বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নরসুন্দার পাড়ে দখল-নির্মাণের মহোৎসব: ফুটপাত হারাচ্ছে কিশোরগঞ্জবাসী

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নরসুন্দার পাড়ে দখল-নির্মাণের মহোৎসব: ফুটপাত হারাচ্ছে কিশোরগঞ্জবাসী

কিশোরগঞ্জ শহরের ফুটপাত ও নদীর তীর এখন আর সাধারণ মানুষের হাঁটার পথ নয়। দখলে গেছে এক প্রভাবশালী মহলের। দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ব্যবসা চালানোর পর সম্প্রতি স্থায়ীভাবে ভবন নির্মাণ শুরু করেছে দখলদাররা। গৌরাঙ্গ বাজার, পুরান থানা ও বড়বাজার ব্রিজ এলাকা থেকে শুরু করে নদীর তীর পর্যন্ত সর্বত্রই চলছে অবৈধ দখল ও নির্মাণকাজ।

গত ৫ আগস্টের পর থেকেই প্রশাসনের চোখের সামনেই এ নির্মাণ শুরু হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রশাসন জানে, দেখেও কেন চুপ?

সরেজমিন দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ শহরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীটি ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা হয়। সে সময় শহরের সৌন্দর্য বর্ধন ও মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে নদীর দুই পাশ দিয়ে নির্মিত হয় ওয়াকওয়ে। এখন সেই ওয়াকওয়ে দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন দোকান। নরসুন্দা নদীর ওপর গৌরাঙ্গ বাজার ব্রিজের পাশে সম্প্রতি নদীর তীর ঘেঁষে ইট-বালু-সিমেন্টের স্থায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ভবন নির্মাণে জড়িত এক প্রভাবশালী মহল, যারা প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়াতেই বহুদিন ধরে এলাকা দখল করে রেখেছে। গৌরাঙ্গ বাজার ও বড়বাজার ব্রিজ এলাকায় ফুটপাতের এক ইঞ্চি জায়গাও এখন ফাঁকা নেই। এমনকি পৌর শিশু পার্কের প্রবেশপথ পর্যন্ত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকান। পুরো ওয়াকওয়ে এখন কাপড়, কসমেটিকস, মাছ ও খাবারের দোকানে পরিণত হয়েছে।

পথচারী নুরুল ইসলাম খান বলেন, “নদীর পাড় দিয়ে আগে খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে মার্কেট হচ্ছে। আমরা জানতাম জায়গাগুলো সরকারি। এখন নিজেদের দাবি করে রাস্তা বন্ধ করে মার্কেট করা হচ্ছে—আমরা চলব কিভাবে?”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফুটপাত ব্যবসায়ী বলেন, “এটা মানুষের চলাচলের জায়গা—তবুও ব্যবসা করছি বাধ্য হয়ে। কিশোরগঞ্জে হকার মার্কেট না থাকায় এখানে ব্যবসা করতে হয়। এখন তো স্থায়ী বিল্ডিংও হচ্ছে।”

আরেক ব্যবসায়ী জানান, “পার্কের সামনে ৫ বছর ধরে দোকান দিচ্ছি। প্রতি বছর অগ্রিম টাকা দিতে হয়, প্রতিদিনও দিতে হয় ২৫০ টাকা। বলা হয় সরকার থেকে লিজ আনা হয়েছে, টাকা না দিলে ব্যবসা করা যাবে না।”

এ বিষয়ে মালিকপক্ষের মো. জাভেদ ইকবাল বলেন, “নদীর পাশে আমাদের বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু সিএস খতিয়ান অনুযায়ী জায়গাটি নদীর নয়, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। অনেকে আদালতের রায় পেয়ে বিল্ডিং করছে।”

কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, “ফুটপাত, ওয়াকওয়ে ও নদীর জায়গা সরকারি সম্পত্তি। কেউ দখল করতে পারে না। আমরা বিষয়টি জেনেছি—খুব দ্রুতই অভিযান চালানো হবে, প্রয়োজনে উচ্ছেদ কার্যক্রমও শুরু হবে।”

কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজাসহ নারী আটক

কিশোরগঞ্জে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্সের অভিযানে ৬ কেজি গাঁজাসহ ফাতেমা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন বিন্নাটি বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শোয়েব ইবনে রেজার নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় কিশোরগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জ লাইন পুলিশের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স এ অভিযান পরিচালনা করে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত বিন্নাটি বাজার এলাকার ঈসাখা ট্রান্সপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে সড়কে অভিযান চালিয়ে ফাতেমা খাতুনকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

আটক ফাতেমা খাতুন হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের মৃত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তাঁর বাবার নাম মহিবুল্লাহ এবং মায়ের নাম আছিয়া খাতুন।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুল্লাহ খান বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট ধারায় কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা করেছেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. এনায়েত হোসেন এসব তথ্য সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
পুলিশি আটকের অভিযোগ, সক্রিয় রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা হুমায়ুন কবীরের

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ১২ ঘণ্টা পুলিশি ‘হেনস্থা’ ও আটকের অভিযোগ তুলে সক্রিয় রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছাবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। বুধবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।

হুমায়ুন কবীর বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে তিনি আর কোনোদিন রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে অংশ নেবেন না। একই সঙ্গে বিধানসভা সম্পূর্ণ বয়কটের ঘোষণাও দেন তিনি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যে গণতান্ত্রিক নিয়মে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই একজন বিধায়ককে পুলিশ জোর করে তুলে নিয়ে ১২ ঘণ্টা আটকে রাখতে পারে, সেই গণতন্ত্রকে আমি ঘৃণা করি। শুভেন্দু অধিকারীর মতো পুলিশমন্ত্রীর অধীনে আমি রাজনীতি করতে চাই না।’

মঙ্গলবার রেজিনগর উপনির্বাচন শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ‘আইন ভঙ্গের’ অভিযোগে পুলিশ তাঁকে আটক করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা দাবি করে হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, পুলিশি সহায়তায় নির্বাচনে অবাধে ভোট লুট চালানো হয়েছে।

২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুটি আসন থেকেই জয়ী হয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে রেজিনগর আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

হুমায়ুন কবীর জানান, নওদার ভোটারদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি এলাকায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করে যাবেন। তবে বিধায়ক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়াবেন কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই এলাকার মানুষের মতামত নেবেন।

এ ছাড়া বিধানসভার সব সংসদীয় কমিটি, যার মধ্যে মাইনরিটি অ্যাফেয়ার্স, হাউস কমিটি ও বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি রয়েছে, সেগুলো থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে স্পিকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকেও আর অংশ নেবেন না বলে জানান।

ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গুতে আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৮৬০

সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৯ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ১ হাজার ৮৬০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, রাজশাহী বিভাগে দুজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং বরিশাল বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে বরিশাল বিভাগে ২০০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ২১২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭১, খুলনা বিভাগে ৩৭৬, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৭৬, রংপুর বিভাগে ৩৮ এবং সিলেট বিভাগে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ২৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছেন ১২৯ জন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩, বরিশাল বিভাগে ২৫, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৫, রাজশাহী বিভাগে ২১, রংপুর বিভাগে ছয় এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।