বাজিতপুরে নির্বাচন-পরবর্তী মামলা: সম্পৃক্ততা অস্বীকার মনিরুজ্জামানের
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সংঘটিত একটি ঘটনার জেরে মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উপজেলার হালিমপুর এলাকায় ১২ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় ছয় দিন পর, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাজিতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় মামুন মিয়া (৩৬), পিতা বাচ্চু মিয়া, সাং শেখদী, হালিমপুর—বাদী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নির্বাচনী এজেন্ট মনিরুজ্জামান মনিরসহ বাহার উদ্দিন বাবু, হুমায়ুন কবির ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে কাজল চেয়ারম্যানের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে মামলার প্রধান আসামিদের একজন মনিরুজ্জামান মনির এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি দিলালপুর ইউনিয়নে অবস্থান করছিলেন এবং হালিমপুর এলাকায় সংঘটিত কোনো সংঘর্ষ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি কাউকে কোনো নির্দেশ দেননি বলেও উল্লেখ করেন।
মনিরুজ্জামান মনিরের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন এবং পাল্টাপাল্টি মামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন।
অন্যদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যদি মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার নাম মামলার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি উঠেছে। সচেতন নাগরিক সমাজও মনে করছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক যে কোনো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং স্বচ্ছ তদন্তই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।







