ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা: ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজে দুই বছর ধরে বেতন–ভাতা বন্ধ
কিশোরগঞ্জের ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নন-এমপিওভুক্ত ২৯ শিক্ষক ও ১২ কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ।
শিক্ষক–কর্মচারীরা জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিনা কারণে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বেতন-ভাতা বন্ধ রাখেন। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা এক টাকাও পাননি।
১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ১৯৮৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন। কলেজটির বার্ষিক আয় প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ এবং ব্যয় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অভিযোগকারী শিক্ষক–কর্মচারীদের দাবি, ফান্ডের ঘাটতি নেই; বরং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঠিক হিসাব গোপন রাখছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষক বলেন,
“দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেতন পাই না। তিনি কলেজে নিয়মিত আসেন না, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে নিয়োগও দেন না। গুরুত্বপূর্ণ কাজেও তাকে পাওয়া যায় না।”
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত করে, তবে শিক্ষক সংকট হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএর অনুমোদনে পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে। ভুক্তভোগীরা বলেন,
“শুধু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সদিচ্ছার অভাবেই আমরা বেতন পাচ্ছি না। তিনি বলেন ফান্ড নেই, অথচ হিসাব বলছে বিপরীত কথা। দেশে আর কোনো কলেজে বিনা বেতনে চাকরি করতে হয় না।”
কলেজের অভিভাবক সদস্য আবু নাসের মিন্টু হিলালি বলেন,
“টাকা আছে, তারপরও বেতন দেয় না কেন—এটা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির স্পষ্ট করা উচিত। তিনি সপ্তাহে একদিনও অফিসে আসেন না। ফোন করলে ধরেন না।”
দাতাসদস্য কামরুজ্জামান সোহেল বলেন,
“মাসের পর মাস কলেজে আসেন না ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। নিয়মিত মিটিং করেন না। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।”
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূরুন নাহার চায়না জানান, নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রতিবেদন গ্রহণ না করে নতুন কমিটি গঠন করতে বলেন। তিনি বলেন—
“মিটিং ডাকা হয়েছিল, কিন্তু সেটিও বাতিল করা হয়। বর্তমান অবস্থা কী—জানি না।”
গভর্নিং বডির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন বলেন,
“কলেজটি আগের প্রশাসন জিরো পজিশনে নিয়ে গেছে। কোনো ফান্ডিং নেই। এই অবস্থায় কিছুই করতে পারছি না। আমি জরুরি মিটিং ডেকে বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“অপরিকল্পিত নিয়োগের কারণে কলেজে শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। ছাত্রসংখ্যা বর্তমানে ৩ হাজার ৫০০–এর নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় ১২০ শিক্ষকের বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। গত তিন বছরে দেড় বছরের বেতন দিতে পারিনি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছি। কাউকে দুর্ব্যবহার করিনি।”
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার বলেন,
“কলেজটির নিজস্ব গভর্নিং বডি রয়েছে। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত। এরপরও অভিযোগ পেলে আমরা তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো।”




