বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

নড়াইলে ভ্যানচালক কিশোর আলিফ হত্যার রহস্য উন্মোচন, দুই যুবক গ্রেপ্তার

খুন করে আল্লাহর ভয়ে নামাজ পড়ে ক্ষমা চান হত্যাকারীরা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৪:৪৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
খুন করে আল্লাহর ভয়ে নামাজ পড়ে ক্ষমা চান হত্যাকারীরা

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের সদর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক কিশোর আমিনুল বিশ্বাস ওরফে আলিফ (১৫) হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নড়াইলের পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম।

গ্রেপ্তার দুই আসামি হলেন সদর উপজেলার চাচড়া গ্রামের মিনারুল বিশ্বাস (২২) ও একই গ্রামের হৃদয় মোল্যা (২০)। নিহত আলিফ ছোট মিতনা গ্রামের কিনায়েত বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে আলিফকে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় মিনারুল ও হৃদয়। উদ্দেশ্য ছিল আলিফের ব্যাটারিচালিত ভ্যান ছিনিয়ে নেওয়া। তারা ওই রাতে আঞ্চলিক সড়কে ঘুরতে ঘুরতে কোমল পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আলিফকে পান করায়। কিছুক্ষণ পর আলিফ অচেতন হলে তারা ভ্যানটি বাহিরগ্রাম বাজারে নিয়ে গিয়ে হৃদয়ের মামার বাড়িতে রেখে আসে।

পরে তিনজন পায়ে হেঁটে দেবভোগ এলাকার নুড়িতলা বিলে পৌঁছায়। সেখানে আলিফ ঘুমিয়ে পড়লে হৃদয় তার পা চেপে ধরে রাখে এবং মিনারুল গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর আলিফের মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে মরদেহ পাশের পুকুরে কচুরিপানার নিচে ফেলে রাখে তারা।

রবিউল ইসলাম বলেন, হত্যার পর দুজন হৃদয়ের মামার বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ফজরের আজানের সময় অনুশোচনায় তারা স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং সকালে বাজারে গিয়ে চা-পান করে। পরে মিনারুল নিজ এলাকায় ফিরে আসে, আর হৃদয় পালিয়ে গোপালগঞ্জে যায়।

আলিফ নিখোঁজের ঘটনায় তার মা রোববার (৫ অক্টোবর) সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন সন্দেহভাজন হিসেবে মিনারুলকে আটক করলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং মরদেহের অবস্থান জানায়। তার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দেবভোগের নুড়িতলা বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে আলিফের মরদেহ উদ্ধার করে। শহরের মুচির পোল এলাকা থেকে উদ্ধার হয় বিক্রিত ভ্যানের ব্যাটারি, এবং হৃদয়ের মামার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ভ্যানটি।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে সোমবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় আলিফের অ্যান্ড্রয়েড ফোন। মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মারুফ হাসানের আদালতে দুই আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তারা আদালতে জানান, সামান্য কিছু টাকার জন্যই তারা আলিফকে হত্যা করে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নূর-ই আলম সিদ্দিকী, সদর থানার ওসি মো. সাজেদুল ইসলামসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

গত বছরের ১৭ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা খিতিশচন্দ্র রায়ের মোবাইল ফোনে বিকাশ থেকে একের পর এক ক্যাশআউটের এসএমএস আসতে থাকে। বিকাশ অ্যাপে ব্যালেন্স চেক করে তিনি দেখতে পান, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে দুই লাখ ২২ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে। সেখানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৬০০ টাকা।

ভুক্তভোগী খিতিশচন্দ্র রায় জানান, তাঁর এক ব্যাচমেটের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সহায়তার জন্য বন্ধুদের কাছ থেকে বিকাশে পাঠানো হয়েছিল এই অর্থ। পরে অসাবধানতাবশত একটি ফিশিং লিংকে ক্লিক করার পরই প্রতারণার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় তিনি তেজগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উল্লেখ্য, খিতিশচন্দ্র রায় নিজেও পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর)।

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেয় পুলিশ। পাশাপাশি র‍্যাবও প্রতারক চক্র শনাক্তে কাজ শুরু করে। তিন থেকে চার মাস ধরে শতাধিক ফোন নম্বর বিশ্লেষণের পর একটি সন্দেহজনক নম্বর শনাক্ত করে র‍্যাব। সেই সূত্র ধরে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে ফ্ল্যাটের ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা, একাধিক রাউটার ও বিভিন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম দেখতে পায় র‍্যাব। বাড়ির মালিক জানান, অভিযুক্তরা নিজেদের শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সার পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।

র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সাদমান সাকিব প্রিয়ম, তরিকুল ইসলাম ইমন ও মাহিনুর রহমান মাহি নামের তিন যুবককে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় শতাধিক জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন, প্রিন্টারসহ প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রিয়ম আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। মাহি কিশোরগঞ্জের ইশাখা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি অধ্যয়নরত। তারা ২০২২ সাল থেকে সংঘবদ্ধভাবে সাইবার প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, তারা ফিশিং লিংকের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে বিকাশসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও ওটিপি সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করে। এছাড়া ওয়াইফাই রাউটার ও সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও রয়েছে।

একই এনআইডি নম্বর রেখে নাম সামান্য পরিবর্তন করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার কৌশলও তারা ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করত। ঢাকায় মাসিক প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাটে বসবাস, দামি মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করত তারা। এলাকাবাসীর মধ্যেও তাদের জীবনযাপন নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ ছিল।

এক প্রতিবেশী বলেন,
“মাঝেমধ্যে প্রাইভেট কার আসত, দামি জিনিসপত্র ব্যবহার করত। তখন বুঝিনি, এখন বোঝা যাচ্ছে টাকার উৎস কী ছিল।”

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মারা যাওয়া জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ডাবলুর ছোট ভাই ও মা লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ, সিআইপি আলহাজ সাহিদুজ্জামান টরিক, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার অহিদুল আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন,
‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই দেশে আমরা এ ধরনের মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। ডাবলুর মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
‘জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে ডাবলুকে আটক করা হয়। পরে রাত ১২টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিরাপত্তাহীনতা ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তাহীনতা ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এই রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।