শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

স্ত্রীর আত্মহত্যা মামলায় জেলে শিক্ষক, তবুও বহাল চাকরিতে

মোঃ ফায়জুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:১৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
স্ত্রীর আত্মহত্যা মামলায় জেলে শিক্ষক, তবুও বহাল চাকরিতে

ন্যামতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম বর্তমানে স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জেলে রয়েছেন। তবুও তিনি এখনও ওই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে বহাল আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় কামরুল ইসলামের স্ত্রী রিমা আক্তার (২২)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ। পরদিন (৭ অক্টোবর) স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় আদালত কামরুল ইসলামকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন

ঘটনার প্রায় এক মাস পর, গত ২ নভেম্বর রিমার বাবা মো. বিল্লাল মিয়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি বলেন, “স্ত্রীর আত্মহত্যার পরও কামরুল ইসলাম শিক্ষক পদে বহাল আছেন, যা সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী অনিয়ম।”
তিনি অভিযোগ করেন, চাকরি বিধিমালা ২০১৮-এর ৩৯ ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।

অভিযুক্ত শিক্ষক কামরুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার নবাবপুর গ্রামের মৃত জজ মিয়ার ছেলে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে কামরুল ইসলামের সঙ্গে রিমা আক্তার স্মৃতির বিয়ে হয়। পারিবারিক কলহের জেরে গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় ন্যামতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের আবাসিক কোয়ার্টারে রিমা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পরবর্তীতে রিমার বাবা বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক জেলহাজতে পাঠান।

বিল্লাল মিয়া বলেন, “কামরুলের পরকীয়া সম্পর্কের কারণে সংসারে সবসময় অশান্তি ছিল। মৃত্যুর আগে আমার মেয়ে চিরকুটে লিখে গেছে — ‘আমার মৃত্যুর জন্য কামরুল দায়ী’। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

ন্যামতপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কামরুল ইসলাম ২০২৪ সালের মে মাসে এনটিআরসি নিয়োগে যোগ দেন। পরবর্তীতে বিএড প্রশিক্ষণের জন্য ২০২৫ সালের মে মাসে এক বছরের ছুটি নেন
তবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম বলেন, “ইতিমধ্যে কামরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহা মাকছুদা বলেন, “লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর শেষ পর্যন্ত চালু হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ রক্ষায় নদীর ওপর স্থাপিত দুটি ফেরি।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার সূতারপাড়া ইউনিয়নের ধনু নদীতে বালিখলা ফেরি এবং মিঠামইন উপজেলা সদরসংলগ্ন ঘোড়াউত্রা নদীতে শান্তিপুর ফেরির চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ফেরি চলাচল উদ্বোধনের সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং ইজারাদারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, ফেরিগুলো মূলত শুকনো মৌসুমে চলাচল করে। প্রতি বছর প্রায় ছয় মাস হাওরের সাবমার্জিবল সড়ক পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পানি নেমে সড়ক ভেসে উঠতেই ফেরি আবার চলতে শুরু করে।

এই রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় করিমগঞ্জের বালিখলা হয়ে হাওরের তিন উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগে স্বস্তি ফিরেছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের উদ্যোগে তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়ায় আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পাইকপাড়া হোসাইনিয়া বাবুলউলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে দুই শতাধিক নারী–পুরুষ মেডিসিন, হৃদরোগ, চর্মরোগ, গাইনি ও স্ত্রীরোগসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের ক্যাম্পের কারণে এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসা পাওয়া সহজ হয়েছে। যারা সময়মতো ডাক্তার দেখাতে পারেন না, তারা আজ সুবিধা পেয়েছেন।’
চিকিৎসা নিতে আসা শাহানারা বেগম বলেন, ‘হৃদরোগের পরীক্ষা করতে আগে দূরে যেতে হতো। আজ ক্যাম্পে এসে চেকআপ করিয়ে স্বস্তি পেয়েছি।’

হাফিজুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন চর্মরোগে ভুগছিলেন। ক্যাম্পে এসে চিকিৎসকদের কাছ থেকে সময় নিয়ে পরামর্শ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন।
রুবিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। গাইনি সমস্যায় চিকিৎসা পেতে কষ্ট হত। আজ একদম বিনা খরচে সেবা পেয়েছি।’

ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের নেতৃত্বে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. ফয়সাল আহমেদ। ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন সুমন, তাড়াইল উপজেলা আমির হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, দিগদাইড় ইউনিয়ন সভাপতি শরিফুল, ধলা ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল বাতেন, সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন তাড়াইল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা রবিউল ইসলাম।

‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

কিশোরগঞ্জ–১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী বলেছেন, “দেশজুড়ে দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ এবং হোসেনপুরও এর বাইরে নয়। এমপি থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার দেখা যায়। এই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।”

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জনশক্তি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাদী এ মন্তব্য করেন।

সভায় জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ মোকাররম হুসাইনের সভাপতিত্ব এবং সহসভাপতি মুহাম্মদ মুযাক্কির হুসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।