সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

নরসুন্দার পাড়ে দখল-নির্মাণের মহোৎসব: ফুটপাত হারাচ্ছে কিশোরগঞ্জবাসী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নরসুন্দার পাড়ে দখল-নির্মাণের মহোৎসব: ফুটপাত হারাচ্ছে কিশোরগঞ্জবাসী

কিশোরগঞ্জ শহরের ফুটপাত ও নদীর তীর এখন আর সাধারণ মানুষের হাঁটার পথ নয়। দখলে গেছে এক প্রভাবশালী মহলের। দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালানোর পর সম্প্রতি স্থায়ীভাবে ভবন নির্মাণ শুরু করেছে দখলদাররা। গৌরাঙ্গ বাজার, পুরান থানা ও বড়বাজার ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু করে নদীর তীর পর্যন্ত সর্বত্রই চলছে অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজ।

গত ৫ আগস্টের পর থেকেই প্রশাসনের চোখের সামনেই এ নির্মাণ শুরু হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রশাসন জানে, দেখেও কেন চুপ?

সরেজমিন দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীটি ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়। সে সময় শহরের সৌন্দর্য বর্ধন ও মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে নদীর দুই পাশ দিয়ে নির্মিত হয় ওয়াকওয়ে। এখন সেই ওয়াকওয়ে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন দোকান। নরসুন্দা নদীর ওপর গৌরাঙ্গ বাজার ব্রিজের পাশে সম্প্রতি নদীর তীর ঘেঁষে ইট-বালু-সিমেন্টের স্থায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ভবন নির্মাণে জড়িত এক প্রভাবশালী মহল, যারা প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়াতেই বহুদিন ধরে এলাকা দখল করে রেখেছে। গৌরাঙ্গ বাজার ও বড়বাজার ব্রিজ এলাকায় ফুটপাতের এক ইঞ্চি জায়গাও এখন ফাঁকা নেই। এমনকি পৌর শিশু পার্কের প্রবেশপথ পর্যন্ত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকান। পুরো ওয়াকওয়ে এখন কাপড়, কসমেটিকস, মাছ ও খাবারের দোকানে পরিণত হয়েছে।

পথচারী নুরুল ইসলাম খান বলেন, “নদীর পাড় দিয়ে আগে খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে মার্কেট হচ্ছে। আমরা জানতাম জায়গাগুলো সরকারি। এখন নিজেদের দাবি করে রাস্তা বন্ধ করে মার্কেট করা হচ্ছে—আমরা চলব কিভাবে?”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, “এটা মানুষের চলাচলের জায়গা—তবুও ব্যবসা করছি বাধ্য হয়ে। কিশোরগঞ্জে হকার মার্কেট না থাকায় এখানে ব্যবসা করতে হয়। এখন তো স্থায়ী বিল্ডিংও হচ্ছে।”

আরেক ব্যবসায়ী জানান, “পার্কের সামনে ৫ বছর ধরে দোকান দিচ্ছি। প্রতি বছর অগ্রিম টাকা দিতে হয়, প্রতিদিনও দিতে হয় ২৫০ টাকা। বলা হয় সরকার থেকে লিজ আনা হয়েছে, টাকা না দিলে ব্যবসা করা যাবে না।”

এ বিষয়ে মালিকপক্ষের মো. জাভেদ ইকবাল বলেন, “নদীর পাশে আমাদের বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সিএস খতিয়ান অনুযায়ী জায়গাটি নদীর নয়, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। অনেকে আদালতের রায় পেয়ে বিল্ডিং করছে।”

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, “ফুটপাত, ওয়াকওয়ে ও নদীর জায়গা সরকারি সম্পত্তি। কেউ দখল করতে পারে না। আমরা বিষয়টি জেনেছি—খুব দ্রুতই অভিযান চালানো হবে, প্রয়োজনে উচ্ছেদ কার্যক্রমও শুরু হবে।”

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।