গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-প্রচারণা সবার অধিকার : আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—উভয় পক্ষই প্রচারণা চালানোর অধিকার রাখে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কাউকে এই প্রচারণা থেকে বিরত রাখবে না, কারণ এটি মানুষের সম্পূর্ণ নিজস্ব বিবেকবোধের বিষয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বলার অধিকার যেমন সবার আছে, তেমনি ‘না’ ভোটের পক্ষে বলার অধিকারও সবার আছে। কেউ যদি মনে করেন শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট আমলের ব্যবস্থা দেশে অব্যাহত থাকুক, বৈষম্য ও নিপীড়ন আগের মতোই চলুক—তবে তিনি ‘না’ বলতেই পারেন। কাউকে প্রচারণা থেকে বিরত রাখার কোনো অধিকার বা ইচ্ছা আমাদের নেই।”
তিনি অতীতের গণভোটের উদাহরণ টেনে বলেন, “আগে বাংলাদেশে যতো গণভোট হয়েছে, সবসময় সরকার একটি পক্ষ নিয়েছে। কিন্তু এই গণভোটের মাধ্যমে কোনো নতুন সরকার গঠিত হবে না। আমরা শুরু থেকেই তিনটি প্রধান কাজের কথা বলেছি—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল সংস্কার। আমরা সরকারে থাকবো না, কিন্তু জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের স্বার্থে সংস্কারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আমরা কোনও বিশেষ দলের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি না।”
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “আইনের ব্যাখ্যার চেয়ে বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে জনকল্যাণ। আমরা দেখেছি, ১৫ বছর শাসনতান্ত্রিক সংস্কার না হওয়ায় দেশের কী অবস্থা হয়েছিল। আমরা যেসব সংস্কার সরাসরি করতে পারছি, সেগুলো করছি। তবে সংবিধান পরিবর্তনের মতো বড় সংস্কারের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত প্রয়োজন, তাই বিষয়টি গণভোটে দিয়েছি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংলাপে অংশ নেওয়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলই সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। প্রক্রিয়াগত কিছু পার্থক্য থাকলেও মৌলিক সংস্কারের প্রশ্নে সবার মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। সরকারের এই প্রচারণা মূলত সংস্কারের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট (অঙ্গীকার) প্রদর্শনের অংশ।







