বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা: ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজে দুই বছর ধরে বেতন–ভাতা বন্ধ

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা: ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজে দুই বছর ধরে বেতন–ভাতা বন্ধ

কিশোরগঞ্জের ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নন-এমপিওভুক্ত ২৯ শিক্ষক ও ১২ কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ।

শিক্ষক–কর্মচারীরা জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিনা কারণে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বেতন-ভাতা বন্ধ রাখেন। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা এক টাকাও পাননি।

১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ১৯৮৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন। কলেজটির বার্ষিক আয় প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ এবং ব্যয় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অভিযোগকারী শিক্ষক–কর্মচারীদের দাবি, ফান্ডের ঘাটতি নেই; বরং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঠিক হিসাব গোপন রাখছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষক বলেন,
“দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেতন পাই না। তিনি কলেজে নিয়মিত আসেন না, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে নিয়োগও দেন না। গুরুত্বপূর্ণ কাজেও তাকে পাওয়া যায় না।”

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত করে, তবে শিক্ষক সংকট হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএর অনুমোদনে পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে। ভুক্তভোগীরা বলেন,
“শুধু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সদিচ্ছার অভাবেই আমরা বেতন পাচ্ছি না। তিনি বলেন ফান্ড নেই, অথচ হিসাব বলছে বিপরীত কথা। দেশে আর কোনো কলেজে বিনা বেতনে চাকরি করতে হয় না।”

কলেজের অভিভাবক সদস্য আবু নাসের মিন্টু হিলালি বলেন,
“টাকা আছে, তারপরও বেতন দেয় না কেন—এটা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির স্পষ্ট করা উচিত। তিনি সপ্তাহে একদিনও অফিসে আসেন না। ফোন করলে ধরেন না।”

দাতাসদস্য কামরুজ্জামান সোহেল বলেন,
“মাসের পর মাস কলেজে আসেন না ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। নিয়মিত মিটিং করেন না। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূরুন নাহার চায়না জানান, নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রতিবেদন গ্রহণ না করে নতুন কমিটি গঠন করতে বলেন। তিনি বলেন—
“মিটিং ডাকা হয়েছিল, কিন্তু সেটিও বাতিল করা হয়। বর্তমান অবস্থা কী—জানি না।”

গভর্নিং বডির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন বলেন,
“কলেজটি আগের প্রশাসন জিরো পজিশনে নিয়ে গেছে। কোনো ফান্ডিং নেই। এই অবস্থায় কিছুই করতে পারছি না। আমি জরুরি মিটিং ডেকে বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“অপরিকল্পিত নিয়োগের কারণে কলেজে শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। ছাত্রসংখ্যা বর্তমানে ৩ হাজার ৫০০–এর নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় ১২০ শিক্ষকের বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। গত তিন বছরে দেড় বছরের বেতন দিতে পারিনি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছি। কাউকে দুর্ব্যবহার করিনি।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার বলেন,
“কলেজটির নিজস্ব গভর্নিং বডি রয়েছে। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত। এরপরও অভিযোগ পেলে আমরা তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো।”


কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।