মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

ভাষা আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা প্রচারে জামায়াতের সমালোচনা

গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক বলা ইতিহাস বিকৃতি: আব্দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক বলা ইতিহাস বিকৃতি: আব্দুল কাদের

গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক হিসেবে প্রচার করে জামায়াতে ইসলামী জঘন্য মিথ্যাচার করছে বলে মন্তব্য করেছেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি গোলাম আজমের একটি পুরোনো উক্তি— “বাংলা ভাষার আন্দোলন করা ভুল হইয়াছে”—সংবলিত একটি পত্রিকার ছবিও যুক্ত করেন।

পোস্টে আব্দুল কাদের সতর্ক করে বলেন, “নোংরামি করলে বরদাশত করব না।”

শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক লেখেন, “বাধ্য হয়ে হোক বা স্বেচ্ছায়—জামায়াত-শিবির যদি তাদের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনে, আমরা সেটাকে স্বাগত জানাই।” তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “তাদের মধ্যে ইসরাইলি ইহুদিদের মতো মানসিকতা পরিহার করা জরুরি। মানবিক আশ্রয়ের বিপরীতে জোরপূর্বক দখলদারিত্বের চিন্তাচেতনা কাম্য নয়, আর আমরা তা হতে দেব না।”

তিনি আরও লেখেন, “৫ আগস্টের পর এমন অনেক ঘটনার দুঃসাহস তারা দেখিয়েছেন। আবরার ফাহাদ থেকে শুরু করে নানা বিষয় নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টা চলছে। পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নোংরামি থেকেও বের হয়ে আসতে হবে।”

সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এত বছর শহীদ মিনারে ফুল দেওয়াকে নাজায়েজ বলে প্রচার করে এখন নিজেরাই ফুল দিচ্ছেন—ভালো। কিন্তু সেটাকে অতিরিক্ত জায়েজ প্রমাণ করতে গিয়ে গোলাম আজমকে ভাষা সৈনিক হিসেবে প্রচার করার মতো জঘন্য মিথ্যাচার করার কোনো প্রয়োজন নেই।”

তিনি বলেন, “আপনাদের সম্মানিত আমীরের ভাষায়ই বলি—পরিবর্তন হলে স্বাগত জানাবো। কিন্তু নোংরামি করলে বরদাশত করা হবে না।”

নামফলক অপসারণকে ‘অপকর্ম’ বললেন ভিপি সোহেল, বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
নামফলক অপসারণকে ‘অপকর্ম’ বললেন ভিপি সোহেল, বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল বলেছেন, অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত কিশোরগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করেছিলেন। একই দিনে কিশোরগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটেরও উদ্বোধন করা হয়।

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল অভিযোগ করেন, সময়ের ব্যবধানে স্টেডিয়ামের উদ্বোধনী নামফলক অপসারণ করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ‘অপকর্ম’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এ কাজে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

হোসেনপুরে নির্মাণকাজে বাধার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে নির্মাণকাজে বাধার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় নিজস্ব জমিতে ভবন নির্মাণকাজে বাধা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মুহাম্মদ রুহুল আমিন।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ঢেকিয়া এলাকার নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে রুহুল আমিন জানান, হোসেনপুর থানাধীন ঢেকিয়া এলাকার হনুমানতলা খাজা স্টুডিওর সামনে পশ্চিম পাশে তার নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে তিনতলা ফাউন্ডেশনের একটি ভবন নির্মাণ করছেন। নির্মাণকাজ চলাকালে পাশের একটি টিনের ছাউনায় সামান্য বালু পড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে তা নতুন টিন দিয়ে মেরামত করে দেওয়া হবে। উভয় পক্ষ এ সিদ্ধান্তে সম্মত হলেও পরবর্তীতে প্রতিবেশী আশরাফুল আলম ও তার ছেলে অনিক মিয়া নির্মাণকাজে বাধা দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রুহুল আমিনের দাবি, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিবাদীপক্ষ ধারাবাহিকভাবে ভবনের প্লাস্টারের কাজে বাধা প্রদান করে আসছে। ফলে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার নির্মাণসামগ্রী নষ্ট হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভবনটি প্লাস্টারবিহীন অবস্থায় থাকায় বৃষ্টির পানি দেয়াল বেয়ে বৈদ্যুতিক লাইনে প্রবেশ করছে, যা থেকে শর্ট সার্কিট ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২৫ মার্চ ২০২৬ কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানালে তাকে গালিগালাজ করা হয় এবং কাজ করলে দাঙ্গা-হাঙ্গামার হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে রুহুল আমিন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “নিজস্ব জমিতে বৈধভাবে ভবন নির্মাণে যেন কোনো বাধা না থাকে এবং নিরাপদে কাজ সম্পন্ন করতে পারি—সেজন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”

বর্ণিল আয়োজনে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
বর্ণিল আয়োজনে কিশোরগঞ্জে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন

বছর ঘুরে আবারও এলো বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। জীর্ণ-পুরাতন, অশুভ ও অসুন্দরকে পেছনে ফেলে নতুনের আহ্বান নিয়ে শুরু হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। এ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়েছে।

মঙ্গলবার(১৪ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরিবেশনায় অংশ নেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। পরে বেলুন উড়িয়ে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনের পর বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে আখড়াবাজার মোড়সহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্টেডিয়ামে এসে শেষ হয়। ঢাক-ঢোল, মুখোশ, ব্যানার ও লোকজ উপকরণে সাজানো এই শোভাযাত্রায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণীজন ইসলাম উদ্দীন পালাকারের পরিবেশনা বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার ড. এম. এম. ফরহাদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুধীজন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময় সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। পরে দলীয় নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।

একই দিনে কিশোরগঞ্জ সরকারি গুরুদয়াল কলেজ, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি)-এর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও পৃথকভাবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করেন। এসব আয়োজন শহরের উৎসবমুখর পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

এদিকে, বৈশাখী মেলায় বিভিন্ন স্টলে দেশীয় পণ্য ও লোকজ সামগ্রী প্রদর্শন করা হয়, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পুরো আয়োজন সম্পন্ন হয়। নববর্ষকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। নতুন বছরের প্রত্যাশা ও শুভকামনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর।