান মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে একত্রিত হওয়ার জন্য। তিনি বলেন, “বিএনপি দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়। দলের স্বার্থে এবং ধানের শীষ প্রতীকের বিজয়ের স্বার্থে আমাদের যে কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। সকলেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করুন।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শহিদুজ্জামান কাকন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক কৃষিবিদ গোলাম ফারুক চাষী, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, মো. আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান মিটু, শফিকুল ইসলাম ফুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, হাজী মোহাম্মদ আলী, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরিফ, আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আ. হান্নান, উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাইনুল হক মেনু, জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু নায়েম বাবুল, কৃষকদলের সহ-সভাপতি মো. বকুল মিয়া আ. কাইয়ূমসহ অন্যান্য বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খাঁন দিলীপ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মান-অভিমান চলছিল। এর ফলে উপজেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরা কিছুটা ভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ নেতা-কর্মীরা হতাশার মধ্যে থাকতেন।










