ভৈরবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামের শেখবাড়ি ও মোল্লাবাড়ির মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান ওসি আতাউর রহমান আকন্দ। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে তামজিদ মোল্লা, রাজু মোল্লা, বাবু মিয়া, বশির মিয়া, ফয়সাল মোল্লা, সাইফুল, শফিকুল ইসলাম, হযরত আলী, আব্দুর রহমান, ফখর উদ্দিন ও শোয়েব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মোল্লাবাড়ি ও শেখবাড়ি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। মোল্লাবাড়ির নেতৃত্বে ছিলেন ইউপি সদস্য হারুন মিয়া ও মুর্শিদ মিয়া, আর শেখবাড়ির নেতৃত্বে ছিলেন মাইন উদ্দিন মিয়া ও দিলু মিয়া। এর আগে ৭ ডিসেম্বর টুকচাঁনপুরে অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দেখতে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ সমর্থক মোটরসাইকেলচালকদের নিয়ে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। সেদিনের সংঘর্ষে মোল্লাবাড়ির নিজাম ও তাঁর ছেলে তামিম আহত হন। এর জেরে সোমবার সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং বিকেলে দুই পক্ষ দা, বল্লম, লাঠি ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মোল্লাবাড়ির সাইফুল ইসলাম জানান, টুকচাঁনপুরে আহতদের দেখতে যাওয়ার সময় শেখবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং এতে তাদের পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে শেখবাড়ির গোলাপ মিয়া বলেন, মোল্লাবাড়ির বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ দিয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে, বিষয়টি জানতে চাইলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক উম্মে হাবীবা জুঁই জানান, বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ১১ জন চিকিৎসা নিতে আসেন এবং তাদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে। তিনি আরও জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










