কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: ইনুর বিরুদ্ধে নির্দেশদাতার অভিযোগ
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় প্রত্যক্ষ নির্দেশদাতা ও উস্কানিদাতা হিসেবে জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নাম উল্লেখ করেছেন প্রথম সাক্ষী মো. রাইসুল হক। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি এ জবানবন্দি দেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রাইসুল হককে জেরা করেন। এরপর প্রসিকিউশনের জব্দতালিকার সাক্ষী হিসেবে প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা জবানবন্দি দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করা হয়েছে। ইনুর পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী।
জবানবন্দিতে রাইসুল হক জানান, গত বছরের ৪ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের সামনে কয়েক শ মানুষ সমবেত হন এবং মজমপুরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আরও কয়েক শ ছাত্র–জনতা যোগ দেন। তাঁর দাবি, পথে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের হামলার মুখে পড়লেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যান। এ হামলায় কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি হাসানুল হক ইনুসহ অন্য কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে তিনি ‘সরাসরি নির্দেশদাতা ও উস্কানিদাতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির দিন পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। বক চত্বর এলাকায় সংঘর্ষে বাবু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং সুরুজ আলী বাবু, বাবুল ফরাজী, আব্দুল্লাহ মুস্তাকিন, উসামা–সহ মোট ছয়জন নিহত হন।
রাইসুল হকের দাবি, ৫ আগস্টের পর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়—হাসানুল হক ইনু ফোনে ‘আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ’ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।







