সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ ১৪৩২
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ ১৪৩২

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা: ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজে দুই বছর ধরে বেতন–ভাতা বন্ধ

রেজাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা: ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজে দুই বছর ধরে বেতন–ভাতা বন্ধ

কিশোরগঞ্জের ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্বেচ্ছাচারিতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নন-এমপিওভুক্ত ২৯ শিক্ষক ও ১২ কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ।

শিক্ষক–কর্মচারীরা জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিনা কারণে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং বেতন-ভাতা বন্ধ রাখেন। ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে তারা এক টাকাও পাননি।

১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজটি ১৯৮৪ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ জন। কলেজটির বার্ষিক আয় প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ এবং ব্যয় ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। অভিযোগকারী শিক্ষক–কর্মচারীদের দাবি, ফান্ডের ঘাটতি নেই; বরং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঠিক হিসাব গোপন রাখছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক শিক্ষক বলেন,
“দুই বছরের বেশি সময় ধরে বেতন পাই না। তিনি কলেজে নিয়মিত আসেন না, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে নিয়োগও দেন না। গুরুত্বপূর্ণ কাজেও তাকে পাওয়া যায় না।”

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্ত করে, তবে শিক্ষক সংকট হলে কলেজ কর্তৃপক্ষ এনটিআরসিএর অনুমোদনে পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারে। ভুক্তভোগীরা বলেন,
“শুধু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সদিচ্ছার অভাবেই আমরা বেতন পাচ্ছি না। তিনি বলেন ফান্ড নেই, অথচ হিসাব বলছে বিপরীত কথা। দেশে আর কোনো কলেজে বিনা বেতনে চাকরি করতে হয় না।”

কলেজের অভিভাবক সদস্য আবু নাসের মিন্টু হিলালি বলেন,
“টাকা আছে, তারপরও বেতন দেয় না কেন—এটা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতির স্পষ্ট করা উচিত। তিনি সপ্তাহে একদিনও অফিসে আসেন না। ফোন করলে ধরেন না।”

দাতাসদস্য কামরুজ্জামান সোহেল বলেন,
“মাসের পর মাস কলেজে আসেন না ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। শিক্ষক–শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। নিয়মিত মিটিং করেন না। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না।”

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি নূরুন নাহার চায়না জানান, নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রতিবেদন গ্রহণ না করে নতুন কমিটি গঠন করতে বলেন। তিনি বলেন—
“মিটিং ডাকা হয়েছিল, কিন্তু সেটিও বাতিল করা হয়। বর্তমান অবস্থা কী—জানি না।”

গভর্নিং বডির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন বলেন,
“কলেজটি আগের প্রশাসন জিরো পজিশনে নিয়ে গেছে। কোনো ফান্ডিং নেই। এই অবস্থায় কিছুই করতে পারছি না। আমি জরুরি মিটিং ডেকে বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“অপরিকল্পিত নিয়োগের কারণে কলেজে শিক্ষকের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। ছাত্রসংখ্যা বর্তমানে ৩ হাজার ৫০০–এর নিচে নেমে এসেছে। এ অবস্থায় ১২০ শিক্ষকের বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। গত তিন বছরে দেড় বছরের বেতন দিতে পারিনি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ৪ মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছি। কাউকে দুর্ব্যবহার করিনি।”

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার বলেন,
“কলেজটির নিজস্ব গভর্নিং বডি রয়েছে। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত। এরপরও অভিযোগ পেলে আমরা তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবো।”


কিশোরগঞ্জের কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের কলেজছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামি উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক কলেজছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলার মূল ও পলাতক আসামি মো. কাউছার (২১) কে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গ্রেপ্তারকৃত কাউছারের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলাতে।  শনিবার(১৪ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিবার (১৫ মার্চ) বেলা সোয়া ১১টার দিকে র‍্যাব-১৪–এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সহকারী পরিচালক) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার এজাহার ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, মো. কাউছারের সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে অবস্থানকালে গত বছরের ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করে কাউছার।

ঘটনার পর প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে গত ৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি রুজু করা হয়।

মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামি কাউছার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর র‍্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প ঘটনাটির ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।

দীর্ঘ তদন্ত ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৪ এর সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় র‍্যাব-১ উত্তরা, ঢাকার সার্বিক সহায়তায় পলাতক আসামি কাউছারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডার মো. শাহজাহান জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ইটনায় পানিভর্তি গর্তে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
ইটনায় পানিভর্তি গর্তে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে পানিভর্তি একটি গর্তে ডুবে চার বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার(১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নর খালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত অর্ণব (৪) ওই গ্রামের বাসিন্দা শ্রাবণ মিয়ার ছেলে।

স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় অর্ণবের মা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অর্ণব বাড়ির উঠানে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। খেলতে খেলতে একপর্যায়ে সে সবার অজান্তে বাড়ির সামনে থাকা পানিভর্তি একটি গর্তে পড়ে যায়।

কিছু সময় পর তাকে উঠানে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির সামনের গর্তের পানিতে অর্ণবকে ডুবন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে উদ্ধার করে ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাড়াইলে ‘মানব সেবায় আমরা’র উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

ওয়াসিম সোহাগ প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ‘মানব সেবায় আমরা’র উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে ‘মানব সেবায় আমরা’ সংগঠনের উদ্যোগে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাড়াইল উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর এ ধরনের মানবিক ইফতার আয়োজন এর আগে দেখিনি। এ ধরনের মানবিক কাজে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য শুভকামনা রইল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ‘মানব সেবায় আমরা’ সংগঠনের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বাকি, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন হেকিমসহ এলাকার সচেতন ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।

পবিত্র রমজান মাসের মাহাত্ম্যকে সামনে রেখে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, মানবিক মূল্যবোধ, সচেতনতা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এ সময় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন।