শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ১৪৩২
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯ ১৪৩২

নীরব রাতের শ্রদ্ধা: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে তারেক রহমানের বিরল সফর

হেলাল মুন্সী, গোপালগঞ্জ। প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নীরব রাতের শ্রদ্ধা: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে তারেক রহমানের বিরল সফর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু ঘটনা আলোচিত হলেও কিছু অধ্যায় আড়ালে থেকে যায়। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ২০০৫ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে, যা সে সময় ব্যাপক প্রচারে না এলেও রাজনৈতিক মহলে নীরবে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে একটি ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। দিনভর রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও সফরের এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ করেই গাড়িবহর ঘুরিয়ে নেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার দিকে, যেখানে অবস্থিত জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ।

রাত গভীর, চারপাশ নীরব। সেই সময় তিনি সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সমাধির খাদেমকে ডেকে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করেন। জানা যায়, তিনি সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন। এই সিদ্ধান্তে সফরসঙ্গীদের অনেকেই বিস্মিত হন, কারণ বিএনপির স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় অনেক নেতা-কর্মীই আগে থেকে জানতেন না যে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন। ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক ও সীমিত পরিসরের।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন জাতীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি; দেশের জন্য তাঁর অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তিনিও একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির সন্তান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় ইতিহাস ও নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন—এমন বার্তাই সে রাতে প্রতিফলিত হয়েছিল বলে উপস্থিতদের অনেকে মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যেখানে বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রবল, সেখানে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার একজন শীর্ষ নেতার এ ধরনের নীরব ও নিঃশব্দ শ্রদ্ধা প্রদর্শন বিরল ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হয়। যদিও ঘটনাটি তখন ব্যাপক প্রচারে আসেনি, পরবর্তীতে এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে সক্রিয় রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতের এই সহমর্মিতামূলক আচরণ তার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে- যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় এমন মুহূর্তগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়—ইতিহাস ও জাতীয় নেতৃত্বের প্রশ্নে কখনো কখনো দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তিগত সম্মানবোধের প্রকাশও দেখা যায়।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা প্রচারে জামায়াতের সমালোচনা

গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক বলা ইতিহাস বিকৃতি: আব্দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক বলা ইতিহাস বিকৃতি: আব্দুল কাদের

গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক হিসেবে প্রচার করে জামায়াতে ইসলামী জঘন্য মিথ্যাচার করছে বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি গোলাম আজমের একটি পুরোনো উক্তি— “বাংলা ভাষার আন্দোলন করা ভুল হইয়াছে”—সংবলিত একটি পত্রিকার ছবিও যুক্ত করেন।

পোস্টে আব্দুল কাদের সতর্ক করে বলেন, “নোংরামি করলে বরদাশত করব না।”

শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক লেখেন, “বাধ্য হয়ে হোক বা স্বেচ্ছায়—জামায়াত-শিবির যদি তাদের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে, আমরা সেটাকে স্বাগত জানাই।” তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “তাদের মধ্যে ইসরাইলি ইহুদিদের মতো মানসিকতা পরিহার করা জরুরি। মানবিক আশ্রয়ের বিপরীতে জোরপূর্বক দখলদারিত্বের চিন্তাচেতনা কাম্য নয়, আর আমরা তা হতে দেব না।”

তিনি আরও লেখেন, “৫ আগস্টের পর এমন অনেক ঘটনার দুঃসাহস তারা দেখিয়েছেন। আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে নানা বিষয় নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চলছে। পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নোংরামি থেকেও বের হয়ে আসতে হবে।”

সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এত বছর শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে নাজায়েজ বলে প্রচার করে এখন নিজেরাই ফুল দিচ্ছেন—ভালো। কিন্তু সেটাকে অতিরিক্ত জায়েজ প্রমাণ করতে গিয়ে গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক হিসেবে প্রচার করার মতো জঘন্য মিথ্যাচার করার কোনো প্রয়োজন নেই।”

তিনি বলেন, “আপনাদের সম্মানিত আমীরের ভাষায়ই বলি—পরিবর্তন হলে স্বাগত জানাবো। কিন্তু নোংরামি করলে বরদাশত করা হবে না।”

কিশোরগঞ্জ সংস্কৃতি মঞ্চের নতুন কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ সংস্কৃতি মঞ্চের নতুন কমিটি গঠন

কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন কিশোরগঞ্জ সংস্কৃতি মঞ্চ-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিকেল চারটায় কিশোরগঞ্জ বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আমার সময় পত্রিকার কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি কবির উদ্দিন ফারুকী সোয়েল-কে মনোনীত করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন— সহসভাপতি সামসুল ইসলাম শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল বিন হাফিজ আকন্দ কায়েস ও মো. খুরশীদ আলম নিরব, সাংগঠনিক সম্পাদক সেতারা বেগম সেতু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান হৃদয়, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জহিরুল হাসান রুবেল, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাসলিমা আক্তার নিঝুম, অর্থ সম্পাদক জীবন কুমার দাস, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সৌরভ ঘোষ, এবং প্রচার সম্পাদক মো. নাজমুল হক। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মুহাম্মদ শামীম রেজা, শৈবাল কুমার পাল দিপু, রিদওয়ানুল মাহাবুব পাশা, শেখ সোমা, তানিশা আক্তার জানিয়া ও সামিয়া আক্তার স্বর্ণা। সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আবদুল কাদির ভূইয়া হিরো, জুলহাস উদ্দিন সুজন ও হুমায়রা পারভীন পপি।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ সংস্কৃতি মঞ্চ ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে একাধিক সৃজনশীল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাড়াইলে শহীদ দিবসে আলোচনা ও দোয়া

ওয়াসিম সোহাগ প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাড়াইলে শহীদ দিবসে আলোচনা ও দোয়া

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)-এর উদ্যোগে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলা মডেল মসজিদের সভাকক্ষে পবিত্র কুরআন খতম শেষে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার কবি মাওলানা হাবিবুর রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মহান ভাষা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন দৈনিক নয়া দিগন্তের সংবাদদাতা এমদাদুল্লাহ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জিসি মো. নূরুল আলম, মাওলানা লুৎফুর রহমান, জাওয়ার এমদাদুল উলুম মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা ক্বারি শামসুল ইসলাম রাহমানী, তাড়াইল-সাচাইল দারুল হুদা কাসেমুল উলুম মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আবুল কাশেমসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের শেষে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন তাড়াইল-সাচাইল দারুল হুদা কাসেমুল উলুম মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল হাই।