ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় প্রধান শিক্ষক সংকটে প্রাথমিক শিক্ষা বিপন্ন
ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাব্যবস্থা চরম সংকটে পড়েছে। উপজেলা এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই, ফলে বিদ্যালয় পরিচালনার ভার সহকারী শিক্ষকদের ওপর পড়ছে, যা প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত মান দুয়োটিতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট ২০১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য।
সংকটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—
-
মামলা জনিত কারণে ৩২ জন প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না
-
পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত
-
মামলা জটিলতা ও প্রশাসনিক ধীরগতি
ফলে প্রধান শিক্ষক সংকট দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে।
শিক্ষকরা জানাচ্ছেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায়—
দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ , শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি, শিক্ষার্থীদের আচরণগত উন্নয়ন, পাঠদান পদ্ধতির পর্যবেক্ষণ
এসব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না, ফলে বিদ্যালয়ের সার্বিক শৃঙ্খলা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন,
“আমরা পাঠদান ও প্রধান শিক্ষক—দুই দায়িত্বই পালন করছি। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকি, সভা, রেকর্ড সংরক্ষণ, উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা—এসব সঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহী দিলশাদ এলীন বলেন,
“৮২টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক শূন্য। মামলা জটিলতা নিরসন হলে, পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হলে এ সংকট কমে আসবে।”
স্থানীয় অভিভাবকরা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আরও দেরি হলে শিক্ষার মান আরও অবনতি ঘটবে। পাশাপাশি নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নেও দেখা দিতে পারে বড় ধরনের জটিলতা।







