বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ ১৪৩২
বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ ১৪৩২

নীরব রাতের শ্রদ্ধা: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে তারেক রহমানের বিরল সফর

হেলাল মুন্সী, গোপালগঞ্জ। প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নীরব রাতের শ্রদ্ধা: টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে তারেক রহমানের বিরল সফর

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহু ঘটনা আলোচিত হলেও কিছু অধ্যায় আড়ালে থেকে যায়। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ২০০৫ সালের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে, যা সে সময় ব্যাপক প্রচারে না এলেও রাজনৈতিক মহলে নীরবে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি গোপালগঞ্জে একটি ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেন বিএনপির সিনিয়র নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। দিনভর রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষে ঢাকায় ফেরার কথা থাকলেও সফরের এক পর্যায়ে তিনি হঠাৎ করেই গাড়িবহর ঘুরিয়ে নেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার দিকে, যেখানে অবস্থিত জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ।

রাত গভীর, চারপাশ নীরব। সেই সময় তিনি সমাধিসৌধ প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে সমাধির খাদেমকে ডেকে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করেন। জানা যায়, তিনি সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অবস্থান করেন। এই সিদ্ধান্তে সফরসঙ্গীদের অনেকেই বিস্মিত হন, কারণ বিএনপির স্থানীয় বা কেন্দ্রীয় অনেক নেতা-কর্মীই আগে থেকে জানতেন না যে তিনি টুঙ্গিপাড়ায় যাবেন। ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ তাৎক্ষণিক ও সীমিত পরিসরের।

স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতার প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু একজন জাতীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি; দেশের জন্য তাঁর অবদান রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তিনিও একজন সাবেক রাষ্ট্রপতির সন্তান। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় ইতিহাস ও নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন—এমন বার্তাই সে রাতে প্রতিফলিত হয়েছিল বলে উপস্থিতদের অনেকে মনে করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যেখানে বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রবল, সেখানে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারার একজন শীর্ষ নেতার এ ধরনের নীরব ও নিঃশব্দ শ্রদ্ধা প্রদর্শন বিরল ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হয়। যদিও ঘটনাটি তখন ব্যাপক প্রচারে আসেনি, পরবর্তীতে এটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে সক্রিয় রয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অতীতের এই সহমর্মিতামূলক আচরণ তার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের একটি ভিন্ন দিক তুলে ধরে- যা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনীতির কঠিন বাস্তবতায় এমন মুহূর্তগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়—ইতিহাস ও জাতীয় নেতৃত্বের প্রশ্নে কখনো কখনো দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যক্তিগত সম্মানবোধের প্রকাশও দেখা যায়।

ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে চার আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে চার আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার চার আসামিকে বিভিন্ন অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরি, মাদক রাখা এবং ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িত ছিল।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এসব দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) মধ্যরাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ক্যাবল চুরির সময় স্থানীয় জনতা আসলাম খান (৪০) নামে একজনকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার পালিয়াকান্দা গ্রামের তৌহিদ মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০), চাঁদপুর সদর উপজেলার বাকরপুর এলাকার চান খানের ছেলে আসলাম খান (৪০), নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার গজারিয়া এলাকার খুরশেদ আলমের ছেলে রাকিব মিয়া (২০) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কালিকাপুর এলাকার ফারুক মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিন (১৯)।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের ছাদে উঠে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতির অপরাধে সালাউদ্দিন ও রাকিবকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়। ক্যাবল চুরির অপরাধে আসলাম খানকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন মিয়ার কাছ থেকে ৩০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ অপরাধে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ জানান, রেললাইনের পাশ থেকে ক্যাবল চুরির সময় স্থানীয়দের সহায়তায় আসলাম খানকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অন্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও বলেন, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সরারচর বাজারে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযান, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
সরারচর বাজারে ভোক্তা অধিকার আইনে অভিযান, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

অভিযান সূত্রে জানা যায়, সরারচর বাজারের হাজী মোহাম্মদ গোলাপ ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকার সঙ্গে পণ্যের দামের অসামঞ্জস্য পাওয়া যায়। এছাড়া পণ্য ক্রয়ের বৈধ ভাউচার ও রসিদ প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. মশিউর রহমানকে নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানটি পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম। এ সময় বাজিতপুর উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আমির খসরুসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী দুলাল সাহা জানান, অনেক ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ ও মৌলভীবাজার থেকে দালালের মাধ্যমে পণ্য সংগ্রহ করেন, যেখানে সবসময় বৈধ ভাউচার পাওয়া যায় না। তবে তাদের নিজস্ব খাতায় লেনদেনের হিসাব সংরক্ষিত থাকে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে দুলাল সাহার ছেলে দিব্য সাহা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি গাড়ি পণ্য আনতে দালালদের প্রায় ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়; অন্যথায় সময়মতো মালামাল সরবরাহ পাওয়া যায় না।

অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “মূল্যতালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি না করা এবং বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ না করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে বাজারে মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজার তদারকি জোরদার করা হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

হোসেনপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনন্দঘন পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (৮ এপ্রিল) হোসেনপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা

সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ, হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসান জিকো, পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে এম শফিকুল হক শফিক এবং সাধারণ সম্পাদক মানসুরুল হক রবিন

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ এ বি এম সিদ্দিক চঞ্চল, জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহত এক যোদ্ধার মা ফাতেমা তুছ জহুরা, হোসেনপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী আছমা বেগম, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান চন্দন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন, জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধি মোঃ আল আমিন ভূইয়া এবং জিয়া মঞ্চের সভাপতি হুমায়ুন কবির কিবরিয়াসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সভায় বক্তারা বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। এবারের আয়োজনের মধ্যে থাকবে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গ্রামীণ মেলা। এসব কর্মসূচি সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনুষ্ঠানকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ করতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা বলেন, বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হোসেনপুরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে নববর্ষ উদযাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে তিনি উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।