স্ত্রীর আত্মহত্যা মামলায় জেলে শিক্ষক, তবুও বহাল চাকরিতে
ন্যামতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম বর্তমানে স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জেলে রয়েছেন। তবুও তিনি এখনও ওই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বহাল আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কামরুল ইসলামের স্ত্রী রিমা আক্তার (২২)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ। পরদিন (৭ অক্টোবর) স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আদালত কামরুল ইসলামকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
ঘটনার প্রায় এক মাস পর, গত ২ নভেম্বর রিমার বাবা মো. বিল্লাল মিয়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি বলেন, “স্ত্রীর আত্মহত্যার পরও কামরুল ইসলাম শিক্ষক পদে বহাল আছেন, যা সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী অনিয়ম।”
তিনি অভিযোগ করেন, চাকরি বিধিমালা ২০১৮-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।
অভিযুক্ত শিক্ষক কামরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার নবাবপুর গ্রামের মৃত জজ মিয়ার ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে কামরুল ইসলামের সঙ্গে রিমা আক্তার স্মৃতির বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ন্যামতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের আবাসিক কোয়ার্টারে রিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পরবর্তীতে রিমার বাবা বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক জেলহাজতে পাঠান।
বিল্লাল মিয়া বলেন, “কামরুলের পরকীয়া সম্পর্কের কারণে সংসারে সবসময় অশান্তি ছিল। মৃত্যুর আগে আমার মেয়ে চিরকুটে লিখে গেছে — ‘আমার মৃত্যুর জন্য কামরুল দায়ী’। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ন্যামতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম ২০২৪ সালের মে মাসে এনটিআরসি নিয়োগে যোগ দেন। পরবর্তীতে বিএড প্রশিক্ষণের জন্য ২০২৫ সালের মে মাসে এক বছরের ছুটি নেন।
তবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম বলেন, “ইতিমধ্যে কামরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহা মাকছুদা বলেন, “লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







