শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ১৪৩২
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ১৪৩২

বাজিতপুরে নির্বাচন-পরবর্তী মামলা: সম্পৃক্ততা অস্বীকার মনিরুজ্জামানের

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুরে নির্বাচন-পরবর্তী মামলা: সম্পৃক্ততা অস্বীকার মনিরুজ্জামানের

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সংঘটিত একটি ঘটনার জেরে মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উপজেলার হালিমপুর এলাকায় ১২ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় ছয় দিন পর, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাজিতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় মামুন মিয়া (৩৬), পিতা বাচ্চু মিয়া, সাং শেখদী, হালিমপুর—বাদী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নির্বাচনী এজেন্ট মনিরুজ্জামান মনিরসহ বাহার উদ্দিন বাবু, হুমায়ুন কবির ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে কাজল চেয়ারম্যানের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে মামলার প্রধান আসামিদের একজন মনিরুজ্জামান মনির এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন তিনি দিলালপুর ইউনিয়নে অবস্থান করছিলেন এবং হালিমপুর এলাকায় সংঘটিত কোনো সংঘর্ষ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি কাউকে কোনো নির্দেশ দেননি বলেও উল্লেখ করেন।

মনিরুজ্জামান মনিরের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই তার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। তিনি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন এবং পাল্টাপাল্টি মামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন।

অন্যদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে যদি মনিরুজ্জামান মনিরের সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া যায়, তাহলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তার নাম মামলার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি উঠেছে। সচেতন নাগরিক সমাজও মনে করছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক যে কোনো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং স্বচ্ছ তদন্তই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা প্রচারে জামায়াতের সমালোচনা

গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক বলা ইতিহাস বিকৃতি: আব্দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক বলা ইতিহাস বিকৃতি: আব্দুল কাদের

গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক হিসেবে প্রচার করে জামায়াতে ইসলামী জঘন্য মিথ্যাচার করছে বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি গোলাম আজমের একটি পুরোনো উক্তি— “বাংলা ভাষার আন্দোলন করা ভুল হইয়াছে”—সংবলিত একটি পত্রিকার ছবিও যুক্ত করেন।

পোস্টে আব্দুল কাদের সতর্ক করে বলেন, “নোংরামি করলে বরদাশত করব না।”

শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক লেখেন, “বাধ্য হয়ে হোক বা স্বেচ্ছায়—জামায়াত-শিবির যদি তাদের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে, আমরা সেটাকে স্বাগত জানাই।” তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “তাদের মধ্যে ইসরাইলি ইহুদিদের মতো মানসিকতা পরিহার করা জরুরি। মানবিক আশ্রয়ের বিপরীতে জোরপূর্বক দখলদারিত্বের চিন্তাচেতনা কাম্য নয়, আর আমরা তা হতে দেব না।”

তিনি আরও লেখেন, “৫ আগস্টের পর এমন অনেক ঘটনার দুঃসাহস তারা দেখিয়েছেন। আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে নানা বিষয় নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চলছে। পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নোংরামি থেকেও বের হয়ে আসতে হবে।”

সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এত বছর শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে নাজায়েজ বলে প্রচার করে এখন নিজেরাই ফুল দিচ্ছেন—ভালো। কিন্তু সেটাকে অতিরিক্ত জায়েজ প্রমাণ করতে গিয়ে গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক হিসেবে প্রচার করার মতো জঘন্য মিথ্যাচার করার কোনো প্রয়োজন নেই।”

তিনি বলেন, “আপনাদের সম্মানিত আমীরের ভাষায়ই বলি—পরিবর্তন হলে স্বাগত জানাবো। কিন্তু নোংরামি করলে বরদাশত করা হবে না।”

কিশোরগঞ্জ সংস্কৃতি মঞ্চের নতুন কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ সংস্কৃতি মঞ্চের নতুন কমিটি গঠন

কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন কিশোরগঞ্জ সংস্কৃতি মঞ্চ-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিকেল চারটায় কিশোরগঞ্জ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আমার সময় পত্রিকার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি কবির উদ্দিন ফারুকী সোয়েল-কে মনোনীত করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন— সহসভাপতি সামসুল ইসলাম শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল বিন হাফিজ আকন্দ কায়েস ও মো. খুরশীদ আলম নিরব, সাংগঠনিক সম্পাদক সেতারা বেগম সেতু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান হৃদয়, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জহিরুল হাসান রুবেল, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাসলিমা আক্তার নিঝুম, অর্থ সম্পাদক জীবন কুমার দাস, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সৌরভ ঘোষ, এবং প্রচার সম্পাদক মো. নাজমুল হক। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মুহাম্মদ শামীম রেজা, শৈবাল কুমার পাল দিপু, রিদওয়ানুল মাহাবুব পাশা, শেখ সোমা, তানিশা আক্তার জানিয়া ও সামিয়া আক্তার স্বর্ণা। সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আবদুল কাদির ভূইয়া হিরো, জুলহাস উদ্দিন সুজন ও হুমায়রা পারভীন পপি।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ সংস্কৃতি মঞ্চ ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে একাধিক সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাড়াইলে শহীদ দিবসে আলোচনা ও দোয়া

ওয়াসিম সোহাগ প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাড়াইলে শহীদ দিবসে আলোচনা ও দোয়া

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)-এর উদ্যোগে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলা মডেল মসজিদের সভাকক্ষে পবিত্র কুরআন খতম শেষে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার কবি মাওলানা হাবিবুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহান ভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সংবাদদাতা এমদাদুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জিসি মো. নূরুল আলম, মাওলানা লুৎফুর রহমান, জাওয়ার এমদাদুল উলুম মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা ক্বারি শামসুল ইসলাম রাহমানী, তাড়াইল-সাচাইল দারুল হুদা কাসেমুল উলুম মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আবুল কাশেমসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের শেষে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন তাড়াইল-সাচাইল দারুল হুদা কাসেমুল উলুম মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল হাই।